তাকে বাধা দিবে কে ( পর্ব -০২)

 গল্প- তাকে বাধা দিবে কে ( পর্ব -০২)


লেখক- Riaz Raj

---------------

কবিরাজ মারুফ মারা গেলো। ডক্টর রাফি আত্মহত্যা করলো। এদিকে চারটি অশরীরী তাদের ঘিরে আছে। তাদের একা চিহ্নিত করবে কিভাবে।  চিহ্নিত করেও বা, কি করবে। সোহানাকে কিভাবে বাচাবে।  রিয়াজ এখন কি করবে? কি হবে এখন?


এসব চিন্তা করতে করতে প্রায় অসুস্থ হয়ে যায় রিয়াজ।  কিছুক্ষণ বাদে রিয়াজের ফোনে একটি কল আসে। অচেনা নাম্বার। রিয়াজ রিসিভ করতেই, ওপাশ থেকে একটি মেয়েলী কন্ঠ ভেসে আসে।


- হ্যালো,  রিয়াজ সাহেব বলছেন? 

- জ্বি,  কে আপনি? 

- আমি অরন্য। আপনার মেয়েকে বাচাতে সাহায্য করতে পারি। 

- অরন্য? তা আপনি কিভাবে জানলেন আমার মেয়ের ব্যাপারে। 

- আমি সব জানি। আপনি একটু আমার সাথে দেখা করতে পারবেন? 

- বাড়িতে সোহানাকে একা রেখে বের হবো?

- চিন্তার কারণ নেই। সেই চারদল অশরীরী দিনের বেলায় সোহানাকে কিছু করবেনা। তারা রাতের বেলায় সব চেষ্টা করবে। দিনের বেলায় করবেনা।

- আপনি সেই চারদলের ব্যাপারেও জানেন? আপনার সাথে তো দেখা করতেই হচ্ছে।

- আপনি এক কাজ করুন। মিরপুর ৮ এ চলে আসুন। সেখানে এসে তান্ত্রিক অরন্যের বাসা কোনটা যে কাওকে বললেই দেখিয়ে দিবে।

- আচ্ছা, আমি বের হচ্ছি। ৩-৪ ঘন্টা লাগবে আসতে।

- আচ্ছা আসুন।


রিয়াজ পেলো নতুন কোনো সাহায্যের হাত। একদম একা মনে করেছিলো নিজেকে। যাক এখন তো কারো দেখা মিলেই গেলো। যদি কিছু করা যায়।আর উনিও যেহেতু এতকিছু জানেন, সে হিসেবে কোনো ভাবেই সাহায্য করতে পারবে নিশ্চয়। 

৪ ঘন্টা ১২ মিনিট পর রিয়াজ পৌঁছে মিরপুর ৮ নাম্বারে। গিয়ে একজনকে জিজ্ঞাসা করায় উনি বাসা দেখিয়ে দেন। এরপর রিয়াজ উনার বাসার নিছে এসে কল দেয় উনাকে। অরন্য তান্ত্রিকের লোকজন এসে রিয়াজকে রিসিভ করে উপরে নিয়ে যায়। রিয়াজ উনার সামনে যেতেই বেশ অবাক হয়। রুমটা দেখতে খুবই ভয়ংকর।  এর মাঝে অরন্য তান্ত্রিক যেভাবে সেজে আছে, যেনো বড়সড় কোনো তান্ত্রিক।  কপালে ইয়া বড় এক লাল বর্নিত গোলকার বৃত্তের চিহ্ন। চুলগুলো বিশাল, আর উনার চাহনি আরো ভয়ংকর।  রিয়াজ উনার সামনে বসে জিজ্ঞেস করলো।


- আমিই রিয়াজ।

- হ্যাঁ চিনতে পেরেছি। 

- বলুন, আপনি কিভাবে জানেন। 

- সোহানার পেটে যে অশরীরী বাচ্চা। সে এক ভয়ানক শয়তান। এই শয়তানটা ভৃমিষ্ঠে জন্ম নিবে, তা অনেক আগে থেকেই জেনেছি আমি। গুরু মাসুদ রানার ধারণায় এই বাচ্চা পৃথিবীতে আসবে। মাসুদ রানার ও আসবেই বইটা পড়েছি আমি। বাচ্চাটা যখন কোনো গর্ভে আসবে, তখন সে প্রায় ১২ বছর গর্ভেই থাকতে চাইবে। ১২ বছর পর ভৃমিষ্ঠে পা রাখতে চাইবে। এখন বাচ্চার ৫ বছর চলে, আগামী ৭ বছর বাদেই সে আসবে। আর আপনার ঘরেই সে বাচ্চা আছে, এইটা আমি অনেক সাধনার পর বুঝেছি। কিন্ত এখন টার্গেট বলুন আর লক্ষ্য বলুন, তা হচ্ছে বাচ্চাটিকে নষ্ট করতে হবে৷ 

- কিন্তু সেটা কিভাবে।  সোহানার ক্ষতি ছাড়াই এই এইটা কি অধৌ পসিবল? 

