রোবোটিক হিরো
সাদিয়া নওরিন
পর্ব--- ১৮
ন্যাম অনেকক্ষণ ধরে এ্যান্জিকে কল দিচ্ছে. কিন্তু এ্যান্জি রিসিভ ই করছে না.. ন্যাম অবাক হয়ে কিছুক্ষণ চিন্তা করলো তারপর কি মনে করে তাড়াতাড়ি এ্যান্জির লোকেশন চেক করলো .. যা ভেবেছিল তাই.. এই সিন কেন একা ছেড়ে দেয় না তাদের.. ন্যাম রাগে হাত মুটো করে ফেলল তারপর সিনের অফিসের দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল!!
সিন কিছুখন এ্যান্জির দিকে তাকিয়ে মুখে শয়তানি হাসি টেনে বলল-- তুৃমি এক বছরের আগে জব ছাড়তে পারবেনা এ্যান্জি..
এ্যান্জি রেগে মুখ ঘুরিয়ে নিল তারপর বলল-- আমি জানি সেইটা..কিন্তু তোমার সাথে কাজ করার আমার মোটেও ইচ্ছে নেয়..
সিন রাগে দাত কড়মড় করে বলল-- কেন,, আমি মানুষ তাই.. ওর চেয়ে সবদিকদিয়ে বেশি পার্ফেক্ট আমি..
এ্যান্জি তাচ্ছিল্যের হাসি দিল যা সিনের চোখ এড়ালো না।। সে ব্রু কুঁচকে বলল---- হাসছো কেন?? আমি কি হাসির কিছু বলেছি..
এ্যান্জি নাক ফুলিয়ে সিনের দিকে তাকিয়ে বলল-- ঠিক তাই!! আমার কানে তোমার কতাগুলো জোকসের মতো ই মনে হলো...
সিন বসা থেকে দাঁড়িয়ে গেল সে রাগে থরথরিয়ে কাঁপতে লাগলো আর চিৎকার করে বলল-- কি!!! জোকস মনে হয় তোমার?? জোকস.. তারপর এ্যান্জি হাত শক্তকরে ধরে ঝাঁকিয়ে বলল---কেন আমাকে এতোটা ঘৃনা কর আমি মানুষ বলে??
এ্যান্জি সিনের চোখের দিকে তাকিয়ে নিলিপ্ত ভাবে জবাব দেয়.---নাহ,, মানুষ হলে তো কথায় ছিল না তুমি অমানুষ বলে..
সিন রেগে এ্যান্জিকে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়.. ঠিক সেই মুহুর্তেই ন্যাম সিনের অফিস রুমে প্রবেশ করে..ন্যাম এ্যান্জি আর সিনকে এই অবস্হার দেখে রাগে ধপ করে জ্বলে ওঠে..সে জোরে হেটে গিয়ে সিনের ধরে রাখা হাতটা ধরে এ্যান্জিকে জোরে তার নিজের দিকে টান দেয়।। এতে এ্যান্জি ন্যামের সাথে ধাক্কা খেয়ে ন্যামের বুকের ওপর এসে পড়ে!!.ন্যাম বাম হাত দিয়ে এ্যান্জিকে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়!!. তারপর ডানহাতের আঙ্গুল উচু করে সিনকে ওয়ার্নিং দেওয়ার ভঙ্গিতে দেখিয়ে বলে-- এ্যান্জি থেকে দূরে থাক তুমি সিন.. ওর আশে পাশেও যেন তোমাকে না দেখি আমি...
এ্যান্জি অবাক চোখে ন্যামের দিকে তাকায়.. ন্যামের এই রুপ অনেক ভালো লাগে এ্যান্জির!! সে মুখে ডোন্টকেয়ার ভাব করে সিনের দিকে তাকায়..
সিন রাগে দাত কটমটিয়ে বলে-- তোমার কি সমস্যা ন্যাম...
ন্যাম সিনের দিকে অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করে আর বলে-- সমস্যা আছে আমার সিন..আছে!!! এ্যান্জি তোমার ব্যাবসার কোন পার্ট না.. না ফ্যামিলির কেউ।। তাহলে কেন ওর পিছনে পড়ে আছ।। আমি তোমাকে ওয়ার্নিং দিচ্ছি সিন ওর আশেপাশেও যেন তোমায় না দেখি.. দেখলে এর পরিমান ভাল হয়ে না..
