গল্পঃ "নবজন্ম" (২৭তম পর্ব)
লেখকঃ আজিজুর রহমান
লাইফ লাইভ নার্সিং হোমে ঝাড়পোছ প্রায় সারা। চেয়ারপারশন আসছেন খবর রটে গেছে সর্বত্র। এ্যাকাউন্ট্যাণ্ট বক্সীর ঘুম ছুটে গেছে। প্রশ্ন করার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিতে হবে। তার প্রস্তুতির জন্য ভাল করে একবার চোখ বুলিয়ে নিচ্ছেন।
ম্যাডাম লিলি গাড়ীতে হেলান দিয়ে বসে অতীতে হারিয়ে যান। মিমি এত জিদ্দি হল কিভাবে?তার মাম্মী অত্যন্ত জেদী বরাবর। প্রকৃতি ভালবাসতেন। নাতনিকে নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন বাগানে বাগানে। নিজ হাতে লাগানো সারি সারি মেহগিনি শাল সেগুনের জঙ্গলে ছেড়ে দিত মিমিকে। সারা জঙ্গল ছুটে বেড়াতো মিমি আর তার বৃদ্ধা নানু দেখতো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নির্বিকার। মিমি ওর গ্রাণ্ডমার ধাত পেয়েছে।
ঢাকায় যখন পড়তো মাঝে মাঝেই ঘুরতে যেতো সুন্দরবন। রাজের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হতে কোনো আপত্তি করেনি। নিজের পড়াশুনা নিয়েই ব্যস্ত ছিল। বিয়ে কি তার গুরুত্ব কি ভাবার ফুরসতই ছিল না। রাজ ফিরছে না তা নিয়ে তার যত চিন্তা ছিল মিমি একেবারে নিষ্পৃহ। লিলির খারাপ লাগে তার মত একজন অভিজ্ঞ মহিলা লোক চিনতে এত বড় ভুল করল কিভাবে। মিমি সেই ভুল করতে যাচ্ছে নাতো?বিয়ের আগেই ছেলেটা কৌশলে ফাসিয়েছে। মিশনে যাতায়াতের কথা বললেও তারেক সাহেব তো এসব বলেনি। একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল।
ম্যাডাম এসে গেছি।
তারেক সাহেবের ডাকে হুশ ফেরে। জানলা দিয়ে নার্সিং হোমের দিকে তাকালেন। তারপর ধীরে ধীরে নামলেন। একবার পিছন ফিরে স্বামীকে দেখে হাসপাতাল বিল্ডিং সংলগ্ন বাড়ির সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেলেন। দরজা বন্ধ তাহলে মিমি এখনো ফেরেনি।
তারেক সাহেব বিকল্প চাবি দিয়ে খুলে দিলেন দরজা। ম্যাডাম ঢুকতে এসি চালিয়ে দিয়ে বললেন,বিশ্রাম করুন। আমি আসি?
রাজন জমাদ্দার মাল পত্তরগুলো একপাশে জড়ো করে রাখলেন।স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন,শরীর ঠিক আছে তো?
লিলি মুখ তুলে একবার রাজনকে দেখে বললেন,ব্যাগটা খোলো চেঞ্জ করব।
রাজন জমাদ্দার ব্যাগ খুলে স্ত্রীর পোশাক বের করলেন। লিলি জামা কাপড় বদল করে নিজেকে সাঁজিয়ে একজন যুবতী হয়ে গেল মনে হচ্ছে। কিন্তু এই দিকে রাজন জমাদ্দারের কোনো হেলদুল নেই। এই জন্য বাঙালীদের পছন্দ নয়। ওদের শরীরে উষ্ণতা নেই। এরা চাকরের উপযুক্ত কিন্তু লাইফ পার্টনার চলে না। অলস লোভি ঘুম কাতুরে এরা।
লিলি বলল,মিমিকে ফোন করো। শরীরে অস্বস্তি হচ্ছে।
রাজন জমাদ্দার ফোন করলেন,ওপাশ থেকে হ্যালো শুনে জিজ্ঞেস করলেন,তোমরা কোথায়?
কে ড্যাড আমরা ট্যাক্সিতে তোমরা পৌঁছে গেছো?
হ্যা ঘণ্টা খানেক হল পৌঁছেছি।
আমাদের আধ ঘণ্টা লাগবে মনে হয়।
আচ্ছা রাখছি?
রাজন সাহেব ফোন রাখতে লিলি জিজ্ঞেস করে,কি বলল?
