রোবোটিক হিরো পর্ব--- ১৯

রোবোটিক হিরো


সাদিয়া নওরিন

 
পর্ব--- ১৯
 
এ্যান্জি এখনো মেস্কো শহরে থেকে গেছে গ্রামে যায় নি সে..পিটার কল দিয়ে বলেছে নিজের গ্রামে ফিরে না যেতে সাথে একটা ফ্ল্যাট ও গিফট করে দিয়েছে তাকে.. যদিও এ্যান্জি অনেক মানা করেছে কিন্তু পিটার তাকে অবাক করে দিয়ে বলল-- এইটা সিনের পক্ষ থেকে না ন্যামসিনের পক্ষ থেকে!!!এ্যান্জির মাথায় কিছুই ডুকে নি কথাটার অর্থ.. কিন্তু বয়স্ক মানুষের সাথে তর্কে জড়ায় নি সে..
ফ্ল্যাটটা অনেক বড়.. তিনটা বিশাল বেডরুম সাথে বারান্দা! ড্রয়িংরুমটার একপাশে কোন দেয়াল নেয় পুরোটা গ্লাস আর গ্লাসের পাশে দাড়ালে বাইরে দূরের পাহাড়গুলো চোখে পড়ে.. আর ডানিংরুমের ফ্লোরটা পুরোটা নিল পানিটাইস.. টাইসের ওপর দিয়ে হাটলে মনে হয় পানির ওপর দিয়ে হাটছে...
ফ্ল্যাটটা এ্যান্জির অনেক পছন্দ হয়েছে.. কিছু ফার্নিচার ও আছে যা যা একটি ফেমিলীর জন্য দরকারী!! এ্যান্জি মাষ্টারবেডের সাথে লাগালো বারান্দায় যায়.. এখানদিয়ে রাস্তাটা চোখে পড়ে অনেকটা. মেস্কোর ব্যাস্ত রাস্তাটা দেখতে ভালই লাগছে এ্যান্জির!!! সে এককাপ কফি হাতে নিয়ে বারান্দায় রাখা দোলনায় ওঠে বসে আর দোলখেতে খেতে বাইরে তাকাই..
ইয়ুত এ্যান্জির পিছনে কিছু বডিগার্ট নিয়োগ করেছিল যারা এ সব তথ্য ইয়ুতকে জানায়.. সব শুনে ইয়ুত পৈশাচিক হাসি দেয়...
সিনকে অনেকভাবে বোঝানোর পর ও কেন যেন ন্যামকে ডিস্ট্রয় করতে রাজি হয় নি.. এখন ইয়ুত সহজেই সিনকে রাজি করাতে পারবে.. আর পরবর্তীতে সব দোষ সিনের ঘাড়েই আসবে.. এইহলো সাপও মড়লো আর লাঠিও ভাগলো।। এইসব ভাবতে ভাবতে সে ওয়াইনের গ্লাসে তিপ্তির চুমুক লাগালো... সিনকে কল দিয়ে অতিদ্রুত সে এইসব জানালো সাথে আর কিছু মসলা এড করে বলল যাতে সিনের ওপর সরাসরি প্রভাব দেখাই..
সিনের যেন সবকিছুই অবিশ্বেষ্য মনে হলো... সে কিছুতেই মানতে পারলো না তার দাদা এইসব করছে তাই সে দেখতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল..
গিয়ে যা দেখলো সে অবাক হলো!! যা শোনেছে সবই সত্যি!! সে এ্যান্জির সাথে কথা বলতে সে দিকে তাকিয়ে হাটতে লাগলো তখনই তার ফোনে অপরিচিত নাম্বার থেকে কল এলো।। সে রিসিভ করে অবাক হয়ে গেল!!!
ন্যাম ছিল সেইটা.. সে সিনকে দেখে আর মনে করে হয়তো সিন আবার এ্যান্জিকে বিরক্ত করতে এসেছে তাই সে কল দিয়ে সিনকে ওয়ার্নিং দিতে শুরু করে..
