রোবোটিক হিরো
সাদিয়া নওরিন
পর্ব--- ১৭
ন্যাম অনেক কষ্ট করে লি কে ঘুম পাড়ায়.. ঘুমের মাঝেও লি চাপা স্বরে গুঙিয়ে ওঠে!! হাওমাও করে কান্না করে ওঠে..ন্যাম লির মাথায় স্ট্রেস ফ্রি ম্যাসাজ দেয়.. এতে লি গভীর ঘুমে ডলে পড়ে...
ন্যাম আস্তে আস্তে জানালার কাছে এসে দাড়ায়. তার মনের মাঝে হু হু করে ওঠে কেন যেন। তার নিজের কাছে অদ্ভূত লাগে!! সে একটা রোবোট হয়ে কিভাবে একটা মানুষকে নিয়ে এতো চিন্তা করতে পারে সে...ন্যামের বারবার এ্যান্জির কথা মনে পড়ছে!! এ্যান্জির সাথে কাটানো মুহুর্তগুলো চোখে কোনে ভিড় করছে তার.. এ্যান্জির মিষ্টি হাসি!! হঠাৎ মুখ ফুলিয়ে রাগ করা!! সব যেন মনের কোনে উঁকি দিচ্ছে..ন্যাম নিজেকে আর স্হির রাখতে পারলো না.. সে ভাবলো সে এ্যান্জিকে দেখতে যাবেই যা প্রবলেম হবে হোক..ন্যাম সিনের মতো ড্রেস আপ করলো আর পি কে কিংডমের দিকে যাওয়ার জন্য কার স্টার্ট দিল!!!
ন্যামের বাড়িতে ডুকতে কোন অসুবিধা হলো না..কারন সবাই ভেবেছে সিনই আর ন্যামের ও সব পূর্বপরিচিত.. ন্যাম পুরো প্যালেসটা ঘুরে দেখলো!! অনেক স্মৃতি এখানে তার.. সব যেন চোখের সামনে ভাসছে তার!! মানুষ হলে হয়তো কান্না করে মনটা হালকা করা,যেত কিন্তু এখন তার,সেই উপায় ও নেয়..এইসব ভাবতে ভাবতে কটেজের সামনে এসে থামলো ন্যাম..
ন্যামের অনেকটা ভালোলাগা, কাজ করছে!! সে এ্যান্জির জানালা,দিয়ে উকি দিল কিন্তু সে কিছুই দেখতে পারলো না.. রুমে বড় পর্দা টাঙ্গানো!! ন্যামের মনটা খারাপ হয়ে গেল তার বার বার মনে হতে লাগলো --এ্যান্জি কি তাহলে সিন কে ন্যাম ভেবেছে!! ন্যাম ভিডরে ঢোকার সিদ্ধান্ত নিল...
সিন ড্রয়িংরুমে বসে নিজে নিজে বিড়বিড় করতে লাগলো.. তার এ্যান্জির ওপর রাগ লাগছে অনেক!! সব মেয়েরা,সিনকে কাছে চায়!! আর এই মেয়ে সিনকে অবহেলা করছে তাও একটা টিনভাঙ্গার জন্য.. এইসব ভাবতে ভাবতে সে হাত মুটো করে ফেলল..
সিন এইসব ভাবতে ভাবতে নিজের রুমের দিকে এগুতে লাগলো হঠাৎ সে ন্যামকে দরজার কাছে দেখলো!! সে কিছুখন ভাবলো তার মনের ভূল পড়ে সে আবার চোখ বন্ধ করে খুলে নিজের চোখ চেক করে দেখলো!!! এই যে সত্যি ন্যাম.. সে রেগে ন্যামের সামনে এসে দাঁড়ালো তারপর গম্ভীর মুখে বলল-- তুমি এইখান?? তোমাকে আমি এইখানে আসতে মানা করেছিলাম...
