তাকে বাধা দিবে কে ( পর্ব -০৩ ও শেষ)

 গল্প- তাকে বাধা দিবে কে ( পর্ব -০৩ ও শেষ)


লেখক- Riaz Raj

---------------

সোহানা হুট করে তার বিড়ালটাকে ধরে কামড় দেয়। বিড়ালের দেহ থেকে রক্ত চিত চিত করে বের হচ্ছে। মুক্তা এসব দেখে এক চিৎকার দেয়৷ রিয়াজ ফ্লোরে পড়ে যায় সঙ্গে সঙ্গে।  এরপর সোহানা হিংস্র চোখে মুক্তার দিকে তাকায়।রিয়াজের বুক ধুকধুক করছে। সোহানা মুক্তার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়েই অজ্ঞান হয়ে যায়। এর মাঝে রিয়াজ একটা জিনিস লক্ষ্য করে। মুক্তা নির্ভয়ে সোহানার সামনে বসেছিলো।রিয়াজ দৌড়ে এসে সোহানাকে খাটে শুইয়ে দেয়। অজ্ঞান হয়েছে, তাই এতো চিন্তার কিছু নেই। কিন্তু চোখ খোলার পর যেনো স্বাভাবিক আচরণ করে, সেই প্রার্থনা করছে রিয়াজ।রিয়াজ মুক্তাকে আলাদা ভাবে রুমের বাহিরে ডাকে। মুক্তাও আসে রিয়াজের পিছন পিছন। এরপর রিয়াজ প্রশ্ন করলো,


- তুমিও কি কোনো তান্ত্রিকের কাছে গেছো নাকি।

- হ্যাঁ, কিন্তু কেনো 

- না মানে সোহানার সামনে নির্ভয়ে বসে ছিলে তাই।

- আমি অরন্য বেগম নামের এক মহিলার সাথে যোগাযোগ করছি। উনি বলল সোহানা হিংস্র হয়ে গেলে, সোহানার চোখের দিকে তাকিয়ে রাগ দেখালে সে ঠান্ডা হয়ে যাবে। সেটাই করলাম আমি।

- আরেহহ, আর উনি আমাকে এই স্টার দিয়ে বলল বিপদের মুখে যে কারো সামনে মন্ত্র পড়তে। তাহলেই নাকি অশরীরী পালাবে। বুঝলাম না, তান্ত্রিক অরন্যে আবার কোনো গেম খেলছে নাকি।

- আচ্ছা আমি পরে কথা বলে নিবো। রাগ ঘনিয়ে এসেছে। চলো শুয়ে পড়ি। 

- হুম চলো। 


রিয়াজ আর মুক্তা খাবারের পার্ট শেষ করে ঘুমাতে চলে যায়।  সোহানা এখনো ঘুমেই আছে। কিছুক্ষণ পর রিয়াজকে কেও ডাকতে লাগলো। রিয়াজ লাফ মেরে উঠে দেখে তান্ত্রিক অরন্য রিয়াজের রুমে রিয়াজকে ডাকছে৷ রিয়াজ অরন্যের দিকে তাকিয়ে দেখে, মহিকার মুখে রক্তের চাপ। মনে হচ্ছে উনি মাত্র কোনো জন্তুর সাথে লড়াই করে এসেছে৷ এদিকে বিছানায় সোহানা আর মুক্তা কেওই নেই। রিয়াজ কিছু বলার আগেই অরন্য বলল।


- রিয়াজ সাহেব, সব রহস্য জেনে গেছি৷ 

- কি জেনেছেন।আর সোহানা এবং মুক্তা কোথায়।

- তোমার বউ মুক্তাই হচ্ছে এই সব কিছুর মূল। সেই সব করাচ্ছে।

- মানে? 