আধ ঘণ্টার মধ্যে আসছে।
মিমি আসার সময় হয়ে এসেছে। দরজায় ঘণ্টি বাজে। লিলি সোফায় গম্ভীর হয়ে বসলেন। দরজা খুলতে চা নিয়ে ঢুকল কুন্তি।
দেড় গুন ভাড়ায় ট্যক্সি পেয়েছে। অভি লক্ষ্য করল বিদিশার বাড়ী থেকে বেরিয়ে এমার মুখে কোনো কথা নেই। ট্যাক্সিতে জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দৃষ্টি তার হারিয়ে গেছে অন্য জগতে। গ্রাণ্ডমমের আঙুল ধরে একসময় জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরে বেড়াবার দিনগুলো যেন চোখের সামনে ছবির মত ভেসে উঠেছে।
হাতে ধরা জামরুলের ডালটার দিকে তাকিয়ে কত কথা মনে পড়ে। সুবির সঙ্গে জামরুল পাড়া সুবির মুখে চৈতন্য ডোবা রামপ্রসাদের ভিটের গল্প শোনা এখনো কানে বাজছে। মহারাজ বলতেন জ্ঞানে জীব সেবার কথা। এখানকার জীবন খোলামেলা শহরের মত কৃত্রিম মোড়কে ঢাকা আটোসাটো নয়। আর্তের সেবায় যে আনন্দ অর্থমূল্যে তা কেনা যায়না। ফোন বাজতে কথা বলে। ফোন রেখে দিলে অভি জিজ্ঞেস করে,কার ফোন?
ড্যাড এসেছে। আচ্ছা অভি রাম প্রসাদ কে?
উনি একজন তন্ত্র সাধক। বহু সাধন সঙ্গীত রচনা করেছেন। যেমন “তোমা কর্ম তুমি করো লোকে বলে করি আমি”,”মা হওয়া কিমুখের কথা প্রসব করলে হয়না মাতা” সব তার রচিত।
প্রসব করলে হয়না মাতা?দারুণ কথা। সুবি বলছিল তিনি কলকাতায় জন্মেছিলেন।
অভি বিস্ময়ভরা চোখে এমাকে নতুনভাবে আবিষ্কার করে। একজন দক্ষ সার্জেন হিসেবে লোকে এমাকে জানে তারা জানে না আসল মানুষটাকে। খুব আদর করতে ইচ্ছে হয়। এমার মাথা বুকে টেনে নিয়ে বলল,তুমি খুব ভাল মিমি।
আমাকে চিরকাল খুব আদর করবে তো? ভালোবাসবে এভাবে?ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করে এমা।
এমার এই অসহায়তা অভির চোখে জল এনে দিল। সজোরে বুকে চেপে ধরল।
নার্সিং হোমের নীচে ট্যাক্সি দাড়ালো। এমা ভাড়া মিটিয়ে দিতে ওরা নেমে পড়ল। চেম্বারে বসেছেন অর্থপেডিক ড.এজাজ গাইনি ড.প্রিয়া আর মেডিসিনের ড.মুখার্জি। চেম্বার পেরিয়ে ওরা উপরে উঠে গেল।দোতলায় উঠে অভি তার এবং এমা নিজের ঘরে ঢুকে দেখল ড্যাড একা বসে আছে।
ড্যাড মম আসেনি?
রাজন জমাদ্দার ইশারায় শোবার ঘর দেখিয়ে দিলেন। এমা পাশের ঘরে ঢুকে দেখলেন,মম শুয়ে আছেন। আলমারি খুলে চেঞ্জ করতে থাকেন।
তুমি রাজকে কি বলেছো?
এমা পিছন ফিরে দেখলেন লিলি তার দিকে তাকিয়ে উত্তরের অপেক্ষা করছেন। এমা জিজ্ঞেস করল,তুমি ওকে ফোন করতে বলেছো?
ছ-লাখ টাকার উপর দিয়েছি আবার টাকা চায়। বলেছি মিমির সঙ্গে কথা বলো। তুমি কি বলেছো?
তোমাকে যা বলেছে তাই বলেছি। এমা বললেন।
ওকে আর সুযোগ দেবে না? বাঙালীটা তোমাকে বশ করেছে?
