রোবোটিক হিরো
সাদিয়া নওরিন
সাদিয়া নওরিন
পর্ব--- ২২
এ্যামি রুমের এদিকে ঐদিকে পাইচারী করছে..সে যেন নিজেকে শান্ত করতে পারছে না। তারজন্য কারো জিবন যাবে সে সেইটা মেনে নিতেই পারছে না। আর ন্যামকে কোথায় নিয়ে যাবে কি করবে সব তার অজানা.. সে কি করবে কিভাবে করবে..এইসব ভাবনায়,সে অস্তির!! হঠাৎ তার বাবার আওয়াজ শোনা গেল তিনি কারো সাথে ফোনে কথা বলছে তা ও অনেক উত্তেজিত হয়ে. এ্যামি ভাবলো সে আড়ি পাতবে যদিও বিষয়টা খারাপ কিন্তু সে পরোয়া করলো না.. সে আস্তে আস্তে নিজেকে দরজার আড়াল করলো আর এতে সে শুনতে ও পেল কোথায় তারা.. পুরনো গোডাউন.. এ্যামির যেন হাত পা অবশ হয়ে যাচ্ছে.. সে ভাবলো যদি তার দেরী হয়ে যায়.. তার যেন গা হাত কাপছে। সে কিছুখন চিন্তা করলো পরে ভাবলো হালকা রিস্ক হলেও একাজটা তার ই করতে হবে..
সে তার বাবার স্টাডি রুমের বেসিনের প্লাগটা চেপে ধরে পানি ছেড়ে দিল। আর বালতিতে করে পানি এনে নিচে ঢেলে দিল সাথে বাবার প্রিয় দলিলের কাজগুলো ও নিচেই ছেড়ে দিল.. তারপর জানালাটা খুলে দিল যাতে মনে হয় বাতাসে সব পানিতে পড়েছে.. কাগজপত্রগুলোর মধ্যে পানি ছড়িয়ে পড়তে লাগলো.. এ্যামি নিঃশব্দে বেরিয়ে এলো তার আরো কিছু কাজ বাকি...
জন লাইব্রেরিতে পানি দেখে জলদি পিটারের কাছে দৌড়ে এলো।। আর পিটার ফোন সেইখানে রেখে লাইব্রেরির দিকে দৌড়ে গেল...
এ্যামি যেন এইমুহূর্তের জন্য অপেক্ষায় ছিল সে দৌড়ে তারবাবার ফোন নিয়ে বসে পড়লো.. ফোনের লক দেখে এ্যান্জির মাথায় হাত.. বিরবির করে নিজের বাবাকে কিছুখন গালি দিল সে.. তারপর নানা পাসওয়ার্ড দিয়ে ট্রাই করতে লাগলো। একটাও ফিট হচ্ছে না। তারওপর তার বাবা ও চলে আসতে পারে।
এইসব ভাবতে ভাবতে এ্যামির হঠাৎ একটা পাসওয়ার্ড মনে পরলো যদিও তার মনে হল এই পাসওয়ার্ড কখনো দিবে না পিটার। কি মনে করে সে দিয়ে বেকুপ বলে গেল.. বিরবির করে বলল--- আজব পাবলিক!!! প্রোপার্টি কারো পাসওয়ার্ড হয়!!! সে ফোন থেকে লি আর এ্যামির নাম্বারটা টুকে নিল.. আর ফোন আগের জায়গায় রেখে দিল...
এ্যামি ভাবলো তার আর কি কি করা দরকার। কিছুখন চিন্তা করল সে তারপর লিকে কল দিয়ে সবটা জানালো.. লি অবাক হয়ে রইলো.. যেন তার বিশ্বাসি হচ্ছে না। সিন এমনটা করতে পারে।। কিন্তু এ্যামির কথাও যে ফেলনা নয় সে বোঝতে পারলো। আর তাই ফোনের লাইন কেটে বেরিয়ে গেল গন্তব্যের দিকে...
এ্যান্জি এ্যামির কথা শুনে কিছুখন স্তব্ধ হয়ে রইলো. তর পুরো শরীর কেপে ওঠলো যেন.. এমন হবে সে মুটেও কল্পনা করেনি.. সে কান্না গোপন করে এ্যান্জি ধন্যবাদ জানিয়ে বেরিয়ে গেল..