- যে চার দল অশরীরী,  তার মধ্যে একদল হচ্ছে সোহানার পেটের বাচ্চাকে মারবে। একদল বাচ্চাকে পৃথিবীতে আনবে। একদল বাচ্চাটাকে নিজেদের বশে নিতে চায়, আরেকদল তোমার ফ্যামিলিকে মারতে চায়৷ তার মধ্যে যে দল অশরীরীকে পৃথিবীতে আনতে চায়, সে আর কেও নয়, সে হচ্ছে তোমার বউ মুক্তা। 

- আর বাকি তিনদল কারা।

- সে বাচ্চাকে বাধা দেওয়ার জন্য একদল অশরীরী ২৫ বছর যাবত চেষ্টা চালিয়ে আসছে। তারা ভালো অশরীরী। অর্থাৎ যারা বাচ্চাটিকে নষ্ট করতে চায়। আর একদল এই বাচ্চাটাকে নিজেদের বশে নিতে চায়, তারা খারাপ অশরীরী।  ওরা চায় বাচ্চাটিকে নিয়ে পৃথিবীতে রাজত্ব করতে৷ এরা গত ৫৫ বছর থেকে এই বাচ্চার জন্মের জন্য অপেক্ষা করে আসছে৷ আরেকদল তোমার ফ্যামিলি শেষ করতে চায়৷ তাদের উদ্দেশ্য একটাই, তোমার ফ্যামিলি শেষ হলে, সে বাচ্চার আগমন সম্পুর্ন বন্ধ। তারা ভালো, কিন্তু অন্যদের বাচাতে তোমাদের শেষ করতে চায়। আর মুক্তা একা প্রতিনিয়ত এই তিনদল অশরীরী সাথে যুদ্ধ করে আসতেছে। যেইভাবেই হোক, এই বাচ্চাকে পৃথিবীতে আনতে চায় সে।

- এতে মুক্তার লাভ কি? 

- এই মুক্তা তোমার সেই মুক্তা নয়। যে মুক্তাকে তুমি বিয়ে করে এনেছো।এই মুক্তার দেহের ভিতর আছে এক ভয়ংকর অশরীরী।  যে গত ১৪০০ বছর থেকে এই বাচ্চাকে পৃথিবীতে আনতে চাচ্ছে। প্রথমে বাচ্চাটিকে তোমার মুক্তার পেটে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এরপর মুক্তা প্রেগন্যান্ট হওয়ার পর, বাচ্চাটি সোহানার পেটে চলে যায়। যাতে সে যথেষ্ট পরিমাণ সময় পায়৷ ১২ বছর কিন্তু কম না। সেজন্যে সোহানার পেটের বাচ্চাটির মাথা নেই। আর হাত দুটো অনেক বড়। কারণ ওটা বাচ্চা নয়,একটা অশরীরী। 

- আল্লাহ, এত কিছু হয়ে আসছে এতদিন ধরে, আর আমি কোথায়। এখন এর সমাধান কিভাবে কি করবো।

- হ্যাঁ,  এইটার সমাধান হচ.... আ......আ... 


অরন্য চিৎকার দিয়ে ঘুরে পড়ে যায়। কারণ মুক্তা অরন্যের পিঠে নখ ঢুকিয়ে তান্ত্রিক অরন্যকে মেরে ফেলে। রিয়াজ ভয়ে এক দৌড়ে পালিয়ে যায় রুম থেকে। মুক্তা অট্টহাসি দিয়ে চিৎকার করে বলতে লাগলো,


- লাভ নেই রিয়াজ। সেই তিনদল অশরীরীকে আমি মেরে ফেলেছি। এবার তোমার পালা। অনেক লাফাইছো।এবার মরার সময় ঘনিয়ে এসেছে।