মমের কথা শুনে এমা পিছন ফিরে হাসলো। মনে মনে ভাবে সেই অভিকে বশ করেছে। পিছন ফিরেই জবাব দিলেন,মম আমার জীবনটা আমার মত করে ভাবতে দাও।
আইনত ঐ তোমার স্বামী।
এ্যাডভোকেটের সঙ্গে কথা বলেছি,এই বিয়ের কোনো মূল্য নেই।আমার ব্যাপার আমাকে ভাবতে দাও। ঘুরে দাঁড়িয়ে বললেন এমা।
কুন্তি এসে খবর দিল,ম্যানেজার সাহেব বললেন,সবাই এসে গেছে।
লিলি উঠে বসে নিজেকে প্রস্তুত করতে করতে বললেন,মিটিং আছে এসো। আর ওকেও সঙ্গে নিয়ে আসবে।
কিন্তু ওতো ট্রাস্টি বোর্ডে নেই।
ইনভাইটি। আমি বলছি তুমি ওকে নিয়ে এসো।
ম্যাডাম লিলি নীচে নেমে গেলেন। এমাকে চিন্তিত দেখায়। অভিকে নিয়ে মম কি করতে চায়?পাঁচ জনের সামনে অপদস্ত করলে সেও কড়া সিদ্ধান্ত নেবে। প্রয়োজন বুঝলে ছেড়ে দেবে এই নার্সিং হোম।আবার পোশাক বদলে অভির ঘরে গিয়ে বলল, বই রেখে তৈরী হয়ে আমার সঙ্গে চলো।
এখন আবার কোথায় যাব?
এমা ভ্রূ কুচকে তাকাতে অভি বলল,ঠিক আছে দু-মিনিট।
দ্রুত নিজেকে প্রস্তুত করে বলল,আমি রেডি।
এমা স্থির চোখে অভিকে কিছুক্ষন দেখে কত সহজ সরল। অভিকে কিছুতেই সে ছাড়তে পারবে না। কাছে গিয়ে জড়িয়ে ধরে বুকে মাথা রেখে বলল,যে যাই বলুক তুমি গায়ে মাখবে না।
সভা শুরু হয়ে গেছে। ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা প্রায় সবাই উপস্থিত।ম্যাডাম চেয়ার পারসন বক্তব্য রাখছেন,তার বয়স হয়ে গেছে অতদুর হতে ঘন ঘন ছুটে আসা সম্ভব নয়। সেজন্য একজন ভাইস-চেয়ারপারশনের কথা ভাবছেন। সভার মধ্যে গুঞ্জন শুরু হল,এত টাকা পয়সার ব্যাপার একজন বিশ্বস্ত লোক ছাড়া এই দায়িত্ব যাকে তাকে দেওয়া যায়না। এমন সময় অভিকে সঙ্গে নিয়ে ড.এমা ঢুকলেন। মি.নিলয় বললেন,লাখ লাখ টাকা ম্যাডাম একটু ভেবে দেখবেন।
ম্যাডাম চেয়ার পারশন বললেন,আপনারা কি তছরুপের ভয় পাচ্ছেন?
কেউ কোনো কথা বলে না পরস্পর মুখ চাওয়া-চাওয়ি করতে থাকে। মম কি চাইছেন ড.এমাও বুঝতে পারে না। চেয়ার পারশনের পাশে বসে তারেক সাহেব মনে মনে হিসেব করেন। ট্রাস্টির সাতজনের মধ্যে ড.এমা সহ তিনজন ডাক্তার। তারা কর্মব্যস্ত সুতরাং আর্থিক দায়িত্ব নেবেন না। ম্যাডাম এবং রাজন জমাদ্দার দুজনেই বাইরে থাকেন।বাকী তিনি আর মি.নিলয়। দায়িত্ব তার উপর আসার সম্ভাবনা প্রবল।তাহলে তাকে হয়তো ম্যানেজারি পদ ছাড়তে হতে পারে। তা হোক তাতে ক্ষতি নেই। তারেক সাহেবের বুকের কাছে দম আটকে থাকে।
ম্যাডাম লিলি বললেন,আমি ভাবছি মি.অভিরাজ চৌধুরীকে ভাইস চেয়ারম্যান করব।
সবাই অভির দিকে তাকালো। তারেক সাহেব বললেন,খুব ভাল প্রস্তাব কিন্তু উনি তো ট্রাস্টির সদস্য নন।
রাজন রিজাইন করবে তার জায়গায়–।
ড.এমা কথা শেষ হবার আগেই বললেন,ড্যাড থাক আমি রিজাইন করছি।
ম্যাডাম লিলি মেয়ের দিকে বিরক্তি নিয়ে তাকালেন।
সভার শেষে ডিনার হল। একে একে সবাই বিদায় নিল। ম্যাডাম লিলি ভাবছেন এবার অভির আসল রূপ প্রকট হবে মিমি বুঝতে পারবে কাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছিল। কি দিয়ে মেয়েটাকে ভুলিয়েছে গড নোজ।
রাত হয়েছে শোবার আয়োজন চলছে। ম্যাডাম লিলির খুশির মেজাজ। রাজন জমাদ্দার বসার ঘরে বসে সিগারেট টানছেন। এমন সময় অভি এসে ঢুকল। রাজন জমাদ্দার জিজ্ঞেস করলেন,এত রাতে কি ব্যাপার?