সিনের রাগ এবার সপ্তআসমানে!! সে ন্যামকে গ্যারেজে আসতে বলে!! ন্যাম ওকে বলে ফোন কোটে দেয়...
গ্যারেজে সিন আর ন্যামসিন সামনাসামনি.. সিন স্হির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ন্যামের দিকে!! ন্যাম মাথা উচিয়ে কথা বলতে চায়লে সিন তাকে থামিয়ে দিল!! তারপর ন্যামের চারপাশে কয়েকবার রাউন্ড দিয়ে থেমে গেল...চোখ বন্ধ করে মাথা উচু করে নিজেকে কিছুখন স্হির করলো তারপর বলল-- ন্যামসিন...তুমি কি জান তুমি একটা মেশিন?? তোমার কোন কিছুর দরকার নেই?? এইসব জান তুমি??
ন্যাম অবাক হয়ে তাকালো তারপর মাথা ঝাকালো...
তখন সিন নিজের হাত পকেটে পুরে বলল-- তাহলে কেন তুমি আমার সবকিছু চাইছো"!! আমার জিনিস.. দাদাভাই তোমার নামে ও সম্পত্তি দিচ্ছে...
ন্যাম অবাক চোখে তাকালো.. তখন সিন মাথা ঝাঁকিয়ে বলল-- হুম..তো এড্যাম আর ইয়েম সম্পত্তি পাবে বোঝলাম কিন্তু তুৃমি কোন অধিকারে পাচ্ছ!!
ন্যাম মাথা ঝাঁকিয়ে বলল--- কিন্তু সিন এইসব চায় না আমি..
সিন হেসে বলল-- জানি.. কিন্তু তুমি নিজেকে মানুষের চেয়ে শ্রেষ্ঠ দেখানোর চেষ্টা করেছো আর এতে আমি ছোট হয়ে গিয়েছি.. আগে যে সিনকে সবই শেষ্ঠ ভাবতো তাদের কাছে আজ অামার কোন মূল্য নেয়।। তুমি একটা মেশিন আর তুৃমিও যে নষ্ট হতে পার.. তা আমি সবাইকে দেখিয়ে দিব.. ভেবেছিলাম কিছুই করবো না তোমার
..কিন্তু এখন মনে হচ্ছে কিছু না করলে শেষে আমি ঠকে যাব।
ন্যাম বিশ্ফোরিত সিনের দিকে তাকালো তারপর চোখ বড় করে বলল-- কি করতে চাও তুমি সিন??
সিন হঠাৎ এসে ন্যামর হাতের ঘড়িটা টান দিয়ে খোলে নেয়.আর স্টপ বাঠনে টিপ দেয়.. ন্যাম নিজের ঘড়িটা নিতে চায় কিন্তু নেওয়ার আগে সে ডলে পড়ে...
সিন ল্যাবে কয়েকজন সাইন্টিস্টের সাথে বসে আছে.. তারা অনেকখন ধরে ন্যামকে দেখছে.. অনেকটা বিষ্ময় নিয়ে তাকিয়ে আছে তারা চোখ বন্ধ করে থাকা ন্যামের দিকে.. সিন ব্রু কুচকে তাদের দিকে তাকালো তারপর গম্ভির কন্ঠে বলল-- কি সমস্যা ডুমেন্ট স্যার?? আপনাকে এতো চিন্তিত লাগছে কেন??
সাইটিস্ট ডুমেন্ট চিন্তিত ভঙ্গিতে বলল-- এইটা অবিশ্বাষ্য হলেও সত্য এই রোবোটের নিজস্ব সেন্সর আছে ঠিক মানুষের মতো । ও নিজের প্রোগামের বাইরে ও অনেক কাজ নিজে থেকেকরে..
সিন অবাক হয়ে বলল-- কিন্তু এইটা কিভাবে সম্ভব..
