গল্পঃ "নবজন্ম" (২৮তম শেষপর্ব)

 

গল্পঃ "নবজন্ম" (২৮তম শেষপর্ব)
 
 
লেখকঃ আজিজুর রহমান
 
 
সবুজ বেরোবার আগে কল্পনাকে মনে করিয়ে দিল আজ কিন্তু ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। মস্তানটার উপর এত ভরসা সবুজের বিরক্তিকর লাগে। পরক্ষনে মনে হল এখন মস্তানদের জমানা বলল,ঠিক আছে তুমি রেডি হয়ে থাকবে।
সাইট থেকে তাড়াতাড়ি ফিরে এসে সবুজ কল্পনাকে নিয়ে এল লাইফ লাইভ নার্সিং হোমে। ওয়েটিং রুমে ঢুকতে গিয়ে বাধা। এ্যাপয়ণ্টমেণ্ট আছে?
এ্যাপয়ণ্টমেণ্ট লাগবে না ড.এমাকে বললেই হবে।
লোকটি ওদের একটা কাউণ্টারের সামনে নিয়ে ফোকরে মুখ রেখে কি বলতে ভিতর থেকে জবাব এল,এমাসে হবে না পরের মাসে সেভেন্টিথ আফটার ফাইভ পিএম।
সবুজ বিরক্তি নিয়ে কল্পনাকে দেখল ভাবখানা হলতো?কল্পনা এগিয়ে গিয়ে অভির লেখা চিরকুট এগিয়ে দিয়ে বলল,দয়া করে এইটা ওনাকে দেখাবেন?
কি এটা? লোকটা কি বুঝলো কে জানে বলল,ঠিক আছে পাঠিয়ে দিচ্ছি বাইরে অপেক্ষা করুন।
কল্পনাকে পাশে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করল,তুমি কি অপেক্ষা করবে?
এতদুর থেকে এসেছি দেখি না কি হয়?কল্পনা দ্বিধা জড়িত গলায় বলল।
একের পর এক ডাক আসছে ভিজিটরস রুম প্রায় ফাকা হতে চলল।সবুজ কোথাও গেছে হয়তো সিগারেট ফুকতে।কল্পনার অস্বস্তি হয় সবুজ ফিরলে কি বলবে?
অভি রাস্তার মোড়ে ভজাদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছে। আজ এমার চেম্বার আছে শীঘ্রি ডাক পড়ার সম্ভাবনা নেই। চায়ের কাপ এগিয়ে দিয়ে কোহিনুর বলল,বস বিচ্ছুটার একটা নাম ঠিক করে দাও।
কোহিনুর বয়সে বড় এখন অভিকে তুমি-তুমি বলে। অভি মনে মনে ভাবে নামে কি এসে যায়। বৃক্ষ তোমার নাম কি?ফলেতে পরিচয়। তবু মানুষ অনেক আশা স্বপ্ন নিয়ে সন্তানের নামকরণ করে। অভি হেসে বলল,বাবুলাল তুমি একটা পছন্দের নাম দাও। বাবুলাল বলল,না বস তুমি দাও কে কোথায় হারিয়ে যাবে বড় হয়ে ইয়াদ করবে চাচা এইনাম ওকে দিয়েছিল।
চুপ করো খালি অশুভ কথা। কোহিনুর ধমক লাগালো।
তুই অশুভ কথা ভাবছিস বস অন্য কোথাও যেতে পারেনা?বস তুমি একটা নাম দাও। তোমাকে বস বলি কিন্তু আমি তোমার বড়ভাইয়ের মত।
অভি ভাবে এত ছোটো পরিসর অথচ এদের মন কত বড়। ফোন বাজতে উঠে ঘরের বাইরে গিয়ে কানে লাগালো। হাতের তালু দিয়ে চোখ মুছে বলল,হ্যালো?…ও তুমি এসেছো?…ড.এমাকে কাগজটা পাঠিয়ে দিয়েছো?…ঠিক আছে ওয়েট করো।
অভির সঙ্গে কথা বলে কল্পনার মনে ভরসা এল। সেই লোকটা একটু দূরে দাঁড়িয়ে দেশলাই কাঠি দিয়ে দাত খুটছে। ভীড় নেই লোকটির ব্যস্ততাও নেই। কল্পনা উঠে গিয়ে জিজ্ঞেস করল,চিঠিটা ম্যাডামকে দিয়েছেন?