মমের সঙ্গে একটু কথা বলতাম।
রাজন সাহেব বুঝতে পারেন মম কে। বসতে বলে পাশের ঘরে গিয়ে স্ত্রীকে খবর দিলেন। লিলি মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ঢুকলেন। অভি উঠে দাড়ালো।
কি ব্যাপার?জরুরী কিছু?
কথাটা কিভাবে বলবে ভেবে ইতস্তত করে অভি। এমার সঙ্গে চোখাচুখি হতে দৃষ্টি সরিয়ে নিল। ম্যাডাম লিলি বিরক্ত হয়ে বললেন,এত রাতে কি বলতে এসেছো বলো।
মম স্যরি ম্যাডাম মানে আমি বলছিলাম কি আমি পয়সা-কড়ির হিসেবের ব্যাপার কিছু বুঝি না,আপনি অন্য কাউকে ভাইস চেয়ারম্যান করলে খুব ভাল হয়।
ম্যাডাম লিলি অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকেন কি বলছে ছেলেটা?তাহলে কি তিনি বুঝতে ভুল করেছেন?ম্যাডাম কিছু বলছেন না দেখে অভি ঘাবড়ে গিয়ে বলল,ম্যাডাম আমাকে ভুল বুঝবেন না। ম্যাডাম আমাকে অন্য কাজ দিতে পারেন,আপনাকে অমান্য করার উদ্দেশ্য আমার নয় ম্যাডাম।
লিলি মৃদু ধমক দিয়ে বললেন,কি ম্যাডাম-ম্যাডাম করছো? তুমি আমাকে মমই বলবে। যাও শুয়ে বিশ্রাম করো। সকালে এসো একসঙ্গে চা খাবো। তখন ভাবা যাবে।
মমের আচরণে এমা একাধারে পুলিকিত এবং বিস্মিত। একেবারে সকালে চায়ের আমন্ত্রণ? এত দ্রুত বদলে গেল কিভাবে?আবার নতুন কোনো কৌশল নয়তো?
অভি ঘরে এসে বই নিয়ে বসলেও পড়ায় মন বসে না। এমা তার উপর বিরক্ত হয়নি তো?কিন্তু তার কিছু করার ছিল না। টাকা পয়সার হিসেব রাখা তার পক্ষে সম্ভব নয়। বই পত্তর গুছিয়ে শুয়ে পড়ল।
শুয়ে শুয়ে শহুরে গ্রাম জীবনের কথা ভাবেন। আম জাম কাঠাল তাল শিমুলের জঙ্গল তার মাঝে মেঠো পথ। এমার ইচ্ছে হচ্ছিল থেকে যায়।মম আসার কথা তাই থাকা হলনা। এইসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লেন এমা।
লিলি শুয়ে পড়েছেন কিন্তু চোখে ঘুম নেই। অভিকে ট্রাস্টিবোর্ডে জায়গা দেবার জন্য নিজের নাম প্রত্যাহার করতে রাজি মিমি। রাজনের জন্য তিনি কিছুই করেন নি। ছোটবেলায় মিমির প্রতি কতটুকু মায়ের কর্তব্য করেছেন?মিমি সারাদিন তার গ্রাণ্ডমমের সঙ্গে কাটাতো।
তারপর ঢাকা পাঠিয়ে দায় সেরেছেন। ঢাকাতেই তড়িঘড়ি বিয়ে দিয়ে মায়ের কর্তব্য সেরেছেন। তার পরিণাম কি হল? অভি ছেলেটা খুব সৎ মিমির পছন্দ,বরাবর ভুল ধারণা আর জিদের বশবর্তী হয়ে তিনি বিরোধীতা করে এসেছেন। আজ তার চোখ খুলে গেছে। জীবন সঙ্গী হিসেবে সঠিক লোককেই নির্বাচন করেছে মিমি। চোখ মুছে পাশে শায়িত রাজনকে এক পলক দেখলেন। তারপর খাট হতে মেয়ের শিয়রে দাঁড়িয়ে মিমিকে দেখতে থাকেন। এমা চোখ মেলে তাকিয়ে মমকে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বললেন,এনি প্রব্লেম মম?
তুমি কন্সিভ করেছো?