ন্যাম সিনের সামনে দাড়িয়ে আছে। তার বিষ্ময় ভাবটা এখনো কাটে নি। সিন সেদিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্য হাসি দিয়ে বলল-- তোমাকে মারার কোন ইচ্ছে ছিলনা আমার ন্যাম। কিন্তু তোমরা অতিরিক্ত করছো যা মেনে নেওয়া আর সম্ভব নয়। এবলে সে সিড়ি দিয়ে ওপরে ওঠে কিলিং সুইচের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো.. তারপর কয়েকটা সুইচ একেবারে টিপে দিল.. মুহুর্তেই ন্যামের ওপর তার প্রভাব দেখা দিতে শুরু হয়ে গেল.. ন্যামের মনে হচ্ছে তার পা তার শরীর থেকে আলাদা হয়ে আসছে.. সে ধুপ করে বসে পড়লো..নিজের হাত ও পার ওপর নিয়ন্ত্রন হারাচ্ছে সে!! নিজেকে বড় অসহায় মনে হচ্ছে আজ তার।
হঠাৎ লি দৌড়ে এলো!! লির বাসা থেকে জায়গাটা অনেকটা কাছে..তাই সে শোনার সাথে সাথে বেরিয়ে পড়েছে। সে চিৎকার করে বলল-- সিন,, তোমার কি মাথা খারাপ?? কি করছ...
সিন ভ্রুকুটি করলো তারপর চিৎকার করে জবাব দিল-- আমি আমার কাছ করছি.. কিন্তু তুমি হয়তো নিজের দায়িত্ব ভুলে গিয়েছ। একজন মা এর দায়িত্ব.. লির চোখ দপ করে জ্বলে ওঠলো। ন্যামের এই অবস্হা দেখে লির যেন আর ধৈর্যের বাধ ভেঙ্গেছে.. সে সমান গর্জে বলল-- আমি আমার দায়িত্বই পালন করছি সিন.. একজন মা হিসেবে যা দ্বায়িত্ব তাই করছি. আর এছাড়া ন্যাম ও আমার ছেলে সুতরাং..
সিন লিকে হাত উঁচিয়ে থামিয়ে দিল রাগে সম্পূর্ণ শরীর কাঁপছে তার। সে নিজেকে আর সামলাতে পারলো না আার জোরে কিলিং সুইচে কিল দিয়ে গোডাউন থেকে বেরিয়ে গেল...
ন্যাম ধুপ করে ফ্লোরে পড়ে গেল.. লি তাকে ধরে রাখতে পারলো না..চোখ হালকা খোলা আর ঘড়িতে টাইমার শুরু হয়ে গিয়েছে.. লি ন্যামের মুখের কাছে ধরে কিছুখন আদর করলো হঠাৎ তার ঘাড়ের সুইচের কথা মনে পড়ে গেল..সে আলতো করে সেইটিতে চাপ দিল আর সাথে সাথে ন্যাম অল্প অল্প নড়তে লাগলো.. লি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলল-- ন্যাম আমার সোনামনি.. এখন ঠিক হয়ে যাবে তুমি.. আর এই টাইমারটা ও আমি ঠিক করে দিব..সব ঠিক করে দিব আমি..
ন্যাম হালকা চোখ খুলে বসে পড়লো. তার পা এখনো কোন জোর নেয়.. সে মম বলে তাকালো আর মৃদু দুঃখভরা হাসি হেসে বলল-- আমার হাতে আর বেশি সময় নেয় তাইনা মম...
লি তাড়াতাড়ি ন্যামের মুখে হাত দিয়ে বলল-- এভাবে বলিওনা সোনা.. আর একটা কথা ন্যাম..
ন্যাম অবাক চোখে তাকিয়ে বলল-- কি মম??
তখনই হঠাৎ ওপরে ঘুড়মুরে শব্দ হতে লাগলো!! লি অবাক হয়ে ওপরে তাকিয়ে যা দেখলো সে অবাক হয়ে গেল.. সে এক ঝটকায় ন্যামকে সরিয়ে দিল আর নিজে ড্রামের নিচে চাপা পড়ে গেল!!!