লোকটি হতচকিত চিনতে পেরে বলল,তখনি পাঠিয়ে দিয়েছি।
কিছু বলেছেন?
সেটা বলতে পারব না। আমি তো যাইনি।
সবুজ আসতে বিমর্ষমুখে বলল,কি করি বলতো?
কি করবে এবার বাড়ী চলো।
এমন সময় ডাক এলো,মিসেস কল্পনা।
কল্পনা বুঝতে পারেনা কি করবে। লোকটা বলল,কল্পনা আপনার নাম?তাহলে চলে যান। সবুজকে বলল,আপনি এখন না, ডাকলে যাবেন।
কল্পনা ভিতরে ঢুকতেই একজন নার্স এগিয়ে এসে তার ওজন নিল প্রেশার মাপলো। তারপর ড.এমার সামনে একটা চেয়ারে বসিয়ে দিল।
ড.এমার হাতে অভির লেখা চিরকুট। মুখে কৌতুকের হাসি।
আপনার নাম কল্পনা?
হ্যা কল্পনা রহমান।
মনে করুন আপনার নাম আছে এক নম্বরে তার আগে কেউ ঢুকলে আপনি বিরক্ত হবেন না?
কল্পনা কি বলবে বুঝতে পারে না।
ড.এমা বললেন,সেজন্য আপনাকে এতক্ষন অপেক্ষা করতে হল।
এমন সময় একটি ছেলে এক প্লেট মিষ্টি এনে দিল। ড.এমা বললেন,খেতে খেতে কথা বলুন।
কল্পনা কিছুটা সহজ সন্দেশে কামড় দিয়ে বলল,আপনি ঠিকই বলেছেন। আমাকে বললে চলে যেতাম।
ওহ গড। আপনি আপনার বন্ধুকে চেনেন না?ও একটা গুণ্ডা। চলে গেলে আমার অবস্থা কি হতো?
কল্পনা ধন্দ্বে পড়ে যায় ড.এমা তাহলে অভিকে ভয় পায়? অভিকে ভালোই চেনে মনে হচ্ছে। খাওয়া হয়ে গেলে একটা টেবলে শুইয়ে হাতে গ্লাভস পরে ভিতরে হাত ঢুকিয়ে পরীক্ষা করে কি বোঝার চেষ্টা করলেন। তারপর সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে বললেন,সব ঠিক আছে।তারপর কাগজে কবে সম্ভাব্য তারিখ লিখে দিয়ে বললেন,এখানে ভর্তি হলে এই নম্বরে ফোন করবেন। সঙ্গে কে এসেছে?
আমার স্বামী এসেছে।
ড.এমা ইশারা করতে নার্স সবুজকে ভিতরে ডেকে আনলেন। ড.এমা বললেন,মি.রহমান এভ্রিথিং ওকে। কোনো চিন্তা করবেন না।
বাইরে বেরিয়ে সবুজ বলল,কি ব্যাপার বলতো?আমাকে মিষ্টি দিয়ে গেল। তুমি কিছু বলেছো?