- সেটা নিশ্চিত দিতে পারবো না। হতে পারে সোহানা মারাও যাবে,আবার হতে পারে বেচে যাবে । 

- আপনার কোনো হেল্প লাগবে না আমার।

- আরে রেগে যাচ্ছেন কেনো। সোহানার যাতে কিছু না হয়, সেটা নিয়েই গবেষণা করছি আমি।

- এখন আমি কি করবো। 

- এই নিন।  এইটা আপনার কাছে রাখবেন। ( লোহার তৈরি একটা তারা( স্টার) রিয়াজের হাতে দেয় উনি।)

- এইটা দিয়ে কি করবো আমি।

- এই তারার মাধ্যমে আপনি শয়তান তাড়াতে পারবেন৷ যখনি বুঝবেন আপনার আশেপাশে শয়তান আছে, তখনি এই তারাটা হাতে নিয়ে বলবেন " আংকিত মার বুচ বুচ"। আর তারাটি একটা বিশাল আলো ছড়াবে। তখনি পালিয়ে যাবে শয়তান।

- ঠিক আছে।আমি তাহলে আসি।

- জ্বি। 


রিয়াজ তারাটা ★ হাতে নিয়ে রওনা দেয় নিজের বাসার দিকে। অনেকখানি দূরের পথ, তাই ফিরতে ফিরতে প্রায় সন্ধা হয়ে যায়। রিয়াজ গেইটের সামনে আসতেই দেখে, গেইট খোলা। অদ্ভুত, বাসার দারোয়ান কোথায়৷ রিয়াজ গাড়ি পার্কিং করে গেইটের সামনে আসে। এসেই দেখে, দারোয়ানের দেহ থেকে কেও মাথাটা আলাদা করে দিয়েছে। রিয়াজ ভয়ে থরথর করতে করতে মাটিতে পড়ে যায়। মূসা চাচাকে কে মারলো। রিয়াজ তাড়াহুড়ো করে মূসা চাচার লাশটা লুকিয়ে ফেলে। এরপর কেও দেখার আগেই, গ্যারেজ থেকে কোদাল এনে, বাড়ির পিছনে একটা গর্ত খুড়ে৷ আর সেই গর্তেই মূসা চাচাকে দাপন করে দেয়। রিয়াজের মাথায় অন্য কিছু আর আসেও নি। এমনিতেই বাড়িতে অশুভ শক্তির আসা-যাওয়া। মৃত্যু এখন সামান্য পুতুল খেলা মাত্র। এখন রিয়াজের মাথায় এলো মুক্তার কথা৷ মুক্তা বাসায় ঠিক আছে তো? রিয়াজ তাড়াহুড়ো করে বাসার দিকে দৌড় দেয়। দরজার কলিং বেল বাজাতেই,  কাজের মেয়ে নিপা ( Megha Chowdhury)  এসে দরজা খোলে। রিয়াজকে আতংকে দেখে কামের মেয়ে জিজ্ঞেস করে।


- কি হইছে স্যার।আপনারে এমন দেহাইতেছে ক্যন।

- মুক্তা বাড়িতে আছে?

- হ, আপামনি সোহানা মেডামরে খাবার খাওয়াইতেছে। 

- আচ্ছা সরো।


রিয়াজ জলদি বাসার ভিতরে যায়। মুক্তা সোহানাকে খাটে বসিয়ে খাবার খাওয়াচ্ছে। সোহানার বিড়ালটা সোহানার পাশে বসে মাছের কাটা খাচ্ছে। রিয়াজ সোহানাকে দেখে একটা স্বস্থির নিশ্বাস ফেলে। এরপর সোহানাকে আদর করার জন্য এগিয়ে যেতেই, সোহানা হুট করে তার বিড়ালটাকে ধরে কামড় দেয়। বিড়ালের দেহ থেকে রক্ত চিত চিত করে বের হচ্ছে। মুক্তা এসব দেখে এক চিৎকার দেয়৷ রিয়াজ ফ্লোরে পড়ে যায় সঙ্গে সঙ্গে।  এরপর সোহানা হিংস্র চোখে মুক্তার দিকে তাকায়।রিয়াজ বুক ধুকধুক করছে।


চলবে............


গল্প- তাকে বাধা দিবে কে ( পর্ব -০২)


লেখক- Riaz Raj


( ব্যস্ততার জন্য এইটুকুই লিখতে পেরেছি। নতুন গান রিলিজ হবে আমার। তাই একটু ব্যস্ত। গল্প কেমন হচ্ছে, কি হতে পারে এখন, এর সমাধান কে দিবে, ধারণা করে লিখুন আমার গ্রুপে,অথবা কমেন্টে)

Post a Comment

Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.