ডুমেন্ট---- সেইটাই আশ্চর্য.. তবে আমার একে নিয়ে লং গবেষনা চালাতে হবে তারপর ই আমি কোন রাই দিতে পারবো.. আর সবচেয়ে বড় হলো ওর হাত.. ওর হাত দিয়ে রক্ত পড়ে.আর...
কথা শেষ হওয়ার আগেই সিনের ফোনে কল আসে.. সবাই ন্যাম কে খুজছে সাথে পিটার ও.. সিন ভয় পেয়ে যায় সে তাড়াতাড়ি করতে বলে.. আর সাইন্টিস্ট জাষ্ট ন্যামের প্রোগামিং এ কিছু চেন্জ করে দেয় আর সিনকে একটা ছোট মনিটর দেয় যা দিয়ে সে ন্যামকে কন্ট্রোল করতে পারবে.. সিন তাকে পেমেন্ট করে ন্যামকে এ্যাক্টিভেট করে আর ন্যামকে নিয়ে বেরিয়ে যায়.. ডুমেন্ট এক দৃষ্টিতে সেইদিকে তাকিয়ে থাকে তারপর নিজে নিজে বলে-- তোমার সম্পর্কে আমার আরো রিসার্চ করা দরকার ন্যাম.. আমার কেন যেন মনে হয় তুমি আমার বন্ধু উইলিয়ামের শেষ রিসার্চ...
পিটার নিজের স্টাডি রুমে বসে বসে নিজের সাথে উইলিয়ামের ছবিগুলো দেখছে.. আনমনেই তার চোখ বিন্দু বিন্দু অশ্রুতে ভরে ওঠল.. সে নিজে নিজে ছবির সাথে কথা বলতে লাগলো--- কিরে উইলিয়াম রাগ করেছিস.. তোর সাথে কথা বলি না তাই.. তুই জানিস আমার সাথে ন্যামসিনের দেখা হয়েছে!! দেখতে সিনের মতো হলেও স্বভাব ঠিক তোর মতো!! এড্যাম বলছিল ও নাকি রোবোট!! কিন্তু আমার মনেই হয় না. তাই ভাবছি লির সাথে দেখা করে জিঙ্গেস করে নিব.. তারপর কিছুখন চুপ করে থেকে আবার বলল-- আচ্ছা শুননা.. ন্যাম হয়তো একটা মেয়েকে ভালোবাসে.. আমার মনে হলো!! তাই তাকে আর গ্রামে যেতে দিয় নি আমি.. হাজার হলেও নাতিবউ!! এইসব বিড়বিড় করতে করতে ড্রয়িংরুমের দিকে এগিয়ে চলল সে... হঠাৎ তার ফোনের রিংটোন বেজে ওঠলো. সে স্কিনের দিকে তাকিয়ে রাগে ফেটে পড়লো!! এইযে ইয়ুত..
সে কল ধরে রেগে গেল আর চিৎকার করতে লাগলো!!! হঠাৎ ইয়ুতের বলা কিছু কথা শুনে মুহুর্তেই স্তব্ধ হয়ে গেল সে.. হাত থেকে ফোনটা পড়ে তিব্র শব্দ করে ওঠলো.. পিটার বিরবির করে বলতে লাগলো --- সিন,, সিন ন্যামসিনকে ডিস্ট্রয় করতে পারে না.. আমি এইটা হতে দিতে পারি না.. এইসব বলতে বলতে সে দরজার দিকে এগুতে লাগলো আর দরজার কাছে পৌঁছে হঠাৎ তার বুকে প্রচুর ব্যাথা আরম্ভ করতে লাগলো!!
সে গেইটের কাছে বসে পড়লো.. এড্যাম দূর থেকে দেখে দৌড়ে এলো!! এড্যাম ধরার সাথে সাথে তিনি এড্যামের কোলে ডলে পড়লো আর অস্ফুট কন্ঠে একটি শব্দ বেরিয়ে এলো--- ন্যামসিন!!!!