আমাকেও খুব খাতির করলেন। অভির পরিচয় মনে হল ড.এমা জানেন।
এখন গুণ্ডা বদমায়েশের জমানা। সবুজ বলল।
কল্পনার কথাটা খারাপ লাগলেও ভেবে দেখল সবুজ মিথ্যে বলেনি।গাড়িতে উঠে সামনে সবুজের পাশে বসে অভির কথা ভাবে কল্পনা।অর্কের কাছে শুনেছিল একটু-আধটু। ছেলেটা গ্রাম থেকে এসেছে।বাবা-মা নেই বগ বোনের বাসায় থাকে। সত্যি মানুষ কত বদলে যায়।
ঘড়ি বিকল হয়ে গেলেও সময় থেমে থাকে না। প্রবহমান নদীর মত সতত বয়ে চলে নগর বন্দর গ্রাম গ্রামান্তর পেরিয়ে আপন গতিতে।দেখতে দেখতে তিন-তিনটে বছর পেরিয়ে গেল। কত নতুন জন্ম হল আর কত মৃত্যু হিসেব কে রাখে তার?আমাদের কাহিনীও চলতে থাকবে কোনোদিন শেষ হবে না তাহলেও নতুন কাহিনীকে জায়গা করে দিতে এক জায়গায় থামা দরকার। কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনার কথা বলে উপসংহার টানতে হচ্ছে।
কল্পনা পুত্র সন্তান প্রসব করেছে। শামি বিয়ে করেছে জান্নাতকে। অভিরাজ চৌধুরী এম এ-তে ফার্স্ট ক্লাস পেয়ে সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ন হয়ে অধ্যাপনার চাকরির চেষ্টা করছে। জেবি স্যার নিজেই থিসিস করার প্রস্তাব দিলেন। স্যারের আন্ডারে নাম রেজিস্ট্রি করেছে অভি। ইতিমধ্যে একবার বিদিশার সঙ্গে দেখা করে এসেছে। বর্মা হতে ম্যাডাম লিলি এসে মেয়ের বিয়ে উপলক্ষ্যে বাইপাশের ধারে একটা নামী হোটেলের বাঙ্কোয়েট হলে পার্টির আয়োজন করেছিলেন। অভির দুই বোন সপরিবারে আমন্ত্রিত। বাবুয়ার দলবল ইউনিভার্সিটির সহপাঠীরাও আমন্ত্রিত। বড় বড় ডাক্তার মানিগুনী ব্যক্তিরাও বাদ যায়নি। অভি নিজে গেছিল কনককে আমন্ত্রণ করতে। তাদের রিলেশন সম্পর্কে এমা সব জানে। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল একসাথে দু'জনকে সমাজের সামনে তুলে ধরবে। ফ্লাটে গিয়ে শুনলো কোথায় চলে গেছে কনক। ফ্লাটে যে মহিলা ছিলেন কিছুই বলতে পারল না। ডা.হালদার পুরানো দিনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে মজা করলেন।
কয়েকমাস পর অভি সিলেটের একটি মহিলা কলেজে নিয়োগ পত্র পায়। পক্ষকালের মধ্যে যোগ না দলে নিয়োগপত্র বাতিল। কথাটা শুনে ড.জেবি কিছুক্ষন থম মেরে বসে থাকলেন। তারপর হেসে বললেন,তুমি চাকরি পেয়েছো আটকাতে পারিনা। কিন্তু থিসিসটা কমপ্লিট কোরো। তারপর নিজের প্যাডে চিঠি লিখে বললেন,উত্তরায় বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার এক বন্ধু আছে ওর সঙ্গে যোগাযোগ করো।চিঠিটা অভির হাতে দিতে দেখল,খামের উপর লেখা প্রীতিভাজণ ড.অমল মজুমদার। স্যারকে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করে বিষণ্ণ মনে বেরিয়ে এল। স্যার বললেন,থিসিসটা করো। অভি থিসিস করলে স্যারের কি লাভ?এই হচ্ছে পুরানো দিনের মূল্যবোধ। ছাত্রের জন্য শিক্ষকের আকুলতা।
সিলেটের শেষপ্রান্ত অনেকদূর একা একা অভির যাবার ইচ্ছে নেই।তাকে পাঠাতে মিমির আগ্রহে অবাক লাগে। রাতে খাওয়া দাওয়ার পর চুপচাপ শুয়ে পুরানো দিনের কথা নিয়ে নাড়াচাড়া করে মনে মনে। মিমি গোছগাছ শেষে পাশে এসে শুয়েছে অভি বুঝতে পারে। অভি কিছু বলে না কিছুক্ষন পরেই মিমি উঠে বসে জিজ্ঞেস করল,মন খারাপ?