এইবলে সে এ্যান্জির মুখের দিকে তাকালো..এ্যান্জির মুখে রাজ্যের বিষ্ময়!! সে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে ন্যামের দিকে..
ন্যাম এ্যান্জির দুকাধে হাত রাখলো.. এ্যান্জি অবাক চোখ ন্যামের মুখের দিকে তাকালো সাথে সিন ও.. ন্যাম নিজের মাথা হালকা ঝুকিয়ে চোখ অফ করে নিল তারপর আস্তে আস্তে আবার চোখ খুলল তারপর বলল-- আমি জানি তুমি অবাক হচ্ছ এ্যান্জি!! আর এইটায় স্বাভাবিক.. কিন্তু আমি জানি না এইটা জেলাস কি না.. তবে।। এইবলে সে আবার চোখ অফ করে নিল.. এ্যান্জি প্রশ্নবোধক চেহারা করে অবাক হয়ে তাকালো আর বলল-- তবে??
ন্যাম নিজেকে হালকা স্বাভাবিক করার জন্য এ্যান্জিকে ছেড়ে দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালো.. সিন তো রিতিমতো শকে আছে!! ন্যাম এ্যান্জির দিকে স্হির দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো আর বলল-- তবে তোমাকে অন্য করো সাথে দেখাটা আমার সহ্য হয় না.. অস্হির লাগে আমার..
সিন বিষ্ফুরিত চোখে ওদের দিকে তাকালো!! তার কান দিয়ে যেন ধোয়া বের হচ্ছে.. তার মা এইটা কি বানিয়েছে সে ভাবছে আর তখন ই ন্যাম এ্যান্জির হাত ধরে বেরিয়ে গেল। এ্যান্জি যেন পুতুল হয়ে গিয়েছে.. সে শুধু অবাক চোখে ন্যামকেই দেখছে.. হালকা সবুজ টি শার্টের সাথে হুয়াইট পেন্ট আর হুয়াট সু!!চুলগুলো হালকা স্পাইক করা.. মিষ্টি হাসি!! সিন আর ন্যাম একই রকম দেখার শর্তেও এ্যান্জি সিনের সাথে ন্যামের কোন মিল খোজে পায় না...তার কাছে মনে হয় ন্যাম হলো পৃথিবীর সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ..
ন্যাম আর এ্যান্জি হাটতে হাটতে বড় রাস্তায় এসে দাড়ালো. হঠাৎ রাস্তায় এ্যান্জি পিয়ানোর মিষ্টি সুর শোনতে পায়!!. সে এদিক ওদিক খুজে দেখলো রাস্তার একপাশে এক ছেলে পিয়ানো বাজাচ্ছে!! তাকে ঘিরে রেখেছে অনেক মেয়ে ছেলে.. সবাই তার প্রশংসা করছে.. এ্যান্জিও ন্যামের হাত ধরে টানতে টানতে সেইখানে নিয়ে গেল. আর বুকের ওপর হাত গুঁজে মুগ্ধ নয়নে সেইদিকে তাকিয়ে রইলো.
কিছুক্ষণ পর সে মিষ্টি হেসে সেইদিকে তাকিয়ে জিঙ্গেস করলো--- তুৃমি পিয়ানো বাজাতে জান ন্যাম..
ন্যাম হালকা মাথা ঝাঁকিয়ে বলল-- নাহ... কেন???
তখন এ্যান্জি সেই ছেলের দিকে তাকিয়ে বলল-- আমার অনেক ভালো লাগে পিয়ানোর সাওন্ড..তারপর ছেলেটির দিকে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে বলল-- ওফ কতো সুন্দরকরে বাজাচ্ছে ছেলেটা!!
ন্যাম রাগী দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো ছেলেটির ওপর.. তার নিজের ওপর প্রছন্ড রাগ হতে লাগলো..সে নিজেকে নিজে ইয়োজলেস বলে গালি দিল তারপর ডাটাই সার্চ দিয়ে পিয়ানো বাজানো শিখতে লাগলো..