এ্যান্জি অনেকখন যাবত ন্যামকে কল দিচ্ছে.. কিন্তু ন্যামের নাম্বারে সংযোগই হচ্ছে না.. শেষে না পেরে এ্যান্জি লিকে কল দিল!! নানা কথা ঘুরিয়ে ন্যামের কথা জিঙ্গেস করলো সে!! সোজাসুজি বললে যদি লি অসুস্থ হয় তাই সেইটা ও গোপন করে সে ফোনটা কেটে দিল...
এ্যান্জির মনের মধ্যে নানা রকম ভয় সৃষ্টি হতে লাগলো কিন্তু সে সব ভয় মাথা থেকে ঝেড়ে ফোন হাতে বাইরে বেরিয়ে গেল..
হঠাৎ সে বাইরে কারো আবছা ছায়া দেখলো.. সে দৌড়ে সেদিকে পৌছালো!! এইযে তার ন্যাম..
এ্যান্জি দৌড়ে তাকে জড়িয়ে ধরলো.. কিন্তু এ্যান্জিকে অবাক করে দিয়ে ন্যাম তাকে নিজের থেকে আলাদা করে ছুড়ে মারলো.. এ্যান্জি বেশামাল হয়ে পাশে দেয়ালের ওপর গিয়ে পড়লো.. সে অবাক হয়ে ন্যামের দিকে তাকালো.. এইটা সত্যি ন্যামকিনা সিউর হওয়ার জন্য তার হাত দেখলো আর সাথে সাথে সে থমকে দাঁড়ালো!! এই যে তার ন্যাম.. সে ন্যামের মুুখে হাত দিয়ে বলল-- ন্যাম... কি হয়েছে তোমার.. সিন কি কিছু বলেছে??
ন্যাম এ্যান্জিকে আরো অবাক করে দিয়ে এ্যান্জির গলা চেপে ধরলো আর বলল-- সিনের সম্পর্কে কোন কিছু শুনতে চায়না লোভী মেয়ে.. লোভ করে পিটারকে হাত করে এইসব বাড়ি নিয়েছ তাই না.. ছি!! তোমার মতো মেয়েকে ঘৃনা করি আমি...
এ্যান্জি স্তব্ধ হয়ে গেল.. তার যেন মনে হচ্ছে এইসব দূর্সপ্ন.. ঘুৃম ভাগলেই চলে যাবে কিন্তু এইসব যে সত্যি!!!
ন্যাম এ্যান্জিকে ছেড়ে দিয়ে হনহনিয়ে চলে গেল আর এ্যান্জি ঐখানেই বসে পড়লো আর চিৎকার করে কান্না করতে লাগলো!! আর তা যেন আকাশে বাতাশে প্রতিধ্বনি হতে লাগলো...
সিন বিল্ডিং এর পাশে দাড়িয়ে সব দেখলো আর মুখে কুৎসিত হাসি টেনে হাসতে লাগলো এইসব কথা যে সিনের শিখানো...
এ্যান্জি সিদ্ধান্ত নিল সে সিনের সাথে দেখা করবে.. সে সিনের কটেজের সামনে গিয়ে দেখলো ন্যামও সেইখানে.. সে রেগে আগুন হয়ে ডুকে সিনের কলার ধরলো আর চিৎকার করে বলল-- তোর মতো হারামী মানুষ আমি আমার বাপের জন্মে ও দেখি নাই সিন. কি করেছিস আমার ন্যামের সাথে এখন ঠিক কর ওকে...
সিন রাগীচোখে এ্যান্জির দিকে তাকালো তারপর হাতঝাড়া দিয়ে নিজেকে মুক্ত করলো.. তারপর নিজের চেয়ারে বসতে বসতে বলল-- ভদ্রভাষায় কথা বল মেয়ে.. এইটা ভদ্র মানুষের বাসা..
এ্যান্জি দিগুন রেগে বলল-- তোর ভদ্রতা ধুয়ে কি আমি পানি খাব.. আমার মাথা গরম করবি না সিন। আমার রাগ ওঠলে তোকে আমি ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে পিঠাবো...