ইয়ুতের হঠাৎ এ্যামির এইসব সন্দেহজনক মনে হয়.. সে নিজের রুমে এসে দেখে সে যেইভাবে ফোন রেখেছে সেইভাবে নেই.. ইয়ুত বোজতে পারলো তার পাকা ধানে মই দেওয়ার ব্যাবস্হা এ্যামি করে রেখেছে!! তাই সেও বেরিয়ে গেল..
গোডাওনে লি আর ন্যামকে একসাথে দেখে ইয়ুত রেগে একাকার হয়ে ওঠলো. সে ওপরে ঝোলন্ত ড্রামের রশি টেনে দিয়ে কেউ দেখার আগেই বেরিয়ে গেল।।
ন্যাম মম বলে লির কাছে হাটুতে ভর দিয়ে ওঠে আসলো আর বলল-- মম,, কিছুহবে না আপনার। আমি আপনাকে ঠিক ই ডঃ এর কাছে নিয়ে যাব...
লি ন্যামের শার্ট খামচে ধরলো আর বলল-- কোথাও যাওয়ার দরকার নেই ন্যাম। আমার সময় অনেক কম. যা বলছি মন দিয়ে শুনো ন্যাম..
ন্যাম কিছু বলবে তার আগে লি তাকে থামিয়ে দিয়ে বলল আমার কথা শেষ হয় নি ন্যাম।
তারপর হালকা কেপেঁ ওঠলো লি.. ন্যাম লিকে নিজের সাথে জড়িয়ে নিল.. লি আদোজড়ানো কন্ঠে বলল--- তুৃমি মানুষ ন্যাম...
ন্যাম চমকে লির দিকে তাকালো!! সে যেন বুঝতেই পারছেনা তার মা কি বলতে চায়। লি হালকা দম নিয়ে আবার বলল-- হুম ঠিক ই শুনেছ ন্যাম... তুমি মানুষ. আমার ছেলে তুমি ন্যাম!! তুমি সিনের জমজ ভাই.. বলতে গেলে ওর বড়ভাই তুমি!!
ন্যাম বিস্ফারণ চোখে তাকালো লির দিক.. এইসব তার ভিতর যেন ঝড় তুলছে!! লি দীর্ঘ দম নিয়ে বলল-- সিনের খেয়াল রেখ ন্যাম.. তাকে জানিও তার মম তাকেও অনেকটা ণ্ভালোবাসে..
এইটা বলতে বলতেই লি নিস্তেজ হয়ে ওঠলো..ন্যাম" মম মম "" বলে লিকে ঝাঁকাতে লাগলো..
হঠাৎ এ্যান্জি ঐ জায়গায় পৌছে গেল. তার ও কান্না আসছে কিন্তু সে নিজেকে সামলে নিল আর ন্যামকে শক্ত করে ধরে গাড়ির মধ্যে বসিয়ে দিল!! সাথে মুখে রুমাল!! যাতে কেও তাকে চিনতে না পারে....
ন্যাম যেন পাথর হয়ে গিয়েছে. তার ওপর এতো বেশি প্রেসার পড়েছে যে সে পাথরের মতো নিস্পল চোখে সামনের দিকে তাকিয়ে রইলো।
ইয়ুত লি মরার খবর সংবাদ মাধ্যমের মাধ্যমে চারিদিকে ছড়িয়ে দেয়। আর খুনি হিসেবে ন্যামকে টেলিকাষ্ট করতে থাকে..
এ্যান্জি ন্যামকে নিয়ে চলে যাচ্ছে অনেক দূরে.. এতোটা দূরে যাতে কেউ ন্যামকে খুজে ও না পায়.. এ্যান্জি ন্যামকে হারাতে চায়না.. একেবারেই না..
তারা গাড়ি থেকে নেমে একটা কটেজে ডুকলো.. এইটা মুলত স্মিতের কটেজ.. এই কটেজের সম্পর্কে তেমন কেউ জানে না। এ্যান্জি স্মিতকে বারবার ধন্যবাদ জানালো। এর বদলে স্মিত মিষ্টি একটা হাসি উপহার দিল আর বলল-- ন্যাম আমার ভাগিনা। আর আমি জানি ন্যাম এইসব করতে পারে না...