অভি পাশ ফিরে চিত হয়ে হাসলো।
কবে যাবে কিছু ঠিক করেছো? জিজ্ঞেস করল মিমি।
অভি বলল,ভাবছি যাবো না।
মিমি অবাক হয়ে বলল,মানে?বেকার বসে থাকবে?
অভি অবাক হয়ে বলল,আমি ওখানে থাকবো আর তুমি এখানে?তোমার খারাপ লাগবে না?
বাস্তবকে মেনে নিতে হয়। ড.এমা হেসে বললেন।
অভি চলে গেলে একা হয়ে যাবে। ভেবেছিল যাবোনা শুনলে খুশি হবে।কিন্তু মিমিই ওকে বিদায় করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। অভির খারাপ লাগে মিমির কাছে তার আকর্ষণ শেষ হয়ে এল?
সব পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেবার প্রস্তুতি রাখতে হয়। সব আমাদের হাতে নয়। আমাকে দেখো কোথায় বর্মা আর কোথায় সিলেট। তোমার সঙ্গে জড়িয়ে যাবে জীবন কোনোদিন কি ভেবেছিলাম?মিমি সান্ত্বনা দেবার চেষ্টা করে।
মিমির উপর এতটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল অজানা অচেনা জায়গায় কিভাবে থাকবে ভেবে রাতে ঘুম হয়না। খারাপ লাগে সেই মিমিই তাকে চলে যেতে বলছে?বিশেষ করে তাকে বিদায় করার জন্য উঠেপড়ে লাগার ব্যস্ততার জন্য কিছুটা অভিমান হয়। নিজেকে বোঝায় ও যদি পারে তাহলে সেইবা পারবে না কেন?মিমির আশ্রয়ে আছে বেকার ওর উপরে কতদিন নির্ভর করবে?স্থির করল যাবে মনকে সেভাবে প্রস্তুত করে। একদিন গ্রাম ছেড়ে আসতে পেরেছে এখান থেকেই বা যেতে পারবেনা কেন? অভি বলল, আমার ঘুম পাচ্ছে।
এমা মনে মনে হাসে যে অভি তার উপরে রাগ করেছে। কিন্তু মুখ ফুটে কিছু বললো না। পাশে অভিকে জড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়লো।
বাবুয়ার দলবল স্টেশনে গেছিল তুলে দিতে। ড.এমা ওদের জন্য শেষ মুহূর্তে অন্তরঙ্গ আলাপের সুযোগ পায়না। তাহলেও অভিকে ওরা এত ভালবাসে দেখে বিরক্ত হয়নি। বিষণ্ণ মুখে বিদায় নিয়ে ভোর ভোর নাগাদ পৌঁছালো গন্তব্যে।
মেয়েদের কলেজ খুঁজে নিতে অসুবিধে হয়নি। কাগজপত্র দেখাবার পর অধ্যক্ষা জয়া হাসান জিজ্ঞেস করলেন,ড.এমা আপনার স্ত্রী?
অভি চমকে উঠল মিমির নাম এতদুর পৌঁছে গেছে?অভি বলল,আপনি চেনেন ওকে?
জল্পেশ নার্সিং হোমে উনি এসেছিলেণ আমার বোনের একটা কঠিন অপারেশনে। তখন আলাপ হয়। আমাদের বাড়ীতে একরাত ছিলেন।কোথায় উঠেছেন?