এমা ফিক করে হাসলেন। ম্যাডাম লিলি নীচু হয়ে মিমির কপালে ঠোঁট রেখে বললেন,ইউ নটি গার্ল।
খবরটা চাপা থাকেনা তারেক সাহেবের কাছেও পৌঁছে যায়। কিন্তু ম্যাডাম পুরো সিদ্ধান্তই বাতিল করেছেন। আগের ব্যবস্থাই চলবে।
ভোরে ওঠা অভ্যেস লিলির। বিছানা থেকে নেমে মেয়ের কাছে গিয়ে দাড়ালেন। জানলা দিয়ে নরম রোদ এসে পড়েছে মিমির মুখে। নিষ্পাপ সুন্দর মুখ। জানলার পর্দা টেনে দিয়ে মিমির চুলে হাত বোলান। এমা ঘুম ভেঙ্গে চোখ মেলে তাকিয়ে মমের সঙ্গে চোখাচুখি হতে হাসলেন।
গুড মর্নিং। লিলি বললেন।
মর্নিং মম। এমা উঠে বসলেন।
লিলি পাশে বসে মেয়ের কাধে হাত রেখে বললেন, অভি ছেলেটা ভাল কিন্তু একটু বোকা।
না মম ও বোকা নয়। আমাকে খুশি করার জন্য বোকা-বোকা ভাব করে থাকে।
মানে?
আমি যেমনভাবে ওকে চাই আমাকে খুশি করার জন্য অভি সেইভাবে আমাকে ধরা দেয়।
তোমার খুশিতে আমিও খুশি।
মমকে অন্যরকম লাগছে। বয়স বোধহয় মমকে বদলে দিচ্ছে। লিলি বললেন,ওয়াশ করে ওকে ডাকো। আমি টেবিল সাজাচ্ছি। অভিকে ডাকতে যাবার কথা ভাবছিল কিন্তু মম বলাতে কেমন লজ্জা পেলো।চোখে মুখে জল দিয়ে অভির ঘরের দিকে গেল। দরজা ভেজানো ছিল উকি দিয়ে দেখল বই পড়ছে অভি।
পা-টিপে ঢুকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরল। এমার গায়ে সুন্দর গন্ধ অভির ভাল লাগে। ভাইস চেয়ারম্যান হতে রাজি হয়নি সেজন্য রাগ করেনি এমা ভেবে স্বস্তি বোধ করে। তবু জিজ্ঞেস করে,তুমি রাগ করোনি তো?
কেন?
তোমার মমের কথায় রাজি হইনি।
আমার মম তোমার কি?
অভি লজ্জা পেল। এমা বলল,ঠিক করেছো এখন তুমি শুধু পড়াশুনা করবে আর–।
আর কি? অভি জিজ্ঞেস করে।
চলো মম বসে আছে।
বিশ্বাস করো মিমি টাকা পয়সা আমার গোলমাল হয়ে যায়।
কিন্তু টাকা ছাড়া কি চলে?
অভি দাঁড়িয়ে উঠে এমার কোমর ধরে বলল,সত্যি মিমি তুমি না থাকলে আমার কি যে হত?
এমা হেসে বলল,আমি কি তোমার টাকা?
বিদ্যুদাহতের মত অভি কোমর ছেড়ে দিল। মুখটা করুণ হয়ে যায়। এমা বুঝতে পারে এভাবে বলা ঠিক হয়নি অভিকে জড়িয়ে ধরে বলল,বোকা ছেলে আমি তোমার জান।
অভি বোকার মত হাসলো। এমা মুখটা এগিয়ে নিয়ে এবার একটু আদর করো।
এমাকে অভি ভালোবাসার স্পর্শে ঠোঁট ছুঁয়ে দিল। লিলি দেরী হচ্ছে দেখে খোঁজ নিতে এসে উভয়কে ঐ অবস্থায় নজরে পড়তে দ্রুত দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে মৃদু হাসলেন।
অভিকে ছেড়ে দিয়ে এমা বলল,চেঞ্জ করে চলো।
অভি লুঙ্গি বদলে পায়জামা পড়ে নিল।
লিলি নিজের ঘরে ফিরে গিয়ে ডাইনিং টেবিলে অপেক্ষা করতে থাকেন। ওরা এসে ঢুকতে লিলি আড়চোখে অভিকে দেখে গলা তুলে বললেন,রাজন কামিং। কুন্তি খাবার নিয়ে এসো।
চারজনে টেবিলে বসল,কুন্তি খাবার গিয়ে গেল। চুপচাপ খেতে থাকে সবাই। এক সময় ম্যাডাম লিলি জিজ্ঞেস করেন,তুমি আজ ভার্সিটি যাবে তো?
হ্যা মম।
তুমি মিমিকে সুখী করতে পারবে?
রাজন সাহেব বললেন,তোমার মেয়ের চাহিদা এখন কি করে বুঝবে?