ন্যাম নিলিপ্তভাবে জবাব দিল.. আমার কিছু জিনিস রেখে গিয়েছিলাম এইখানে সেইটাই নিতে এসেছি আমি..
সিন হালকা ব্রু উচু করে মৃদু হেসে বলল-- ওহ জিনিস.. এইবলে নিজের পকেটে হাত পুরে ন্যামের সামনে এসেদাড়ালো আর বলল-- জিনিসটাকি এ্যান্জি??
ন্যাম মুখ ঘুরিয়ে বলল-- তা তোমাকে বলতে বাধ্য নয় আমি.. এই বলে সে চলে আসতে উদ্ধাত হলে ন্যাম পিছনথেকে ডেকে বলল-- ও চলে গেছে.. কোথায় তা আমি জানি না...
ন্যাম থমকে দাঁড়ালো তার কেন যেন খুব খুশি লাগছে সে তাড়াতাড়ি সিনের সামনে এসে বলল-- তাই..
সিন নাক ফুলিয়ে কিছু একটা বলার চেষ্টা করলো.. তখন ই দেখলো পিন্সা কটেজের দিকে আসছে।। সিন তাড়াতাড়ি ন্যামকে লুকিয়ে ফেলল তারপর সোজা হয়ে দাঁড়ালো.. পিন্সা তার সামনে এসে অবাক হয়ে বলল-- তুমি এখানে এইভাবে দাড়িয়ে আছ কেন??
সিন কি বলবে বোঝতে না পেরে রেগে গেল।। সে রাগান্বিত স্বরে বলল-- আমি যা ইচ্ছা করি আমার মর্জি তুমি বলার কে?? এইটা আমার কটেজ.. তুমি এখানে আসার সাহস কোথায় পাও??
পিন্সা সিনের কথা শুনে অবাক হয়ে গেল!! পরমুহুর্তে নাক সিটকে বলল-- দেখিয়ে দিয়েছ তো নিজের আসল রং.. আমি তো ইয়েম কে বলি পুরো দুনিয়া পাল্টালেও সিন পাল্টাবে না.
এই বলে সে যেতে যেতে আবার ফিরে এলো তারপর বলল-- ভেতরে কারো ছায়া দেখলাম. কে সে..
সিন ভয় পেয়ে গেল!! তাড়াতাড়ি ঢুক গিলে বলল-- কেউ না.. কেউ হলে আমি বুঝবো.. ইউ গেট লষ্ট...
পিন্সা গালি দিতে দিতে বেরিয়ে গেল.. সিন আটকে রাখা নিশ্বাসটা আস্তে আস্তে ছেড়ে দিয়ে ধুপ করে চেয়ারে বসে পড়লো.. ন্যাম বিজনেসের অনেক উন্নীত করেছে.. আর এর জন্য কিছু এউয়ার্ড ও পেতে পারে ও আর ফেমওয়াস ও.. কিন্তু সিন চায় সব কিছুতে তার নাম হোক.. তাই সে টেকনিকাললি ন্যামকে সবকিছু থেকে দূরে রাখছে..
অন্যদিকে ন্যামের অনেকটা কষ্ট হতে লাগলো প্রিন্সার জন্য সে দুঃখী মুখ নিয়ে বেরিয়ে এলো.. আর দরজার দিকে এগুতেই সিন ন্যামের হাত ধরে আলতো টান দিল..
ন্যাম অবাক হয়ে তাকালো।। সিন তাড়াতাড়ি ন্যামের হাতে একটা ব্যান্ডস পেচিয়ে দিল তারপর বলল-- এখন একরকম লাগছে।। এইবার যাও..ন্যাম হালকা মাথা ঝাকিয়ে বেরিয়ে গেল..
এ্যান্জি নিজের ব্যাগ ও অন্যান্য জিনিস নিয়ে নিজের বাসায় প্রবেশ করলো!! বং অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো.. সে কিছু বলতে চেয়ে ও বলল না।। ন্যামের মারের ব্যাথা এখনো তার শরির থেকে যায় নি.. এই বুড়োবয়সে আর সেইমজিনিস খেতে চায়না সে..
