রোবোটিক হিরো
সাদিয়া নওরিন
পর্ব--- ২১
ন্যাম রেডি হয়ে এদিকে ওদিকে পাইচারী করছ.. পিটার আর এ্যাডাম মুচকিহেসে বিষয়টা দেখছে.. ন্যাম বিড়বিড় করে বলল-- মেয়েদের এতোখন কেন লাগে.. কি এমন করে তারা বদ্ধ রুমে.!!
কিছুখন পর এ্যান্জি বেরিয়ে আসে.. ন্যাম অবাক পুলকিত চোখে এ্যান্জির দিকে তাকিয়ে আছে.. মেয়েটা অদ্ভূত সুন্দর!! ন্যাম ভাবলো.. লাল টকটকে একটা গাউন পড়েছে এ্যান্জি,, পেটের জায়গাটা হালকা ফারা.. সেখান দিয়ে তার নাভীটা দৃষ্যমান! নাভিতে স্টুন ও পড়েছে সে.. গলায় তার সেই রকেট.. হাতে লির দেওয়া চুড়ি জোড়া.. কানে ডায়মন্ডের ছোট টপ.. চুলগুলো ছেড়ে দিয়েছে.. আর সাজের মধ্যে স্মোকি আইস আর হটপিংক লিপিস্টিক!! ন্যাম এ্যান্জির দিকে হা হয়ে তাকিয়ে আছে.. এ্যাডাম এসে ন্যামের হা করা মুখটা চেপে বন্ধ করে দিল তারপর কানে কানে বলল-- এইবার বুঝলে মেয়েরা এতোক্ষন কি করে...
ন্যাম মৃদু হেসে তাকালো.. যে কোন অপ্সরীর রুপও এ্যান্জির কাছে হার মানবে...
এ্যান্জি ব্রু কুঁচকে ন্যামের দিকে তাকালো তারপর মুখ বাকিয়ে বলল--- এইটা কি পড়েছ???
ন্যাম অবাক হয়ে বলল-- কেন?? ড্রেস...
এ্যান্জি মুখ বাকিয়ে ন্যামের কথা রিপিট করল তারপর বলল-- ন্যাম এইড্রেসে তোমাকে সিনের মতো লাগছে। আর আমার ন্যাম চায় সিন না.. সুতরাং যাও গিয়ে ন্যামের ড্রেস পড়ে আস..
ন্যাম আবাক হয়ে বলল ড্রেসে কি নাম লিখা আছে নাকি.. এইসব বিড়বিড় করতে করতে সে ড্রেস চেন্জ করে চলে গেলো.. সে বেরিয়ে দেখলো এ্যান্জি ড্যাবড্যাব করে তার দিকে তাকিয়ে আছে...
রেড টিশার্ট, হুয়াট ট্রাওজার আর হুয়াট শু.. চুলগুলো ভলিওম করা. এ্যান্জির কাছে মনে হচ্ছে স্বপ্ন দেখা কোন রাজকুমার!! ন্যাম মুচকি হেসে এ্যান্জি সামনে এসে বলল তাকিয়ে থাকবে নাকি যাবে??
এ্যান্জি হালকা ইতস্তত বোধ করলো.. এইভাবে বলার কি আছে সে ভাবলো. তারপর পিটার আর এ্যাডামকে বাই দিয়ে তারা বেরিয়ে গেল...
ন্যাম আর এ্যান্জি একটি বড় ফ্যাশন হাউজে ডুকলো যেখানে সারি সারি ব্রাইডাল ড্রেস...
একটা গাউনে এ্যান্জির চোখ আটকে গেল!! অফ হুয়াইট একটা গাউন.. পিছনের পার্টটা বিশাল.. পুরো বডি লেমনস্টুনে কাজ স্লিভলেস গাউন আর হাতে হাত মোজা.. এ্যান্জির ড্রেসটা অনেকটা পছন্দ হয়ে গেল.. সে ড্রেসটা কিনে নিল আর একটা হুয়াট টাইরা.. ক্রিস্টেলের পেন্সিল হিলও কিনল সে.. যদিও সে এই হিল নিয়ে হাটতে পারে না..তবুও মনে মনে বলল-- এইটা আর কঠিন কি.. শিখে ফেলব.. এইসব ভাবতে ভাবতে কিনে নিল...