স্টেশনের কাছে একটা হোটেলে।
জয়া হাসান একটা ঠিকানা দিয়ে বললেন,এই ঠিকানায় আপনার থাকার ব্যবস্থা হয়েছে। কেয়ার টেকারকে বলা আছে আমার কথা বললেই হবে। হোটেল ছেড়ে আজই চলে আসুন। কালই জয়েন করুন।
অভি হতভম্ব এত সহজে সব ব্যবস্থা হয়ে যাবে কল্পনাও করেনি।রিক্সায় উঠে স্টেশনে যাবার পথে একটাই খুতখুতানি তার মনে মিমি তার স্ত্রী জানলো কি করে?ডাক্তারদের এই সুবিধে খ্যাতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সে যদি ভালো পড়ায় তাহলেও তার খ্যাতি ছাত্রীদের মধ্যে বড়জোর জেলাশহরেই সীমিত থাকবে। আজ রাতে তাকে একা শুতে হবে কেউ তাকে ডিস্টার্ব করবে না। নিজেকে খুব অসহায় বোধ করে।হোটেল থেকে ট্রলিব্যাগ নিয়ে ঠিকানা খুঁজে পৌঁছে বিস্ময়ের সীমা থাকে না। কেয়ার টেকারকে কিছু বলতে হয়না,এগিয়ে এসে তার ট্রলিব্যাগ নিয়ে ভিতরে ঢুকে গেল। দু'তলা সুসজ্জিত বাংলোবাড়ি।কিছুই আনার দরকার ছিলনা অবশ্য বেডশিটটা কাজে লাগবে।এতবড় বাংলো দিয়ে কি হবে?ভাড়া দিতে হবে না?গাছ গাছালির দেখাশুনাই বা কে করবে?
মানুষ অবস্থার দাস সব কিছুর সঙ্গেই মানিয়ে নিতে হয়। এমার কথা মনে পড়ল। যতদিন বদলি না হচ্ছে এখানেই থাকতে হবে।
অনেকগুলো স্কুল আছে এখানে তার মধ্যে একটা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়। মসজিদ ও মাজার আছে অনেক রিক্সায় আসতে দেখেছে।হোটেলে খেয়ে রাতে বাসায় ফিরতে মিমির ফোন। কানে লাগাতে শুনতে পেলো পৌঁছে খবর দেবে তো?আমি এদিকে চিন্তা করছি।
এখনই করতে যাচ্ছিলাম। বানিয়ে বলল অভি। মনে মনে বলে দূর করে দিয়ে চিন্তা হচ্ছে।
শোনো রোজ রাতে ফোন করব। বন্ধ রাখবে না। ঠিক আছে আজ ক্লান্ত বিশ্রাম নেও।
অভিমান আক্ষেপ সরিয়ে রেখে কাজে নেমে পড়ে অভি। সকালে গোসল সেরে বেরিয়ে পড়ে একটা হোটেলে লাঞ্চ সেরে কলেজ। ছুটির পর শহর দেখতে বেরুনো। শহরের উপর দিয়ে বয়ে চলেছে নদী।নদীর পাড় ধরে হাঁটতে হাঁটতে গ্রামের কথা মনে পড়ে। ড.অমল মজুমদার পরিচয় দেবার আগেই বললেন,তুমি অভিরাজ?স্যার আমাকে তোমার কথা বলেছেন। প্রায় মিনিট পনেরো সময় দিলেন তারমধ্যে বেশিটাই সিলেটে কেমন আছেন স্যার এইসব। উনি অভির থিসিসের দায়িত্ব নেবার প্রতিশ্রুতি দিলেন। একটা বড় কাজ হয়ে গেল।
শহরটাকে চিনতে চিনতে সময় কেটে যাচ্ছিল বেশ। দিন পনেরোর মত হবে এখানে এসেছে মনে হয় কতদিন। একদিন অনেকটা হাঁটার পর সামনের পার্কে বসে বিশ্রাম করছে একটু দূরে কতগুলো বাচ্চা খেলা করছে। ছোটোবেলার কথা মনে পড়ে গেল। এই সময়টাই জীবনের সেরা সময় ভাবনা উদবেগ দায় দায়িত্ব ছিলনা প্রতারণা হতে মুক্ত স্বাধীন জীবন। ওরা বৃত্তাকারে দাঁড়িয়ে একজন হাত নাড়িয়ে কিছু করছে। দূর থেকে দেখা গেলেও শোনা যায় না। মনে পড়ল দশ-কুড়ি গুনে কে চোর হবে সেটা ঠিক করা বা ঐরকম কিছু। হঠাৎ একটি ছোটো মেয়ে ছুটে এসে তার পাশে ঠোঁট ফুলিয়ে বসে পড়ল।
অভি জিজ্ঞস করে,কি হল তুমি চলে এলে?খেলবে না?