এ্যান্জি নিজের রুমে বসে বসে কিছুখন ফুফিয়ে ফুফিয়ে কান্না করলো.. হঠাৎ তার নিন্সের কথা মনে পড়ে গেল সে তার সবকিছু চেক করলো.. কিন্তু নিন্স কোথাও নেয়.. এ্যান্জির চোখ দিয়ে টপটপ করে পানির ধারা বেরোতে লাগলো..
সে নিন্সকে ও হারিয়ে ফেলল ভাবতেই এ্যান্জি ঢুকরে কেদে দিল.. সে বাইরে বেরিয়ে এলো আর সবজায়গায় চেক করতে লাগলো.. হঠাৎ একটি যান্ত্রিক শব্দ বলে ওঠলো--- কাকে খুজছ এ্যান্জি??
এ্যান্জি পিছনে ফিরে নিন্সকে দেখে জড়িয়ে ধরলো!!সে অনেকগুলো চুমু দিয়ে দিল নিন্সকে আর ডুকরে কেঁদে দিল..
নিন্স---- সরি আসলে চারপাশটা একটু স্কেন করছিলাম..
এ্যান্জি কান্নাভরা চোখে মৃদু হেসে বলল-- তুমি আমাকে তো বলতে পারতে.. তুমি জান নিন্স সিন ফিরে এসেছে...
নিন্স--- who cares??? আমরা এইখানে সবাই একসাথে থাকবো.. তুমি আমি আর ন্যাম..
এ্যান্জি চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো সে মৃদু স্বরে বলল-- কিন্তু আমি ন্যামকে হারিয়ে ফেলেছি..
তখন পিছন থেকে কেউ বলে ওঠলো--- ন্যাম কিন্তু হারাতে দেয়নি এ্যান্জিকে..
এ্যান্জি এই শব্দ শুনে চমকে ওঠলো.. সে পিছন ফিরে সিনকে দেখে উল্লাসীত হয়ে দৌড়ে এলো আর সামনে এসে থমকে দাঁড়ালো.. হঠাৎ তার মনটা অভিমানে ভরে ওঠলো.. ন্যাম কিভাবে পারলো একটুও খবর না নিয়ে থাকতে.. যাওয়ার সময় একবার বলেও গেল না. এইসব ভাবতে ভাবতে এ্যান্জির মন আরো খারাপ হয়ে গেল..সে মুখ গোমড়া করে বলল-- তুৃমি আমাকে কিছু না বলে কিভাবে চলে গেলে?? আর এখনই বা কেন এসেছ..
ন্যাম ঠোট বাকিয়ে হেসে বলল-- আসলে আমি একটা মেশিন।। আর আমার সবার আদেশ মেনো চলা দরকারি.. আর এখন সিন ফিরে এসেছে.. আর আমার মমের কাছে এখন আমি একটা ইউজলেস জিনিস..
এ্যান্জি রাগী চোখ নিয়ে প্রতিবাদী স্বরে বলল-- তুমি মোটেও ইউজলেস নয়..বরং ঐ সিন থেকে অনেকটা ভালো. আর আমার জন্য তুমি সবচেয়ে বেশি ইম্পোর্টেন্ট কারন আমি তোমাকে... এইবলে সে আটকে গেল.. এ্যান্জি ন্যামকে কি বলবে.. আর সে কিভাবেই বা বলবে.. এইসব ভাবতে গিয়ে তার চোখ টলমলিয়ে ওঠলো তখন ন্যাম এ্যান্জিকে টেনে নিজের কাছে নিয়ে এলো আর জড়িয়ে ধরলো. এ্যান্জি গোমড়ামুখু করে বলল-- আমি মোটেও কান্না করছি না.. ন্যাম মৃদু হেসে বলল-- আমি জানি তবে কেন যেন মনে হল তোমার কান্না করার ইচ্ছে হচ্ছে.. তুমি কান্না করে নিজেকে হালকা করতে পার..