সিনের রাগের সিমানা যেন অতিক্রম করতে শুরু করছে.. সে দাড়িয়ে বলল-- এই টিনের দোকানের জন্য এতো কথা!! দেখ ওকে কি করি আমি!! এই বলে সে ভারী রড দিয়ে ন্যামের হাতে আঘাত করলো... ন্যাম রোবোটিক হাতের চামড়া ছিড়ে ভিতরের তার বেরিয়ে এলো.
এ্যান্জি দৌড়ে ন্যাম বলে তাকে ধরতে গেল. আর ন্যাম অন্য হাত দিয়ে এ্যান্জির হাত চেপে ধরে কটেজের বাইরে ছোড়ে মারলো আর বলল-- সিনের আশেপাশে তোমাকে দেখলে ভালো হবে না মেয়ে.. এইবলে সে দরজা বন্ধ করে দিল...
এ্যান্জি ঐখানে বসে কান্না করতে লাগলো আজ যেন তার নিজেকে বড্ড অসহায় লাগছে.. সে এ্যাডামকে কল দিল সব বলতে কিন্তু এ্যাডামের কথা শুনে সে স্তব্ধ হয়ে গেল.. একসাথে সব বিপদ আসতে যায় কেন?? এসব ভাবতে ভাবতে সে হাসপাতালের উদ্দেশে বেরিয়ে গেল...
সিন ন্যামের হাতটা আবার মেশিন দিয়ে নিজেই ঠিক করে দিল.. সে রোবোটিক আর ডঃ দুইটাই নিয়ে পড়েছে.. তাই এইসব তার জানা আছে.. সে কিছুখন ন্যামকে ঠিক করে চেয়ারে বসিয়ে দিল.. আর নিজে নাস্তা করতে লাগলো.. হঠাৎ তার মনে পড়লো ন্যামের মধ্যে সেন্সর কাজ করে মানুষের মতো.. তাই তার মনে হলো ন্যামের ও খাওয়া দরকার... তাই সে কিছুখন চুপ করে রইলো. কিন্তু কেন যেন সে আর খেতে পারছে না.. ন্যামের দিকে তাকিয়ে নিজের হালকা চিন্তা করে.বলল-- ন্যাম আমার সাথে তুমিও খাও.।
ন্যাম থেংকিও বলে বসে পড়লো । সিন দেখলো ন্যাম একদম তার মতো করে খাই। সিন অবাক হয়ে এমন কিছু খাবার দিল যা তার মুটেও খেতে ভালো লাগেনা. সে দিয়ে চুপ করে তাকালো.. সে অবাক হয়ে দেখলো ন্যাম সেইটা ধরে ও দেখলো না..
সিন ন্যামের কাধে হাত রেখে বলল-- এইটা খাও.
ন্যাম বাচ্চাদের মতো মাথা নাড়িয়ে বলল-- এইটা কি?? স্মেলটা ভালো লাগছে না!!
সিন চমকে তাকালো.. তারপর ওর পছন্দর একটা খাবার এগিয়ে দিয়ে বলল-- আর এইটা...
ন্যাম খুশি হয়ে পুরোটা খেয়ে নিল..
সিন অবাক হয়ে ভাবলো--- মনে হচ্ছে আমার জমজ ভাই..
আবার নিজেকে নিজে বকতে লাগলো এই ভেবে যে সে নিজেই ন্যামের মায়ায় পড়ে যাচ্ছে.. সে নিজেকে বকতে বকতে রুমে চলে গেল...
ন্যাম পুরো কটেজটা ঘুরে দেখতে লাগলো.. এখন সিনের কন্ট্রোল নেয় ন্যামের ওপর.. সে আবছা মেয়েটিকে দেখতে লাগলো.. তার ডাটা ক্লিন করে ফেলা হয়েছে.. কিন্তুতাও কেন যেন সেই মেয়েটির হাসি মাখা মুখ তার সামনে বারবার আসছে.. সে সবজায়গায় মেয়েটির অস্তিত্ব পাচ্ছে.. সে বোঝতেই পারছেনা তার সাথে কি হচ্ছে...