সুমি আপু ইশারা করে সবাইকে বলল,আমি এলেবেলে।
অভি বুঝতে পারে ছোটো বলে ওকে খেলায় নেয়নি। ওর মনমরা মুখ দেখে অভির খারাপ লাগে। জিজ্ঞেস করে,তোমার নাম কি?
অনু।
অনু তুমি আমার সঙ্গে খেলবে?
অনু এই প্রস্তাবে অভির দিকে তাকিয়ে ফিক করে হাসলো। ছোটোদের হাসি নির্মল। অনুর হাসি মুখ দেখে অভির ভালো লাগে। অনু জিজ্ঞেস করে,আঙ্কেল তোমার নাম কি?
আমার নাম অভিরাজ চৌধুরী।
ধ্যেৎ ইয়ার্কি? অনুর মুখে দুষ্টু হাসি।
কেন ইয়ার্কি কেন,সত্যি।
অভিরাজ চৌধুরী আমার ড্যাড।
এমন সময় একটি মেয়ে ছুটে এসে বলল,কিরে অনু খেলবি না?
না আমি আঙ্কেলের সঙ্গে খেলবো।
মেয়েটি অভির দিকে অদ্ভুত চোখে দেখে অনুকে টেনে নিয়ে কানে কানে কিছু বলল। অনু ভয়ার্ত চোখে অভিকে এক নজর দেখে ছুট দিল। অভির মনে হল মেয়েটি কানে কানে তার সম্পর্কে এমন কিছু বলেছে তাতে ও ভয় পেয়ে থাকবে। অনুর বাবার নাম অভিরা। দুজনের একই নাম হতে পারে কিন্তু এই ছোট্ট শহরে একই নামে দুজন থাকে ব্যাপারটা বেশ মজার। সন্ধ্যে হয়ে এল এবার বাড়ীর দিকে হাটা শুরু করা যাক। ফেরার পথে ডিনারের জন্য তড়কা রুটীর পার্শেল নিয়ে নিল। বাসায় ফিরে চেঞ্জ করে স্টোভে চা করল বেশি করে বার বার চা করতে ভাল লাগেনা। এককাপ নিয়ে বাকীটা ফ্লাক্সে ঢেলে রাখে। রান্না করা মিমির শখ। সারাদিনের খাটাখাটনির পরও রান্না করতে ক্লান্ত বোধ করে না। একা একা কি করছে কে জানে?এ্যাটাচি খুলে সেদিন লাইব্রেরি হতে আনা বইটা নিয়ে বসল মনস্তত্তের বই।মানুষের মন নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে ভালোবাসে। পৃথিবীতে অনেক বিস্ময়ের মধ্যে বড় বিস্ময় মানুষের মন। মোবাইল বাজতে অভি ঘড়ি দেখল দশটা বাজে। অভির ঠোঁটে হাসি ফুটল সময়ের একটু এদিক ওদিক হবার নয়। দশটা বাজলেই বাজবে। মোবাইল কানে লাগাতে ওপার থেকে শোনা গেল,খেয়েছো?
এবার খাবো।
কি করছিলে?
মনস্তত্তের একটা বই এনেছি পড়ছিলাম।
তুমি মন বুঝতে পারো?
ঐ জন্যই পড়ছি।
মিষ্টি হাসি মন ছুয়ে গেল। অভি জিজ্ঞেস করে,চেম্বার ছিলনা আজ?