ইউ প্লিজ স্টপ। লিলি স্বামীকে থামিয়ে দিয়ে অভির দিকে তাকালেন।
মিমি কে কষ্ট দিতে পারবো না আমি। অভি বলল।
ঠিক আছে কাল সকালে রিজিস্টার আসছে। তুমি চাকরি পেলে লোকজনকে জানিয়ে বিয়ে হবে। এখন রেজিস্ট্রিটা সেরে রাখব।
এমা অবাক হয়ে মমের দিকে তাকাল। এতসব করলো কখন?তাকে কিছুই বলেনি। অনেক কাল পরে মমকে খুব ভাল লাগে। অভিকে দেখল হা-করে তাকে দেখছে। এতদিনের জমাট মেঘ সরে গিয়ে মনটা ঝরঝরে লাগে। এমা বলল,তাড়াতাড়ি খেয়ে গোসল করে নেও। কলেজ আছে না?
হ্যা এই খাচ্ছি। অভি দ্রুত খেতে থাকে।
ম্যাডাম লিলি মুখ ঘুরিয়ে মুচকি হাসেন। মিমি ছেলেটাকে একেবারে কব্জা করে ফেলেছে।
মিমিকে নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল। দেশে ফিরেও শান্তি ছিলনা এই বিশাল সম্পত্তি কে দেখবে?রাজনেরও বয়স হয়ে যাচ্ছে।
গোসল করার পর অভি ভার্সিটী চলে গেল। আমতলায় খবর দিতে হবে। বাবুয়া কোহিনুর ভজাদেরও এখন বলা যায়। অবশ্য অনুষ্ঠান করে বিয়ের দেরী আছে।
সবুজ নিজেই ড্রাইভ করছে পাশে বসে কল্পনা। কল্পনা জিজ্ঞেস করে আজ আবার কোনো কাজ পড়ে যাবে নাতো?ঐ সময় ট্যাক্সি পেতে অসুবিধে হয়। অত নিশ্চিত করে সব সময় বলা যায়না।
কালকের কথা ইচ্ছে করেই সবুজকে বলেনি। সবুজ ফোন করে বলেছিল সাইটে আটকে গেছি তুমি ট্যক্সি নিয়ে চলে যাও।
সন্ধ্যে হয়ে গেছে। একের পর এক ট্যক্সি দাড় করায় কোথায় যাবে শুনে বলে ওদিকে যাবে না। শরীর ভারী হয়ে গেছে এই অবস্থায় ভীড় বাসে ওঠা মুস্কিল। ভাড়া দিয়ে যাব এমনি তো যাচ্ছি না অথচ ভাব করছে দয়া করছে। আরেকটা ট্যাক্সি দেখে ভাবলো এ যদি যায় ভালো নাহলে বাসেই চলে যাবে। হাত তুলে ট্যক্সি দাড় করালো। কোথায় যাবে বলতে পিছনের দরজা খুলে দিয়ে বলল,আমি ওদিকেই যাচ্ছি।
কল্পনা দ্বিধাগ্রস্ত ট্যক্সিওলাকে মনে হচ্ছে চেনা বাবুয়ার দলের গুণ্ডা। কি করবে ভাবছে ট্যক্সিওলা বলল,উঠুন। বেশিক্ষন দাঁড়ানো যাবে না।
কল্পনা উঠে হেলান দিয়ে বসে জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকে।মোবাইল বেজে উঠল। সচকিত হয়ে দেখল ট্যক্সিওলার মোবাইল বাজছে। কানে লাগিয়ে বলল,বলো গুরু…পুরানো পাড়ার দিকে যাচ্ছি …..আচ্ছা যাবো,রাখছি?
কল্পনা নিশ্চিত হল ঠিক চিনেছে সে। মনে পড়ল এর নাম কেতো।আলাপ করলে খারাপ ব্যবহার করতে পারবে না।
ভাই আপনার নাম কেতো?
হে-হে-হে নাম কার্তিক সবাই কেতো বলে।
আপনি কতদিন ট্যক্সি চালাচ্ছেন?
মাস কয়েক হবে। বসের জন্য এই লাইনে আসতে হল।
কল্পনা চমকে ওঠে বস নামটা সে আগেও শুনেছে। এতক্ষন ছিল শঙ্কা এখন কৌতুহল তীব্র হয়। কল্পনা জিজ্ঞেস করে,আগে কোন লাইনে ছিলেন?
আপনি তো জানেন ম্যাডাম। গুণ্ডা বদমাইশের কথা শুনে কি করবেন?
লাইন ছেড়ে দিলেন কেন?ভালো লাগছিল না?
তা নয় একটা কিচাইন হয়ে গেল। মুন্না একটা ঝামেল করল।
কিসের ঝামেলা?
কেতো পিছন ফিরে তাকালো। কল্পনা হাসলো।
কিডন্যাপ কেস।
তাতে ঝামেলার কি হল?