এ্যান্জির চোখের পানি আর বাধ মানল না সে ন্যামকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে জোরে জোরে কান্না করতে লাগলো.. তার মনে হচ্ছে কেউ তার কলিজাটা কুচ কুচ করে কেটে দিচ্ছে.. সে কান্না করতে করতে হালকা হেচকি দিতে লাগলো. ন্যাম এ্যান্জিকে নিজের বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে নিল আর সামনের অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে ভাবলো--- তুমি কতো লাকি এ্যান্জি তুমি কান্না করতে পার.. আর আমি চায়লে তা ও পারি না..
সে এ্যান্জি মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলল-- আর তোমাকে ছেড়ে যাব না এ্যান্জি.. এখন থেকে তোমার সাথেই থাকবো.. তোমার যেকোন প্রয়োজনে তুমি আমাকে পাবে..
এ্যান্জি ন্যামকে আলতো করে ছেড়ে দিয়ে ন্যামের মুখোমুখি দাড়ালো তারপর বলল-- শুধু বললে হয় না।। করে দেখাতে হয় যেমন এখন তুমি শুধু আমার সাথেই থাকবে.. ন্যাম হেসে দিল.. তারপর মাথা হালকা ঝুকিয়ে বলল ইয়েস ম্যাম..
এ্যান্জি জোরে হেসে দিল আর ন্যামের হাতের নিচে নিজের হাত দিয়ে আস্তে আস্তে বাড়ির দিকে এগিয়ে চলল...
ন্যাম রুমে এসে অবাক রুমের অবস্হা এমন করে কে?? সে অবাক চোখে এ্যান্জির দিকে তাকালো!! এ্যান্জি হালকা আমতা আমতা করে তারপর উচ্চস্বরে বলল-- তো.. তুমি তো বললে হেল্প করবে তো হেল্প কর.. আসলে কি বল তো তুমি এইসব পারবে না তাই এমন করছো..
এইবলে সে চোখ টিপ দিল..
ন্যাম মুখ বাঁকিয়ে বলল-- হু.. এই অল্প কাজ আমি ১ ঘন্টার মধ্যে শেষ করে ফেলব।।
এ্যান্জি ভেঙ্গচি কেটে খাটের ওপর নিন্সকে নিয়ে বসে পড়লো..ন্যাম যটপট সব করা শেষ করে দিল.সে খুব সুন্দর করে সব গুচিয়ে রাখলো...এ্যান্জি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে আবাক হয়ে গেল!!মাত্র ৪৫ মিনিটস। ন্যাম এখন রুমপুরোট ঝাড়ু দিবে এ্যান্জির মাথায় দুষ্টু খেলে গেল!! সে চিপসের প্যাকেটটা খোলে খাওয়া শুরু করলো আর আড়চোখে ন্যামকে দেখতে দেখতে চিপসের গুড়িগুলো রুমের নানা দিকে ছড়িয়ে দিতে লাগলো..
সে মুখে মেকি রাগ টেনে বলল-- তুমি ভালো কাজ করতে পার না.. দেখ এইখানে ময়লা..
ন্যাম আবার সযত্নে ঝাড়ু দিতে লাগলো আর এ্যান্জি আবার ফেলতে লাগলো.. শেষে ন্যাম ঝাড়ু দিতে দিতে পিছন ফিরেই বলল-- এখন আর ফেললে কিন্তু তুমি ঝাড়ু দিবে.
এ্যান্জি পরপর কয়েকবার ঢুক গিল.. সে ভাবলো ভালোই ভালোই কেটে পড়া ভাল আর না হয়, সমস্যায় পড়তে হতে পারে..
ন্যাম এ্যান্জিকে বাইরে দৌড় দিতে দেখে হেসে দিল..