অন্যকিছু সপে গিয়ে তারা টুকিটাক শপিং করলো.. ন্যামের জন্য কিছু ড্রেস। আর বিয়ের জন্য হুয়াট সুটকোর্ট..
শপিং শেষে এ্যান্জি আর ন্যাম হাটতে হাটতে চলে আসার সিদ্ধান্ত নিল.. আর শপিংগুলো বাসায় ডেলিভার করে দিতে বলল তাদের!!
শুনশান রাস্তা দিয়ে হাটছে তারা.. হঠাৎ ন্যাম হাটুগেড়ে এ্যান্জির সামনে বসে পড়লো হাতে একটা ডায়মন্ড রিং.. সে মুচকি হেসে বলল-- আই লাভ ইউ এ্যান্জি.. জানিনা এই ফিলিংসটা কি.. আর যা আমার মনে আছে তা পুরোপুরি শুধুই তোমার জন্য.. অন্যরকম অনুভূতি হয় আমার যখন তোমার ঐ মায়াবী চোখের দিকে তাকাই.. তোমাকে সবকিছু দিতে পারবো পারবো কিনা যানি না তবে কষ্ট দিব না...
এ্যান্জি আবেগপ্লুত হয়ে ন্যামকে জড়িয়ে ধরলো.. তার আজকে নিজেকে বড্ড সুখি মনে হচ্ছে.. আবার তার ভাবনা হচ্ছে সত্যি কি এতো সুখ তার কপালে সয়বে?? নাকি হারিয়ে যাবে।। ভবিষ্যতের ব্যাস্ততা।
আজ বেস্ট বিজনেসম্যান এ্যাওয়ার্ড ফাংর্শন. আর সিন জানে আজকের এ্যাওয়ার্ডটা সে ই পাবে!! কারন ন্যামের করা "পার্ফেক্ট কার" একটি সার্বজনিক কার.. আর অনেক কম সময়ে এই প্রজেক্ট কমপ্লিট করেছে সে আর তা মার্কেটেও অতিদ্রুত আসবে। কারন মেজর কাজগুলো কমপ্লিট!! সিন তার মমকে মন থেকে একবার ধন্যবাদ দিবে ভাবলো ন্যামকে বানানোর জন্য.. আবার ভাবলো থাক ন্যামকে তো আর সিনের জন্য বানায় নি তিনি.. বানিয়েছে নিজের স্বার্থে তাই সে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো হঠাৎ সে ভাবলো এ্যামিকে তো বলায় হয় নি মেয়েটার ওপর সে অনেকটা অন্যায় করে ফেলছে হয়তো!! এইসব ভাবতে ভাবতে সে এ্যামির রুমে গেল..
এ্যামি নিজের পিকচারগুলো ফোনের মধ্যে দেখছিল.. সে ভাবলো সে সিনের সাথে কোথাও যাবে না।। কেন যাবে সে,, তাকে কি সিন বলেছে.. সে অভিমানী সুর করে বিড়বিড় করে বলল.. হঠাৎ কেউ তাকে পিছনদিক থেকে জড়িয়ে ধরলো!! সে চমকে পিছনে তাকিয়ে দেখলো সিন!! সে অভিমান করে মুখ ফিরিয়ে নিল.. সিন মুচকি হেসে তার পাশে বসে পড়লো আর বলল-- এ্যামি.. সরি তোমাকে সময় দিই নি এতোদিন.. আর এমন হবে না. আজ থেকে নো এ্যান্জি নো ন্যাম.. শুধু তুমি আর আমি.. আর কারো পিছনে ছোটব না আমরা.. ওকে??