এখন রাখছি একটা ফোন এসেছে।
অভি উঠে খেতে বসল। ফোন করলে খারাপ লাগে আবার না করলেও খারাপ লাগে। সত্যি মানুষের মন বড় বিচিত্র। খাওয়া দাওয়ার পর লাইট নিভিয়ে শুয়ে পড়ল। পার্কের মেয়েটা কি যেন নাম অনু। ওর বাবার নামও অভিরাজ। এমন কি পদবীও চৌধুরী। এইসব ভাবতে ভাবতে এক সময় ঘুমিয়ে পড়ল। বাংলোর চারদিকে গাছ পালা জানলা দিয়ে ফুরফুরে হাওয়া আসছে। গাছের পাতার ফাকে জমাট বাধা নিঝুম অন্ধকার। জ্যোৎস্নার চাদরে মোড়া আকাশ তার গায়ে ভাসতে ভাসতে চলেছে নিঃসঙ্গ চাঁদ। রাত গড়িয়ে চলে। গড়াতে গড়াতে আকাশের রঙের বদল হয়। পুব আকাশ আলো করে সূর্য উঁকি দেয়।ঘুম ভাঙ্গলেও চোখের পাতায় জড়তা।
ফোনের শব্দে সজাগ হল। অভি চোখ মেলে দেখল জানলা দিয়ে ভোরের নরম আলো বিছানায় এসে পড়েছে। এখন আবার কে ফোন করলো? হাত বাড়িয়ে মাথার কাছে টেবলে রাখা ফোনটা নিয়ে কানে লাগিয়ে তন্দ্রা জড়িত গলায় বলল,হ্যালো?
ওপাশে গলা শুনে অভি ধড়ফড়িয়ে উঠে বসে বলল,হ্যা মম বলুন।
মিমি তোমায় কিছু বলেনি?
কোন ব্যাপারে?
তোমাকে ফোন করেনা?
রোজই করে,কেন মম?
কিছুই জানো না তুমি?
কেন কিছু হয়েছে মম?
আচ্ছা পরে ফোন করছি। ফোন কেটে দিলেন।
ধন্দ্বে পড়ে যায় অভি,কাল রাতেও কথা হয়েছে কিছুই তো বলেনি মিমি। বর্মায় কিছু হয়নি তো?রাতে ফোন করলে জিজ্ঞেস করতে হবে কি ব্যাপার?বর্মায় যদি কিছু হয় তা কি তার জানার অধিকার নেই?নিস্তরঙ্গ জীবনে যেন ঢিল পড়ল।
কলেজের ব্যস্ততায় অন্য চিন্তা পরিসর পায়নি। ছুটি হতে বাইরে বেরিয়ে ভাবলো আজ কোন দিকে যাবে?সপ্তা দুয়েকের মধ্যে শহরটাকে মোটামুটি চিনেছে। মানুষজনের সঙ্গে তেমন আলাপ হয়নি।এক ধরণের লোক আছে সহজে মিশতে পারে। এলোমেলো কথা বলে দিব্যি চালাতে পারে আলাপ। অভি সবার সঙ্গে সহজভাবে মিশতে পারেনা। কেউ যদি জিজ্ঞেস করে কেমন আছেন?অভির মনে প্রশ্ন জাগে হঠাৎ কেন একথা জিজ্ঞেস করলেন?আপন মনে হেসে ফেলে অভি। হঠাৎ খেয়াল হয় আদর্শ স্কুলের কাছে চলে এসেছে। সন্ধ্যে হতে দেরী আছে আরো কিছুটা সময় ঘোরা যেতে পারে। ভোরবেলার কথা মনে পড়ল। মম কোন ব্যাপারে জানতে চাইছিলেন অনুমান করতে গিয়ে দিশাহারা বোধ করে অভি।
অন্যমনস্কভাবে পথ চলতে থাকে। সন্ধ্যের আগে বাসায় ফিরবে না।হঠাৎ খেয়াল হল মিমি রাত দশটায় ফোন করবে। তার আগে সেই তো ফোন করতে পারে। কথাটা আগে মনে হয়নি কেন ভেবে নিজের উপর বিরক্ত হয়। রিক্সা স্ট্যাণ্ডের কাছে দাঁড়িয়ে ফোনের বাটন টিপল।টুইপ-টুইপ শব্দ হয়,রিং হচ্ছে না। কি ব্যাপার মিমি এখন কোথায়? কয়েকবার চেষ্টা করেও লাইন পেলো না। এক ভদ্রমহিলাকে রিক্সায় উঠতে দেখে ভ্রু কুচকে যায়। ভদ্রমহিলাকে দেখে মনে হল কনক না?কিন্তু কনক এখানে কোথা থেকে আসবে?মুখ দিয়ে অস্ফুটে বেরিয়ে এল কনক।
ভদ্রমহিলা পিছন ফিরে দেখছেন কিছুটা গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল রিক্সা।হ্যা কনকই তো। অভি দ্রুত এগিয়ে গেল। কাছাকাছি হতে কনক জিজ্ঞেস করে,অভি তুমি?একটু সরে জায়গা করে দিয়ে বলল,ওঠ কাছেই আমার বাসা।
অভি সম্মোহিতের মত রিক্সায় উঠে বসলো। এভাবে এখানে কনকের সঙ্গে দেখা হয়ে যাবে কল্পনাও করেনি। বেশ মুটিয়েছে কনক। কানের পাশে কয়েক গাছা চুলে রূপালি ছোপ।
কত বছর পর আবার তোমার সঙ্গে দেখা হল। তুমি এখানে কোথায়?