এ্যান্জি বাইরে বের হয়ে দেখলো তার ছোট বেলার সব বন্ধুরা..এরা বন্ধু কম ভাইবোন বেশি এ্যান্জির জন্য. তারা এ্যান্জিকে দেখে জড়িয়ে ধরলো..এ্যান্জি তাদের ন্যামের কথা জানালো.. কিন্তু সে যে রোবোট বিষয়টা সবার কাছে চেপে গেল..যদি ন্যামের কোন প্রবলেম হয় তা ভেবে...
এ্যান্জির বন্ধুবান্ধবীরা ন্যামকে দেখতে অনেক এ্যাক্সাইটেট.. এ্যান্জি সবার আশায় পানি ঢেলে দিয়ে বলল-- যা আমার জন্য দুইটা সাইকেল এনে দে..
সবাই নিজেদের মুখ চাওয়াচাওয়ি করলো.. তারপর ব্রু কুচকে বলল--- সাইকেল সেইটা আবার কেন...
এ্যান্জি ওদের মাথায় টোকা দিয়ে বলল-- লং ড্রাইভে যাব!!
সবাই অবাক হয়ে তাকালো তার দিকে!!!
ন্যাম ঘর থেকে বেরিয়ে দেখলো এ্যান্জি অনেকগুলো তরুন তরুণীর সাথে দাড়িয়ে গল্প করছে.. সে তাদের সামনপ এসে দাঁড়ালো আর সবাইকে হাই দিয়ে একটা মিষ্টি হাসি দিল.. ছেলেরা ন্যামের সাথে স্বউল্ল্যাসে গল্প করতে লাগলো.. এ্যান্জি ন্যামের সাথে কিছুক্ষণ গল্প করে তার বান্ধবীদের দিকে তাকালো!! মুহুর্তেই তার মেজাজ সপ্তআাসমানে গিয়ে ঠেকলো...
রয়েল ব্লু টিশার্ট আর ব্লেক জিন্স পড়েছে ন্যাম,, চুলগুলো হালকা ফোলানো!! আর মুখে সেই মন ভোলানো হাসি!! আর সব মিলিয়ে তাকে অনেকটা হেন্ডসাম লাগছে!! আর এ্যান্জির বান্ধবীরা একজন অন্যজনের কাধে হাত দিয়ে হা হয়ে সেই দৃষ্যটাই দেখছে...
এ্যান্জির ইচ্ছে হচ্ছে মেয়েগুলোর চোখগুলো উপড়ে সেইগুলো দিয়ে সে ক্যারাম খেলে.. নিলজ্জ মেয়েছেলে কোথাকার.. এ্যান্জি মনে মনে গালি দিলো মেয়েগুলোকে.. আর সাথে এ ও দোয়া করে দিল যেন একেক জনের কপালে কালো আর দাতছাড়া বর জোটে.. অন্যের জিনিসের দিকে চোখ দিতে তাদের একটুও কি মনে বাধছে না.. শাঁকচুন্নির দল.. এইসব ভাবতে ভাবতে সে তাদের দিকে অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করলো... মেয়েগুলো এ্যান্জির এইঅবতার দেখে ভয়ে চুপশে গেল.সে ন্যামকে হাতধরে টেনে সাইকেলের কাছে নিয়ে এলো আর চড়ে বসতে বলল.. সে ও চড়ে বসলো অন্যটায় তারপর তারা পুরো গ্রামটা ঘুরে দেখার জন্য বেরিয়ে গেল।।।
ন্যাম অনেকক্ষণ যাবত খেয়াল করছে এ্যান্জি মুখ ফুলিয়ে আছে.. সে কয়েকবার এ্যান্জির নাম ধরে ডাকলো কিন্তু কোন প্রতিউওরই পেল না তাই নিজের সাইকেলটা এ্যান্জির সামনে দিয়ে এ্যান্জির সাইকেলটা থামিয়ে দিল..