এ্যামি খুশি হয়ে সিনকে জড়িয়ে ধরলো আর বলল-- হুম. থেংকিও সিন। এইভাবেই থাকবে.. আর কোন জামেলা চায় না আমি. আর আজ তোমার অনেক দিনের শখ পূরন হলো.. আর তা ন্যামের জন্য..
এইটা শুনার সাথে সাথে সিনের হালকা মুড অফ হয়ে গেল.. কিন্তু সে এইটা এ্যামিকে দেখালো না। তার বদলে সে একটা মুচকি হাসি দিল.. এ্যামি হঠাৎ কি মনে করে ফোনটা হাতে নিল আর হেসে বলল-- আমার আজ ওদের সাথে দেখা হয়েছিল.. সিন অবাক হয়ে বলল-- ওরা কারা??.
তখন এ্যামি পিকটা দেখালো তারপর হেসে বলল এরা।। সিন নরমালি দেখলো দেখলো ন্যামের হাতে একটা ব্যাগ কিছু লিখা কিন্তু সে এতো ভালোভাবে দেখলো না.. সে এ্যামিকে নিয়ে বেরিয়ে গেল অনুষ্ঠানের জন্য..
বড় একটি মাঠে এ্যাওয়ার্ড অনুষ্টানের আয়োজন করা হয়েছে.. শহরের গণ্যমান্য ব্যাক্তিরা সমাদৃত.. সুন্দরী মেয়েরা মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে নানা রকম মুখভঙ্গি করছে..আর সবাই নিজেদের মধ্যে হালকা গল্পের মাধ্যমে অনুষ্টান এ্যান্জয় করছে.. মেস্কো শহরের বেশির ভাগ মানুষ এখানে.. শেষে এক এ্যাঙ্কার বেস্ট বিজনেসম্যান এর নাম ঘোষনা করল.. সিন!!!
সবাই করতালি দিয়ে সিনকে প্রশংসিত করতে লাগলো!! তখন হঠাৎ সেইখানে আর একজন এসে উপস্হিত হলো.. হুয়াট টিশার্টের ওপর ব্লেক জ্যাকেট,,, হুয়াট ট্রাওজার, ভলিওম চুল..চোখে মিষ্টি হাসির ঝিলিক.. উপস্হিত সকলে স্তব্ধ.. প্রিন্সা অবাক হয়ে পিটারের দিকে তাকালো আর পিটার মুচকি হেসে তাকালো.. পিন্সা কি বুঝলো সে নিজেই জানে.. হালকা ব্রু কুচকালো শুধু.. তারপর সব নরমাল.. কিন্তু সিন নিজের হাতা মুঠ করে ফেলল.. সে তাড়াতাড়ি স্টেজে উঠে পড়লো.. আর যেই মাইক হাতে নিবে পিটার দাড়িয়ে গেল আর এতে তার ওপর এসে লাইট পড়লো...আর সে হালকা গলা খাকিয়ে তারপর মোলায়েম কন্ঠে বলল-- হাই এভ্রিওয়ান,, সবার মনে অনেক প্রশ্ন থাকতে পারে।। কে এই যুবক.. তাহলে আমি এর পরিচয় দি.. এ হলো ন্যামসিন. আসল এ্যাওয়ার্ডের মালিক...
জনতার মাঝে গুনঝন শুরু হয়ে গেল.. তারা কানাকানি করতে লাগলো..
সিন পরিস্থিতি ঠান্ডা করতে বলল---- সে একজন রোবোট,,আমার মম আমাকে সাহায্যে করতে বানিয়েছে.. আর তাই দাদু এইভাবে বলছে...
তখন হঠাৎ একজন বিচারক দাড়িয়ে বলল-- হেয় সিন.. তুমি কি প্রজেক্টটা সম্পর্কে কিছু বলতে পারবে।। সিন চুপ করে দারিয়ে রইলো. সে আসলেই বোঝলো না সে কি বলবে.. কারন সে হালকাও প্রজেক্টের কোন থিম দেখে নি. জেনারেল নলেজ ও নাই এই বিষয়ে...