ছেলেটির পিয়ানো বাজানো শেষ সবাই তাকে করতালি দিয়ে স্বাগত প্রকাশ করতে লাগলো।সাথে এ্যান্জিও. তারপর মৃদু হেসে বলল--- চল ন্যাম যাওয়া যাক।।
ন্যাম এ্যান্জির দিকে স্হির দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো!! তারপর সেও গিয়ে পিয়ানোর সামনে বসলো আর বাজানো শুরু করলো..মেয়েরা অবাক চোখে ন্যামের দিকে তাকালো!! অনেক পার্ফেক্ট ভাবে বাজাচ্ছে সে...
এ্যান্জি মুগ্ধ নয়নে ন্যামের দিকে তাকালো!! তার খুশিতে মন ভরে গেল!! অনেকটা প্রাউডফিল করছে সে.. ন্যামের তার প্রতি এতো কেয়ার যেন এ্যান্জিকে ন্যামের প্রতি আরো দুর্বল করে তুলছে.. হঠাৎ সে আশেপাশে মেয়েগুলোর দিকে তাকালো.. মেয়েগুলো নিজের বিএফ রেখে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছে ন্যামর দিকে.. অনেকে তো আবার এক কাঠি সরেশ!! রিতিমতো স্কেন করছে যেন ন্যামকে!! এ্যান্জি ইচ্ছে হচ্ছে সবকটার চুলগুলো একসাথে গিট্টু দেয় সে.. আর সাথে চুইংগাম লাগিয়ে দেয়!! যাতে চোলাচোলি দিতে পারে তারা!!
এ্যান্জির ন্যাম পাশে গিয়ে দাড়ালো আর হাতটা ধরে টানতে টানতে তাকে নিয়ে এলো.. ন্যাম অবাক হয়ে বলল-- কি হলো আবার..
এ্যান্জি নাক ফুলিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে রইলো তখন ন্যাম আলতো করে এ্যান্জির কপালে চুমু দিয়ে দিল... এ্যান্জি অবাক চোখে ন্যামের দিকে তাকালো!! ন্যাম মুচকি হেসে বলল-- আমার তোমাকে অনেক ভালো লাগে এ্যান্জি...
মুহুর্তেই এ্যান্জি কেপেঁ ওঠলো.. অজানা ভালোলাগা যেন তাকে গ্রাস করেছে... সে লাজুক চোখে নিচের দিকে তাকিয়ে রইল আর বলল-- আমার ও তোমাকে অনেক ভালো লাগে ন্যাম.. যেকোন মানুষের চেয়ে ও বেশি...
ন্যামের মুখে এক টুকরো খুশির ঝলক দেখা দিল..সে এন্জির হাত ধরে ব্রিজের ওপর ওঠে বসলো আর ব্রিজের নিজের পানির ধারাগুলো দেখতে লাগলো.. মিষ্টি হাওয়া তাদের দুজনকে ছোয়ে দিয়ে যাচ্ছে বারবার... এ্যান্জি আর ন্যাম নিচের নদীতে পাথর দিয়ে ঢিল ছোড়ছে আর খিলখিলিয়ে দুজন হেসে দেয়.. হঠাৎ এ্যান্জি ছন্দ মিলিয়ে বলে ওঠে...
"" মানত করে নদীতে পাথর ফেলা,,
হাটতে হাটতে হঠাৎ ফিরে তাকানো..
যেরাস্তা দিয়ে তুমি হাট সেখানের সোভাস গায়ে মাখানো,,,
আর তোমাকে চুপি চুপি দেখাটা..
" হুম তোমাকে ভালো লাগে"
এইবলে এ্যান্জি মিষ্টি হেসে দিল.. ন্যাম অবাক চোখে কিছুক্ষণ তাকালো তারপর বলল--
"" তোমার চুলের মিষ্টি দোলা পছন্দ আমার,,
তোমার মিষ্টি হাসিটা আরো বেশি,
যদি কেউ জিঙ্গেস করে তোমার সৌন্দর্যের কথা..
বলবে..
সব আমার পছন্দের তাই..
পছন্দ আমার তাইতো ভালোবাসি তোমায় আমার প্রিয়তমা...
হঠাৎ ন্যামের এই কথা শুনে এ্যান্জির মনের মধ্যে ধুকপুকানি বেড়ে গেল।। সে আড়চোখে ন্যামের দিকে তাকালো।। ন্যামের শান্ত চোখ সামনের দিকে.. এ্যান্জি খুঁটিয়ে খুটিয়ে ন্যামকে দেখছে.. হালকা সবুজ কালারটা ন্যামের গায়ে ফুটে ওঠেছে।। তার সেই মিষ্টি হাসি.. তা যেন মন কাড়া.. ফর্সা মুখে কালো একজোড়া ব্রু আর লম্বা নাক.. ঠোটটাও গোলাপী.. যেকোন মেয়ের স্বপ্নকুমার হওয়ার জন্য যথেষ্ট..