এ্যান্জি সাইকেলটা থামিয়ে মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিল.. ন্যাম হালকা অবাক হয়ে বলল-- কি সমস্যা,, মুখ এমন আলুর মতো করেছ কেন..
মুহুর্তেই এ্যান্জি অজগর সাপের মতো ফোস করে ওঠলো..দাত কটমট করে বলল-- কি আমি আলু!!! ওহ আমাকে তো এখন আলুই লাগবে. কতোগুলো পেত্নীকে নিজের পিছন পিছন ঘুরাচ্ছ.. আর আমাকে আলু ডাকছ.. ভালো খুব ভালো..
ন্যাম খানিকটা বুজে মুখে হাসি ঝুলিয়ে বলল-- তো সমস্যা কি আমি তো টিনের ডাব্বা..
এ্যান্জি রেগে ন্যামের গলার কলারটা চেপে তার দিকে টেনে নাক ফুলিয়ে বলল-- তুমি টিনের ডাব্বা হও আর যায় হও তুমি শুধু আমার.. তোমার দিকে অন্য কেউ তাকালে তার চোখগুলো কাটাচামচ দিয়ে তুলে নুডুলসের সাথে রান্না করে খেয়ে ফেলব..
ন্যাম আচমকা নিজের ঠোটটা এ্যান্জির ঠোটে নামিয়ে আনলো আর এ্যান্জির ঠোট চেপে ধরলো।। এ্যান্জি আবেশে চোখ বন্ধ করে ফেলল।। তার মনে হচ্ছে সে পড়ে যাবে.সারা শরীরে যেন বিদুৎ খেলে যাচ্ছে তার.. সে কেপেঁ ওঠলো আর ন্যাম এ্যান্জির কোমড়ে হাতে স্লাইড করে নিজের গায়ের সাথে আরো মিশিয়ে নিল..
এ্যান্জি ন্যামের দিকে কেন যেন তাকাতে পারছে না।। তার অন্যরকম অনুভূতি হচ্ছে.. সে নিচের দিকে তাকিয়ে এক আন্গুলকে অন্য আন্গুল দিয়ে টানতে লাগলো..
ন্যাম মৃদু হেসে এ্যান্জি লাজুক মুখের দিকে তাকিয়ে হেসে বলল -- আমার ডাটায় আছে মেয়েরা জেলাস ফিল করলে তাদের কিস করতে হয়..
এ্যান্জি লাজুক হেসে বলল-- তোমার ডাটায় সবসময় ভূল থাকে.. এইবলে সে দৌড়ে চলে যেতে চায়লো তখন ন্যাম চিৎকার করে বলল-- কিন্তু কেন যেন এ্যান্জি আমার এইটা ভালো লাগে.. আমি ফিল করি এইটা...
এ্যান্জি থমকে দাঁড়ালো।। তার হার্ডবিট যেনে কয়েকবার বিট করা মিস করে দিল এই কথা শুনে সে তাড়াতাড়ি আবার দৌড়ে পালালো..ন্যাম সেইদিকে তাকিয়ে হেসে দিল..
এ্যান্জি সিনের সামনে দাড়িয়ে আছে।। তাকে একটা এ্যাগরিমেন্টের কথা বলে আবার ঢেকে এনেছে সিন যেইটা সে জয়েনের সময় সাইন করেছিল.. এ্যামি সিনকে কিছু বলতে চায়লো কিন্তু সিন হাত উচিয়ে থামিয়ে দিল আর চড়া গলায় বলল-- ভিতরে যাও এ্যামি..
এ্যামি কিন্তু বলতে চায়লো কিন্তু সিন তাকে ধমকে বলল-- আমি এক কথা বারবার বলি না যাও.. এ্যামি আহতমুখ নিয়ে ভিতরে চলে গেল।।
ন্যাম স্হির দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো এ্যান্জির ওপর..
চলবে