কে শুনে কার কথা। রিয়াজ দৌড়ে গিয়ে সিড়ির নিছে লুকায়। চারদিকে অন্ধকার আর নিরবতার ছড়াছড়ি।  হরর মুভিতেও এমন সিন দেখেনি রিয়াজ। এরপর ধীরে ধীরে মুক্তার অবস্থান বুঝার জন্য মাথা বের করে। আর ওমনি দেখে, মুক্তা সিড়ির সামনে রিয়াজের দিকে বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে৷ ভয়ে রিয়াজ আবার দৌড়ে পালিয়ে যায়৷ এরপর দেখে সোহানা ফ্লোরে শুয়ে আছে। নিশ্চয় তিনদল অশরীরী সোহানাকে নিয়ে কাড়াকাড়ি করার সময় সোহানা এখানে পড়ে গেছে। রিয়াজের চোখভরা অশ্রু৷ নিজের মেয়েকে এমন কষ্টে দেখে কোন বাবার চোখে পানি আটকাবে। এদিকে তিনদল অশরীরী শেষ হলেও, মুক্তার রুপে আসল অশরীরী রয়েই গেলো। রিয়াজ সোহানার দিকে তাকিয়ে এসব ভাবতে ভাবতে, মুক্তা এসে রিয়াজকে ছুড়ে মারে। রিয়াজ উড়ে গিয়ে টেবিল ভেঙে ফ্লোরে পড়ে যায়। টেবিলের গ্লাস ভেঙে,টুকরো গুলো রিয়াজের দেহ ছিদ্র করে দিচ্ছে। অথচ রিয়াজ তার মেয়ের কষ্টে,নিজের ব্যাথাকে প্রায় ভুলেই গেছে। মুক্তা দাড়িয়ে দাড়িয়ে অট্টহাসি দিচ্ছে। পৈশাচিক হাসির শব্দে রিয়াজ ক্ষিপ্ত হয়ে যায়।  চোখ বন্ধ করে কল্পনা করে, এই বাচ্চার জন্য মুক্তার আগমন,।এই বাচ্চার জন্য অনেকের প্রান গেলো। এই বাচ্চার জন্য মুক্তাকে হারালো। এই বাচ্চার জন্য তান্ত্রিক মৃত।এই বাচ্চার জন্য অশরীরীর আগমন। তবে কি করার? রিয়াজের মাথায় বুদ্ধির আগমন ঘটলো।  রিয়াজ পকেট থেকে সেই স্টার বের করে বলতে লাগলো, 

" আংকিত মার বুচ বুচ " সঙে সঙে একটা আলোর উৎপত্তি ঘঠে।সে আলোর চাপে  মুক্তা উড়ে গিয়ে বাড়ির বাহিরে পড়ে যায়। রিয়াজ তাড়াতাড়ি রান্না ঘরে চলে আসে। বাহির থেকে মুক্তার ভয়ংকর হুংকার শুনা যাচ্ছে। রিয়াজ রান্নাঘরে এসে গ্যাসের সিলিন্ডার বতলটি হাতে নেয়। এরপর পাই খুলে দিয়ে গ্যাস ছেড়ে দেয়, পুরো বাড়িতে মাত্র ১ মিনিটেই গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। রিয়াজ সোহানাকে বাড়ির ভিতরেই, অর্থাৎ ফ্লোরে রেখেই দরজার সামনে দাড়িয়ে ম্যাচ ধরিয়ে দেয়। 


ধুপপপপপপপপপপপপপপপপ


বিশাল এক বিস্ফোরণ ঘটে। পুরো এলাকায় শব্দ ছড়িয়ে যায়। ঘুমন্ত মানুষ সব জেগে যায়। বিস্ফোরণের প্রভাবে রিয়াজে উড়ে গিয়ে বাড়ির গেটের সামনে হিচড়ে পড়ে।মাটিতে ডিগবাজি খেতে খেতে রিয়াজের হাত পায়ের চামড়া ছিড়ে যায় অনেক খানি। ভিতরে রিয়াজের মেয়ে সোহানা পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সাথে সোহানার পেটের বাচ্চাটিও শেষ হয়ে যায়। মুক্তার দেহ থেকে লাল রঙের একটি আলো আকাশের দিকে চিত করে উড়ে চলে যায়। আলোটা হচ্ছে সেই অশরীরী,  যে মুক্তার দেহের ভিতর ছিলো। অশরীরী বাচ্চা মারা যাবার পর মুক্তার দেহের ভিতরের শয়তানটাও মরে উড়ে গেলো। মুক্তা অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায় মাটিতে। রিয়াজের পুরো দেহ দুর্বল।  মাটিতে শুয়ে আছে। মনে মনে বলল, 


- মুক্তাকে তো আমি আবার ফিরে পেলাম। কিন্তু আমার মেয়ে সোহানাকে সারাজীবনের জন্য হারিয়ে ফেললাম। তাতে কি আর হয়েছে, আমার মেয়ের কোরবানির দিয়ে, হাজারো বাবার মেয়েকে বাচিয়েছি। তারা সবাই আজ থেকে আমার সোহানা৷ পৃথিবীর সব বাচ্চাকে আমি সোহানা মনে করে থাকবো।যতদিন বাচি।


এ বলেই রিয়াজ অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়।


*********** সমাপ্ত**********


( ভালো লেগে থাকলে সবসময় পাশে থাকবেন। 



গল্প- তাকে বাধা দিবে কে ( পর্ব -০৩ ও শেষ)


লেখক- Riaz Raj

Post a Comment

Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.