এ্যান্জি মৃদু হেসে দিল সে ভাবলো--- এইসব তো সিনের ও আছে তবু কেন তাকে এতোটা আলাদা লাগে আমার.যেকোন মানুষ থেকে অনেক ভালো এই ন্যাম.. আর ন্যামের কেয়ারিং!! সব কিছু জিবন্ত মনে হয় এ্যান্জিরকাছে..
এ্যান্জি ন্যামের সাথে কাটানো সময়গুলোর কথাভাবে.. এক অসম ভালোবাসায় সিক্ত হয় সে!!এ্যান্জি হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে বিয়ে করলে ন্যামকেই করবে.. বিয়ে হলো মনের মিল..আর শুধু শারীরিক ই কি সব!! এইসব আবোলতাবোল ভাবতে থাকে এ্যান্জি.. হঠাৎ ন্যামের ধাক্কায় চেতনা আসে এ্যান্জির সে অবাক চোখে ব্রু কুচকে তাকায়..
ন্যাম শান্ত ভাবে বলে-- আমার মম এর কাছে যাওয়া দরকারি এ্যান্জি.. সিনের কারনে মম অসুস্থ..
এ্যান্জি নাক ফুলিয়ে বলল-- শালা খাটাস একটা.. কোমাতে থাকতোই ভালো হতো বেরোল কেন কে জানে.. ইচ্ছে হয় আরো কয়েক ঘা দিয়ে তাকে সেইখানেই আবার দিয়ে আসি।
ন্যাম মিষ্টি হেসে এ্যান্জির ফোলানো নাকটা টিপে দিল তারপর বলল-- এ্যান্জি ভাবো কেউ তোমার মতো দেখতে তোমার জায়গায় চলে এলো।। তোমার মমকে মম আর তোমার সবকিছু নিজেই ব্যবহার করলো.. আর সবাই তোমাকে তার সাথে তুলনা করে তোমাকে ছোট করলো তাহলে তোমার কেমন লাগবে?? তুৃমি কি তাকে পছন্দ করবে?? তোমার কি তাকে কম্পিটিটর মনে হবে না??
সিনের ক্ষেত্রে ও তাই..
এ্যান্জি অবাক হয়ে তাকালো তারপর জিঙ্গেস করলো এইসব কি তোমার ডাটায় আছে.. ন্যাম মুচকি হেসে বলল -- এইটা তো জেনারেল নলেজ..
তখন এ্যান্জি দৃঢ় কন্ঠে বলল-- কিন্তু মানুষের মধ্যে চিন্তা শক্তি কাজ করে ন্যাম.. রোবোটের মধ্যে না.. তোমার মধ্যে কিভাবে কাজ করে...
ন্যাম অবাক হয়ে বলল-- আমি জানি না এ্যান্জি..
এ্যান্জি স্হির চোখে তাকিয়ে বলল-- মিসেস লির থেকে জিঙ্গেস করবে তুমি..
ন্যাম হেসে বলল-- জিঙ্গেসের কিছু নেয়.. আমি মেশিন.. ওকে এখন যায়.
এ্যান্জি ন্যামের হাতটা আকড়ে ধরলো তার কেন যেন আজ ন্যামকে ছাড়তে ইচ্ছা হচ্ছে না.. এইটা কি শুধুই তার মনের ভূল নাকি সত্যি কোন বিপদের সংকেত...
পিকে কিংডমে,,
পিটার সিন আর এড্যামকে সামনে নিয়ে বসে আছে.. সিনের নেওয়া হঠাৎ সিদ্ধান্ত ব্যাবসার ওপর লস নিয়ে এসেছে... আর পিটার এইটা ভেবে অবাক যে কয়েকদিনে দক্ষ হয়ে ওঠা সিন হঠাৎ করে কিভাবে আবার আগের সিনে ফিরে এসেছে...
পিটার--- সিন,, এইসব কি কয়েকদিন আগে তো ঠিক ই ছিলে,, আর এখন এইসব কি??