সিন চুপচাপ দাড়িয়ে রইলো!! তখন তারা ন্যামকে স্টেজে ডাকলো ।। ন্যাম স্টেজে ওঠে এলো আর পুরো প্রজেক্টের সুবিধা অসুবিধা সহ সব বর্ননা করতে লাগলো...
২য় বিচারক করতালি দিয়ে দাড়িয়ে গেল আর পিটারের দিকে তাকিয়ে হেসে বলল-- you r right piter... he actually deserve this respect...
সবাই করতালি দিয়ে ন্যামের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে লাগলো কিন্তু তাদের এই প্রশংসা সিনের নিজের পিঠে বেত্রঘাত করছে বলে মনে হলো.. সে হনহনিয়ে স্টেজ থেকে নেমে বেরিয়ে আসতে চায়লো.. সংবাদ মাধ্যম তাকে ঘিরে ধরলো আর একের পর এক প্রশ্ন করতে লাগলো. সে হালকা হেসে রাগ চেপে রেখে বলল-- ও একটা মেশিন.. আর তাই ওকে নিয়ে মাতামাতি করার কিছুই নেয়.. হুম যদি সে মানুষ হতো লাইক আমার ভাই। আমি অবশ্যই তাকে নিয়ে মাতামাতি করতাম...এই বলে সে হনহনিয়ে বেরিয়ে গেল আর ন্যাম তাকিয়ে রইলো তার যাওয়ার পানে..
এ্যামিদের বাসায় বসে গ্লাসের পর গ্লাস ওয়াইন খাচ্ছে সিন.. তাকে সার্ভ করছে স্বয়ং ইয়ুত.. এ্যামি এসে নাক কুচকে সব ফেলে দিল আর ধুপ করে বসে পড়লো সিনের পাশে।। আলতো মায়াভরা কন্ঠে বলল-- সিন। এমন করো না বাদ দাও.
সিন গর্জে ওঠে বলল-- বাদ দাও??? কেন? তোমার কেন ওর জন্য এতো দরদ উওলে পড়ছে।
এ্যামি ব্রু কুঁচকে তাকালো!! ইয়ুতের মুখে তৃপ্তির হাসি!!যেন সে অনেকটা মজা পাচ্ছে সিনের কথায়...
এ্যামি বরাবরেরে মতো নাক সিটকে বেরিয়ে আসতে চায়লো হঠাৎ সিন টেনে তাকে বসিয়ে তার হাত চেপে ধরলো..
আর হেসে বলল-- এইন্যামকে পিছু ছাড়াতে হলে তাকে মারতেই হবে কিন্তু কিভাবে??
তখনই হঠাৎ তার এ্যান্জির ফোনের পিকের কথা মনে পড়ে গেল তার সে তাড়াতাড়ি এ্যান্জির ফোন নিয়ে আবার দেখতে লাগলো আর দেখতে দেখতে তার চোখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠলো.. সে খুশিতে লাফিয়ে ওঠলো..তারপর বলল-- হ্যাপী বার্থডে সিন.
এ্যামি চমকে সিনের দিকে তাকালো তারপর অবাক হয়ে বলল-- সিন কালকে তোমার বার্থডে. আজকে না.. সিন মুখে রহস্যময় হাসি দিয়ে বলল-- হুম জানি।। আর কালকে আমি নিজেকে সবচেয়ে বড় গিফটটি দিতে যাচ্ছি..
এ্যামি কনফিউজড চোখে বলল-- সেইটা কি??
সিন-- ন্যামের মৃত্যু. এইটা ন্যামের কিলিং সুইচ.. আর এইটাই টিপ পড়লে সিন কয়েকদিন অথবা কয়েক ঘন্টায় মারা যাবে..
এ্যামি চমকে ওঠে তাড়াতাড়ি নিজের ফোনটা সিন থেকে নিতে চায়লো কিন্তু সিন তা নিজের পকেটে পুরে নিল.। এ্যামি ব্যাস্ত হয়ে বলল-- সিন,, তোমাকে নেশায় ধরেছে তাই ভূলভাল বকছ। তুৃমি খুন করবে??