সকালে সূর্যের আলো বারবার সিনের চোখে পড়তে লাগলো!! সিন বিরক্তি নিয়ে এপাশ ওপাশ করতে লাগলো!! হঠাৎ ন্যাম তা খেয়াল করলো যে সিনের রুমে সূর্যের আলো বেশি.. সে আস্তে করে পর্দা টেনে দিল..
সিন ঘুম থেকে ওঠে দেখলো ন্যাম তার সামনে নাস্তা নিয়ে বসে আছে.. সে ন্যামের সাথে নাস্তা শেষ করলো..
কেন যেন সিনের ন্যামের সাথে সময় কাটাতে ভালোই লাগছিল!! সে ন্যামের সাথে পুরো দিল বেডমিন্টন আর ক্রিকেট খেলেই কাটিয়ে দিল.. ফোনটাও সুইচ অফ করে রেখে দিল যাতে কেউ না জালায় তাকে...
ইয়ুতের বডিগার্ট সবটা ইয়ুতকে জানালো.. সে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লো.. বিড়বিড় করে বলল-- এই সিন গাধাটাকে বলেছি কি আর করছে টা কি!! কয়েকটা পাগলের সাথে বাস আমার.. তারপর আচমকা দাড়িয়ে গেল সে.. নিজের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলল-- এইভাবে চললে আমার তীরে এসে তরি ডুবে যাবে. সে মনে মনে কিছু প্লেন করে সিনকে কল দিল..
সিন গোসল শেষ করে মাত্র ফোন অন করলো আর সাথে সাথে ইয়ুতের কল... ইয়ুত যা বলল তা শুনে সিনের পা এর রক্ত মাথায় ওঠে গেল..
ইয়ুত --- সিন,, এ্যান্জি সব পিটারকে বলেছে.. পিটার এখন হাসপাতালে সে কালকে ন্যামকে উওরাধিকারী স্বিকার করবে আর তোমাকে সব কিছু থেকে বঞ্চিত..
সিনকে তারপর তার প্লেনের কথা বলল কিন্তু সিন পিটারকে মারতে চায় না!!
ইয়ুত তাকে এই বলে বোঝালো সব দোষ ন্যামের ঘাড়ে চলে আসবে।। আর পিটার বেচে থাকলে সিনের ই বিপদ.. আরো কিছু বলে সিনের মেজাজ গরম করে দেয়.. আর সিন সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়।।
সিন নিজের ফোনটা টেবিলে রাখতে রাখতে বলে এই এ্যান্জিকে মেরেই ফেলব আমি.. সাথে সাথে তার ফোনের বিস্ফারণ হয়..
সিন ভয়ে ভয়ে ন্যামের দিকে তাকাই. আর নিজে নিজে বিড়বিড় করতে থাকে.. ন্যামের ডাটা থেকে এ্যান্জির নাম মুছে নি!! যা করার তাড়াতাড়ি করতে হবে এইবলে সে বেরিয়ে গেল...
পিটার এখন মুটোমুটি সুস্থ।। কিন্তু তার পা দুটো সেমি প্যারেলাইজ আর এইকারনে তাকে হুইলচেয়ারে থাকতে হবে কিছুূদিন..
এ্যান্জি কিছু ফ্রুটস আর ফ্লাওয়ারবাক্স নিয়ে পিটারকে দেখতে এসেছে.. পিটার বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে।। এ্যান্জি হালকা কিছু আচ করতে পারলো সে পিটারের হুইলচেয়ার নিয়ে ছাদের দিকে হাটা দিল.. রাস্তায় হঠাৎ তাদের ইয়ুতের সাথে দেখয় হয়ে গেল..সেও যেতে চায়লো.. এ্যান্জি তাকে মানা করলো না তার মুখে রহস্যময় হাসি..
চলবে

Post a Comment

Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.