সিনের এইসব শুনে ন্যামের নাম মাথায় চাঙ্গা দিয়ে ওঠলো!! মুহুর্তেই সে হিতাহিত ঙ্ঞান হারালো.. সে চিৎকার করে বলল-- আমার যা ইচ্ছে তা করবো। এই সব আমার!! আমি সবকিছুর মালিক.. তুই কে বলার...
পিটার স্তব্ধ হয়ে গেল.. তার শরীর কেপেঁ ওঠলো সে দাড়ানো থেকে বসে পড়লো..এ্যাডাম সিনকে চুপ করতে বলল তখন সিন তাকেও কিছু কড়া কথা শুনিয়ে দিল..
পিটার অবাক হয়ে সব দেখলো তার বারবার এইকয়েকদিনের স্মৃতি মনে ভেসে ওঠছে.. সে এড্যামকে কাছে ডাকলো.. এড্যাম দৌড়ে এসে পিটারকে ধরলো.. পিটার এড্যামকে অবাক করে দিয়ে এড্যামের হাতটা নিজের মাথার ওপর দিয়ে বলল-- এতোদিন আমাদের সাথে যে ছিল সে কে ছিল এড্যাম..
এ্যাডাম আমাতাআমাতা করতে লাগলো..
পিটার এড্যামের হাতটা আরো জোরে চেপে ধরে বলল-- তোর দাদার প্রশ্নের উওর দে এড্যাম..
সিন ভয় পেয়ে গেল.. সে দৌড়ে দাদার পাশে বসে বলল-- কেন আমি.. সে আমি দাদুভাই.. ওকে আমি আবার ভালোভাবে চলব..
পিটার হাত উচিয়ে তাকে থামিয়ে বলল ----আমি এ্যাডাম থেকে জিঙ্গেস করছি.. এড্যাম বল..
এড্যাম মাথা নিচু করে বলল-- সে একটা রোবোট দাদু.. তারপর সব বলল..
পিটার শুনে স্তব্ধ হয়ে গেল!! ন্যামসিন!!! সে কয়েকবার উচ্চারণ করলো.. তার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো!! তার আজো মনে আছে উইলিয়ামের শেষ কথাটা সে তার বড় ছেলেকে নিয়ে রিসার্চ করেছে যার নাম ন্যামসিন।
পিটারের হঠাৎ বুকের ভিতর ব্যাথা,করে ওঠলো.. পুরোনো জখম যেত তাজা হয়ে ওঠেছে!! আর ন্যামের কথা মনে পড়তেই ন্যামের মাঝে উইলিয়ামের ছবি দেখছে সে..
সিন দৃঢ় কন্ঠে বলল-- যা হওয়ার হয়ে গেছে ওর নাম আর আলোচনা করার দরকার নেই।।
তখন পিটার চিৎকার করে বলল ওর নাম আলোচনা হবে বারবার হবে.. আমার সম্পত্তি পাচ ভাগ হবে, দু ভাগ সিনের, বাকি একভাগ করে ইয়েম, এড্যাম আর ন্যামসিনের...
সিন কিন্তু বলতেই তাকে হাত উচিয়ে থামিয়ে দিল পিটার আর জোড় গলায় বলল-- তুমি এইবার। আসতে পার সিন।। নিজের কটেজে যাও.. আর আমি এখনো বেচে আছি..
সিন রেগে বেড়িয়ে গেল আর পথে ইয়ুতের সাথে তার দেখা.. ইয়ুত আফসোস করে বলল-- বুড়ো বয়সে ভিমরতি ধরেছে তার..আমার একটা প্লেন আছে..
সিন অবাক হয়ে জিঙ্গেস করলো--- কি??
তখন ইয়ুত পৈশাচিক হাসি হেসে বলল--ন্যাম যেমন ই হোক একটা মেসিন তো.. নিশ্চয়ই ওর মধ্যে ভায়োলেন্ড মুড থাকবে.. তখন ওকে আমরা কন্ট্রোল করবো.. আর এতে ও সবার কাছে খারাপ হয়ে যাবে.. কি বল??
সিনের অনেক প্রছন্দ হলো সে খুশিতে ইয়ুতকে জড়িয়ে ধরলো।। কিন্তু ইয়ুত মনে মনে অন্য হিসাব কষছে যা সিনের কল্পনার বাইরে..
চলবে