ঝামেলা নয় বস বলল মেয়েটাকে বাঁচাতে হবে।
মেয়েটা বসের কেউ হয়?
কেউ না। আপনি বসকে চেনেন না। মেয়েদের খুব ইজ্জত করে বস।একটা মেয়ে তিনতলা থেকে ঝাপ দিয়েছে। বস বলল,এটা সেই মেয়ে নয়। দুজনের একই নাম ছিল।
কল্পনা?
হ্যা কল্পনা। আপনি কি করে জানলেন?
আমাদের পাড়ার মেয়ে চিনবো না?
মুন্না শেলটার নিয়েছে শান্তি ভাইয়ের বাড়ী। মুন্নার গুলিতে শান্তিভাই মারা গেল। পুলিশ গুরুকে ধরল। বস পালিয়ে গেল।
আচ্ছা বস কি কারোর নাম?
আমরা বস বলি। আমতলায় বোনের বাসায় থাকতো। লেখাপড়া জানা।
বসের নাম কি অভি?
কেতো ঘাড় ঘুরিয়ে কল্পনাকে দেখে অবাক হয়ে তারপর জিজ্ঞেস করে,ম্যাডাম আপনি বসকে চেনেন?
সবুজদের বাড়ীর কাছে আসতে কল্পনা বলল,এখানে থামান।
ইউনিভার্সিটির সামনে গাড়ী থামতে কল্পনা নেমে পড়ল। সবুজ প্রতিদিন তাকে নামিয়ে দিয়ে যায় আবার ছুটি হলে নিয়ে যায়।শ্বশুরবাড়ীতেই থাকে এখন। ভিতরে বসে সবুজ জিজ্ঞেস করে,ছুটি কখন?
পাঁচটায় এলেই হবে। অসুবিধে থাকলে একটু আগে জানাবে।
কল্পনা ক্যাম্পসের ভিতর ঢুকে গেল। এখন বুঝতে পারছে অভিই বস সেই তার বিয়ের ব্যবস্থা করেছে। অথচ তাকে কিছুই বলে নি।মস্তানদের সঙ্গে কি করে ভীড়ল?যত জানছে অবাক হচ্ছে। দেখতে কেমন সহজ সরল বিনীত। তীব্র আকর্ষণ বোধ করে অভির প্রতি।আজ এসেছে তো? হঠাৎ নজরে পড়ল দূরে কবির সঙ্গে কথা বলছে।কবি তো অভির ক্লাসমেট নয়। কল্পনা কাছে গিয়ে দাড়াতে অভি মৃদু হেসে জিজ্ঞেস করে,কিছু বলবেন?
আচ্ছা ভাই আপনাকে কবিতার খাতাটা দেবো পড়ে দেখবেন।
কবি বলল,দেবেন।
অভি এগিয়ে এসে বলল,ক্লাস নেই?বেশি কথা বলতে পারব না আমার ক্লাস আছে।
আমারও ক্লাস আছে। ছুটির পর সময় হবে?
ঠিক আছে,ছুটির পর। খুব সিরিয়াস?
তখন বলবো?
ছুটির পর পর্ণা ধরল অভিকে জিজ্ঞেস করে,তুমি আমার উপর রাগ করেছো?
অভি কিছুক্ষন পর্ণাকে দেখে বলল,তোমার উপর রাগ করা যায়না।
খুব মন রাখা কথা শিখেছো?তাহলে চলো চা খেতে খেতে গল্প করি কিছুক্ষন।
আজ নয় । আজ একজনকে কথা দিয়েছি।
কথা দিয়েছো?কাকে?
দূরে অপেক্ষমান কল্পনাকে দেখিয়ে বলল,অপেক্ষা করছে।
তুমি জানো না ও ম্যারেড?
অভি হো-হো করে হেসে উঠে বলল,এত হিসেব করে আমি মিশি না।আজ আসি?
পর্ণার কাছে বিদায় নিয়ে কল্পনার কাছে এসে অভি জিজ্ঞেস করে,কতক্ষন?
একটা কথা বলবো?
স্বচ্ছন্দে।
আমরা প্রায় সমবয়সী। আপনির জায়গায় তুমি বলতে পারি?
ঠিক বলেছো আপনি শব্দটা কেমন একটা অবস্ট্রাকশন তাই না?
কোথায় যাবে ক্যাণ্টিন না কফি হাউস?
কতদুরে তুমি নিয়ে যাবে সুন্দরী—।
তোমাকে দেখে আগে মনে হতো খুব গম্ভীর। মেয়েদের পাত্তা দেওনা।
যা দেখা যায় সেটুকুই সব নয়।
কেতোর সঙ্গে কথা বলে আমারও তাই মনে হয়েছে?
কেতো?কোথায় দেখা হল?কিছু বলছিল আমার কথা?