সিন মুখ বাঁকিয়ে বলল-- কোন মেশিনকে মারলে সেইটা খুন হয়না বোকা মেয়ে নিজের রুমের যাও। আর গার্ডদের বলে দিল যাতে এ্যামি কোন মতে বেরোতে না পাড়ে রুম থেকে!! তারপর সে বেরিয়ে গেল.. এ্যামি হতাশ হয়ে সেইদিকে তাকালো সাথে সাথে তার মনটাই খারাপ হয়ে গেল. সে আবার সামনের দিকে তাকালো তার বাবা নেশা করে বুদ হয়ে আছে। মাথাটা হালকা দুলিয়ে এ্যামি হতাশাগ্রস্ত হয়ে নিজের রুমে চলে গেল।
এ্যান্জি এ্যাওয়ার্ডটা নেড়ে চেড়ে দেখছে!!! অনেক সুন্দর রুপোর তৈরি এটা..এটির মাথায় তিনটা দামী পাথর খচিত... চুনি, নিলা, আর পান্না... সে মুচকি হেসে ন্যামের কাধে হাত দিয়ে বলল--- আমার গর্ভবোধ হবে সিন নিজেকে তোমার বউ হিসেবে পরিচয় দিতে। তারপর তার গলার মতো একটা রকেট সে ন্যামের গলায় ও পড়িয়ে দিল আর বলল-- প্লিজ এটা খুলিও না..
ন্যাম মুচকি হেসে সম্মতি জানালো.. তারপর এ্যান্জি কোমড় ঝড়িয়ে ধরে ফিসফিসিয়ে বলল-- আমার তো সবসময় শুধু তোমার সাথেই থাকতে মন চায়. এ্যান্জি.. এ্যান্জি ন্যাম ফিসফিসানি আওয়াজে কেপেঁ ওঠলো. ন্যামের প্রতিটি স্পর্শ এ্যান্জির ভিতর যেন ভূমিকম্প সৃষ্টি করে. সে হালকা ঢুক গিলে আড়চোখে ন্যামের দিকে তাকালো.. ন্যাম ডান ব্রু তুলে রহস্যজনক হেসে তাকালো তার দিকে. এ্যান্জি এই হাসি দেখে মনে মনে হালকাঃ লাজুক হাসি দিল..
লিকে আজকের ঘটনা বেশ ভাবাচ্ছে.. সাথে সিনের বলা শেষ কথাগুলোও.!! মিশ্র অনুভূতিও হচ্ছে তার.. সত্যিকি সিন তাকে ভাই মনে করলে তাকে আপন করে টেনে নিবে নিজের কাছে..এইসব ভাবতে ভাবতে অন্যমনস্ক হয়ে পড়লো সে.. হঠাৎ সে সিদ্ধান্ত নিল কাল জন্মদিনের দিন দুই ছেলেকে দাওয়াত করবে সে.. তারপর সব সত্য তাদের কাছে বলবে..
উত্তেজনায় লি যেন কাঁপছে.. হঠাৎ সে ভাবলো সে ঘর ও সাজাবে তাই নিজের ঘর পরিষ্কার করতে শুরু করলো. হঠাৎ স্টোর রুমে একটা ফাইলের ওপর নাম দেখে তার মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠলো..সে সযত্নে সেইটি তুলে নিল.. আর সেইটি পড়া শুরু করলো. নিজের স্বামীর এতো পরিশ্রম দেখে নিজের অজান্তেই অশ্রু বেরিয়ে এলো লির চোখ দিয়ে..সে তাড়াতাড়ি বাকি পেজ গুলো পড়তে লাগলো.. মুহুর্তেই তার চেহারার রং পাল্টে গেল.. চোখে খুশির তারা জ্বলে ওঠলো. তার মুখে বড় একটা হাসি দেখা যেতে লাগলো...সে ভাবলো কালকে থেকে সে সব নতুন করে শুরু করবে...