ন্যাম এখন সুস্হ শুধু তার টাইমারটা বন্ধ হয় নি.. দুই দিন পর হয়তো ন্যাম মারা যাবে.. এ্যান্জি ন্যামের কাছে বসে পড়লো আর ন্যামের গালে হাত রেখে বলল-- ডোন্ট ওয়ারি ন্যাম.. আমরা অতিস্তত্তর তোমার টাইমার এর বিপক্ষে কি এ্যাকশন নেওয়া যায় দেখব.. ন্যাম দুঃখীমুখ করে বলল-- যদি ঠিক না হই আমি.. এ্যান্জি দৃঢ় কন্ঠে বলল-- তাহলে এই দুদিনের জন্য হলেও বিয়ে করে নিব তোমাকে আমি... আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি ন্যাম.. এইবলে কাঁদতে লাগলো সে..
ন্যাম এ্যান্জিকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল.. নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিল তাকে সে!! তারপর আলতো করে নিজের ঠোট এ্যান্জির ঠোটে ডুবিয়ে দিল!! এ্যান্জি পরম আবেশে তা নিজের দিকে টানতে লাগলো...
সিনের কেন যেন অনেক কষ্ট লাগতে লাগলো!! সে নিজের মনের শান্তির জন্য ন্যামকে মেরেছিল তাহলে কেন তার এতো কষ্ট হচ্ছে... সে টিভি টা ছেড়ে তার সামনে বসে পড়লো।। হঠাৎ নিউজ দেখে সে আতকে ওঠলো। আর সে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো.. সে তার মমের এই পরিনতি চায়নি সে কখনো...
হঠাৎ তার ফোনের রিংটোন বেজে ওঠলো...
মি ডুমেন্টের কল দেখে চরম বিস্ময় নিয়ে সে কলটা ধরলো.. আর ডুমেন্ট যা বলল তা শুনে সে আতকে ওঠলো... অবাকের চরম সিমানা যেন ক্রাস করছে সে...
ডুমেন্ট ---- সিন,, শুনলে অবাক হলেও এইটাই সত্যি ন্যাম একজন মানুষ. আর তোমার বাবা উইলিয়াম হয়তো তাকে নিয়ে রিসার্চ করছিল...
সিনের হাত থেকে তার ফোনটা ফ্লোরে পড়ে স্বশব্দে ভেঙ্গে গেল.. সে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেল লির বাড়ির উদ্দেশ্যে...
বাড়িতে ডুকে সে বড়সড় একটা ঝটকা খেল.. অনেক সুন্দর করে সাজানো আর তাতে লিখা----
"" হ্যাপী বার্থডে সিন,, আমি জানি আমার তুমি আমার ওপর রেগে আছো। কারন আমি ন্যামকে বেশি দেখতে পারি কিন্তু এইটাই সত্যি তোমাকে সবচেয়ে বেশি ভালবাসি আমি। আর সে তো তোমার ই ভাই তাকে ও তো কেয়ার করা দরকার কি বল?? অবাক হলেও সত্যি সিন,, ও তোমার বড় ভাই.. তোমাদের সুস্হতার জন্য যে মেডিসিন নিয়েছিলাম তার খারাপ রিয়েকশন সে নিজের ওপর নিয়েছিল.. যার কারনে তুৃমি আজ সুস্হ.. হুম সিন।। ডঃরা এইটাই বলে.. আর এছাড়া....
সিন আর শেষ করতে পারলো না তার আগেই তার পিঠে ঠান্ডা শক্ত কিছু এসে ঠেকলো.. এই যে পিস্তল!!!
ন্যাম জমে গেল.. সে পিছনে ফিরে অবাক হয়ে বলল-- ইয়ুত আপনি???
ইয়ুত মুখে কুৎসিত হাসি টেনে বলল-- এক ভাইকে মায়ের খুনের দায়ে আসামী বানিয়েছি আরেক ভাইকে মরতে হবে.।
সিন রেগে তাকে ঘুসি মারতে গেল আর ইয়ুতের লোকজন সিনকে মারতে লাগলো....