কাল ওর ট্যক্সিতে ফিরেছি। বলছিল বস আমার জীবন বদলে দিয়েছে।
অভি উদাস হয়ে যায়। কফি হাউসের সিড়ি বেয়ে ওরা উপরে উঠে একটা টেবল নিয়ে বসল।
তুমি কিছু বললে নাতো?কল্পনা জিজ্ঞেস করে।
জানো কল্পনা যাদের আমরা বাইরে থেকে দেখে ছোটো মনে করি আসলে তারা অত ছোটো নয় এমন কি তথাকথিত অনেক বড় মানুষের চেয়েও মনের দিক থেকে অনেক বড়। ওদের কৃতজ্ঞতা বোধ আত্মমর্যাদাবোধ কারো থেকে কম নয়। ওদের সঙ্গে মিশে আমি বুঝতে পেরেছি কি ভুল ধারণা বয়ে বেড়িয়েছি। তোমাকে ওরা চেনে না অথচ তোমার যাতে মুন্না কোনো ক্ষতি করতে না পারে তার জন্য সেদিন দেখেছিলাম কি আন্তরিক চেষ্টা।
তুমিই তাহলে আমার বিয়ের ব্যাপারে–। ফোন বেজে উঠতে কল্পনা কানে লাগিয়ে বলল,কফি হাউসে। তুমি এসো।
অভি জিজ্ঞেস করল,কাকে আসতে বললে?
কল্পনা হেসে বলল,আমার স্বামী।
তাহলে আমার যাওয়া উচিত?
না না তুমি বোসো। তোমার সঙ্গে আলাপ করাবো বলেই ডাকলাম।
অভির সঙ্গে বসে থাকতে দেখে সবুজ অবাক হয়। এই ছেলেটাকে মনে হচ্ছে বাবুয়ার সঙ্গে দেখেছে। কল্পনা আলাপ করিয়ে দিল,আমার হাজব্যাণ্ড সবুজ রহমান আর অভি আমার–।
কল্পনা ইতস্তত করে অভি বলল,বন্ধু।
বেয়ারা কফি দিয়ে গেল। কল্পনা আরেককাপ আনতে বলে জিজ্ঞেস করে,এ্যাপয়ণ্টমেণ্ট পেয়েছো?
সবুজ বিরক্ত হয় একজন অচেনা লোকের সামনে ঐসব কথা আলোচনা করতে।
কল্পনা আবার জিজ্ঞেস করে,কি ভাবছো? তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করেছি।
লাইফ লাইভে এ মাসে ডেট পাওয়া যাবে না।
কিন্তু আমার অপেক্ষা করার সময় নেই। তুমি অন্য কোথাও দেখো।
অভি বুঝতে পারে তার উপস্থিতি সবুজের অস্বস্তির কারণ। উঠে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করে,কিসের ডেট বললে হয়তো সাহয্য করতে পারি?
কল্পনা বলল,খুব প্রাইভেট। এই সময় মেয়েদের যা দরকার। ডাক্তারের ডেট।
ড.এমাকে দেখাবে?
ওর ডেট পাওয়া যায়নি। বিরক্ত হয়ে সবুজ বলল।
অভব বসে একটা কাগজে খস খস করে ইংরেজিতে লিখে কল্পনার হাতে দিয়ে বলল,এটা নিয়ে ডাক্তারকে দেখাতে পারো। আসি?
অভি চলে গেল। কল্পনা কাগজটা চোখের সামনে মেলে দেখলো,Ema This is my friend kalpana needs your help.Please see the matter. Ovi
দুজনে অবাক হয়ে পরস্পরের মুখ চাওয়া চাওয়ি করে। সবুজ বলল,পাগল?
কল্পনা বলল,তুমি ওকে চেনো?
তোমার সঙ্গে আলাপ হল কিভাবে?
ও ইউনিভার্সিটিতে পড়ে আলাপ হতেই পারে।
সবুজ বড় বড় চোখ করে তাকালো। এ ইউনিভার্সিটিতে পড়ে?
কল্পনা হেসে বলল,শুধু পড়ে না ভালো ছাত্র।
এইবার বুঝতে পারছি কেন এত গোলমাল মারামারি হয় কলেজে। তুমি কি ঐ চোথা নিয়ে ড.এমাকে দেখাতে যাবে?
দেখতে দোষ কি?কল্পনা কথাটা বলে মনে মনে ভাবে অভি কি তার সঙ্গে মজা করছে?
.
.
চলবে —————————
[পর্বটি কেমন হয়েছে কমেন্ট বক্সে জানাবেন। হয়তো সামনের পর্বই হবে এই গল্পের শেষ পর্ব। ]