সকালের সূর্য যেন একেকজনের জিবনে একেক ধরনের আশা আর নিরাশা নিয়ে হাজির হয়েছে.. সিন ন্যামের মতো রেডি হয়ে ন্যাম বাসার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেল...
ন্যামের ফ্ল্যাট আজ মানুষে পরিপূর্ণ। যদিও এইটা এ্যান্জিই করেছে!! ন্যামের বার্থডে সেলিব্রেশন করতপ চায় সে। পুরো ঘর বেলুন দিয়ে সাজাচ্ছে সে.. সাথে আরো নানা ধরনের জিনিস দিয়ে। হঠাৎ তার মনে হলো সে তো গিফট ই কিনতে যায় না। সে নিজের পাট্সটা নিয়ে বেরিয়ে গেল..
ন্যামের ও হালকা কাজ থাকায় সে ও সবাইকে আসছি বলে বেরিয়ে গেল..
সিনসবটা দেখলো সে এইবার ন্যামের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করলো আর সবাই তাকে ন্যামই ভাবলো সে সহজেই ন্যামের রুমে প্রবেশ করলো. পুরোঘর খুঁজতে শুরু করলো সে। শেষে পেয়েও গেল.. নিন্স নিজে নিজে কিছু বলতে লাগলো সে আন্দাজ করতে পেরেছে হয়তো এইটা ন্যাম নয়। কিন্তু সিন নিন্সকেও মাটিতে ছোড়ে মারলো আর কিলিং মেশিন নিয়ে বেরিয়ে গেল..
গাড়িতে উঠার সময় রাস্তার অন্যপাশে ন্যামের সাথে দেখা হলো সিনের সে হাত উচিয়ে বক্সটা দেখালো ন্যাম কে। মুহুর্তেই চেহারার রং পাল্টে গেল ন্যাম এর। সিন তাকে ফোনে কল দিল। ন্যাম রিসিভ করে ফোনটা কানে ঠেকালো... সিন শান্ত বয়েসে বলল-- পুরোনো গোডাউন এ চলে আস। এইবলে সে চলে গেল.. ন্যাম স্তব্ধ হয়ে তার যাওয়ার পানে তাকিয়ে রইলো...
এ্যান্জি ন্যামকে এইভাবে রোডের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে অবাক হলো সে. ন্যামের কাধে আলতো করে হাত ছোয়ালো। ন্যাম চমকে সেদিকে তাকালো।
এ্যান্জি অবাক হয়ে বলল-- কি হয়েছে ন্যাম এতো অবাক হয়ে তাকালে কেন.. ন্যাম নিজের ভিতরেরটা মনের মধ্যে চেপে রেখে বলল-- নাহ তেমন কিছুই না। তারপর হালকা চিন্তার অভিনয় করে বলল-- আসলে কিছু কাজ আছে আমার একটু যাওয়া দরকার। আমি কি যাব।
এ্যান্জি মুচকি হেসে বলল কাজ থাকলে তো অবশ্যই যেতে হবে. তখন ন্যাম শক্ত করে এ্যান্জিকে জড়িয়ে ধরলো তারপর চোখ বন্ধ করে বলল-- ভালো থাকিয়ে এ্যান্জি!! সবসময়!! হাসিখুশি থাকবে!! তোমার হাসি সত্যিই নজর কাড়া... এইসব শুনে হয়তোবা এ্যান্জির লজ্জা পাওয়ার কথা।। কিন্তু কেন যেন তার মনে ভয় ঝেকে বসছে..সে ন্যামের হাত ধরে বলল-- কি হয়েছে ন্যাম..
ন্যাম অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে বলল-- আচ্ছা বিদায়।।
এইবলে সে চলে গেল..এ্যান্জি তার যাওয়ার পানে তাকিয়ে রইলো..আর নিজের বুকের ওপর হাত দিয়ে বলল-- আজ এমন মনে হচ্ছে কেন যেন খুব খারাপ কিছু হবে....
চলবে