ন্যাম মনমরা হয়ে বাইরের তুষারবৃষ্টি দেখছে. আজ তার কষ্টটা প্রবল কারন সে জানে সে মানুষ। কিন্তু কাউকে বলতে ও পারে না সে এইটা...
হঠাৎ তার ফোন বেজে ওঠলো.. হ্যালো বলার সাথে সাথে ওপারের কান্নার শব্দ.. ন্যাম অস্ফুট কন্ঠে বলল-- এ্যামি..
এ্যামি--- ন্যাম,, সিনকে বাচাও.. আমার বাবা ওকে মেরে ফেলবে। মিসেস লিকে ও ওনি মেরেছেন...
ন্যামের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। সে দাতে দাত চেপে বলল --- সিনের কিছু হবে না...
এ্যান্জি ন্যামকে আটকাতে চায়লো কিন্তু ন্যাম রাগী চোখে এ্যান্জির দিকে তাকিয়ে বলল-- সিন আমার ভাই.. আমি বেচে থাকতে ওর কিছু হতে দিব না...
তখন এ্যাডাম ন্যামের পাশে এসে দাঁড়ালো আর বলল-- ন্যাম আমার ভাই.. সুতরাং আমি কিভাবে আমার ভাইকে একা ছাড়ি.. একসাথে যাব..
ন্যাম মুচকি হেসে এ্যান্জি আর ইয়ুতকে নিয়ে বেরিয়ে গেল...
সিনকে একটা রুমে বাধা হয়েছে.. অনেকে পাহারাই আছে। হঠাৎ অনেক শব্দ শুনতে পেল সিন.. আর দেখলো পাহারাদাররা ঢলে পড়ছে. সিন সামনে দেখলো ন্যাম দাড়িয়ে.. সে ন্যাম বলে কিছু বলতে চায়লো কিন্তু ন্যাম দৃঢ় কন্ঠে বলল-- এই শহর থেকে চলে য়াও.. এ্যাডাম তোমার জন্য স্টিমার ভাড়া করেছে একটা.. সে দিকে যাও।
সিনকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে তাকে সেদিকে পাঠালো.. হঠাৎ ভাবলো ইয়ুত আর জন কোথায়.. তাদের নাম্বার ট্রেগ করতেই আতকে উঠলো ন্যাম। সে কাউকে কিছু না বলে দৌড় লাগালো...
ইয়ুত পুরো জায়গাটা চষে ফেলছে হঠাৎ পানির কাছে এক সমতলে দেখলো সামনে সিন দাড়িয়ে... সবাই তাকে গুলি করতে চাইলো কিন্তু ইয়ুত থামিয়ে দিল সে বলল হাতের ওপর লাইট ফেল এইটা ন্যাম ও হতে পারে...
সিন স্টিমারের ওপর থেকে নেমে আসতে চায়লো কিন্তু ন্যাম চোখের ইশারাই নামতে মানা করে দিল.. তারপর নিজের হাতের ঘড়িটা পানিতে ফেলে দিল.. সিন কান্না করে ওঠলো.. সে বারবার আসতে চায়লো কিন্তু ন্যাম তাকে মানা করে দিল..
এ্যান্জি দৌড়ে এসে যেই ন্যাম বলতে যাবে ন্যাম চিৎকার করে বলল-- কাপুরুষ.. এতো ভয় কিসের যদি সাহস হয় আমার বুকে গুলি করে দেখাও..
ইয়ুত রেগে হাতের দিকে লাইট ফেলে বলল-- এইটাই সিন...
এইবলে সবাই তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়তে লাগলো.. সিনের বুকে এসে লাগলো দুইটা... ঘড়ির কারনে এমনিতেও সিনের পাওয়ার অফ হতে লাগলো সে ঢলে পড়লো পানি তে.. আস্তে আস্তে ডুবতে লাগলো সে.. আর তার পাওয়ারের সব লাইট অফ হতে লাগলো....
এ্যান্জি ন্যাম বলে চিৎকার করে কান্না করে ওঠলো.. আর সিন স্তব্ধ হয়ে একটা বসে পড়লো তার মুখ থেকে একটাই শব্দ বেরিয়ে এলো--- ভাইয়া....
চলবে...