একটা কলেজে চাকরি নিয়ে সবে এসেছি।
খুব ভালো খবর। কতদিন হল?
এইতো দিন সপ্তা তিনেক হতে চলল।
শেষ যখন দেখা হয়েছিল কনকের মধ্যে লক্ষ্য করেছিল বিষন্নতা।এখন বেশ উজ্জ্বল চেহারা। কনক বলল,চাকরি হল এবার একটা বিয়ে করো।
বিয়ে খুব জরুরী?
কনক বলল,জরুরী নয় তবে–কনক অভিকে একপলক দেখে বলল,তোর জন্য জরুরী। রাজী থাকলে বল মেয়ে দেখি। আমার তো আর কপালে ছিল না।
ঘটকালী করো এখন?
কনক হাসলো। তারপর বলল,আমার স্কুলে কটা ম্যাডাম আছে।
আমি বিয়ে করেছি। লাজুক স্বরে বলল অভি।
বিয়ে করেছো?কনকের মুখে ছায়া পড়ে নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,কই আমাকে বললে নাতো?
তোমার ফ্লাটে গেছিলাম। একজন মহিলা বললেন, তুমি কোথায় চলে গেছো।
কনক অন্য মনস্ক,মুখে মেঘ জমতে থাকে। কিছুক্ষন পর বলল,তুমি তো সব জানতে তাহলে সেখানে কি করে থাকি বলো?রাস্তায় বেরোলে মনে হত সবাই হা-করে আমাকে দেখছে। এক সময় মনে হয়েছিল আত্মহত্যা করি কিন্তু মেয়েটার মুখ চেয়ে করতে পারলাম না। শেষে এখানে হেড মিস্ট্রেসের চাকরি নিয়ে পালিয়ে বাঁচলাম বলতে পারিস।যাক অতীত নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে আর ভালো লাগে না।
কোন মেয়ে?
রিক্সা দাঁড়িয়ে পড়লো। কনক বলল,সব বলবো। এই ফ্লাটের দোতলায় থাকি। এবার নামো।
রিক্সা থেকে নেমে সিড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে বলল,এই ফ্লাটে ভাড়ায় আছি। স্কুলের কাছে একটা বাড়ী করছি। আর মাস তিনেক পর হয়ে যাবে মনে হয়। একদিন তোমার বউকে নিয়ে এসো আলাপ করবো?
কনক চাবি ঘুরিয়ে দরজা খুলে সোফা দেখিয়ে বলল,বোস। আমি চেঞ্জ করে আসছি।
তোমার এখন কোনো কাজ নেইতো?
না না তুমি চেঞ্জ করে এসো। পারলে এককাপ চায়ের ব্যবস্থা করলে ভাল হয়। কনক পিছন ফিরে তাকিয়ে হেসে অন্য ঘরে চলে গেল।
মেয়েটা সুমির সঙ্গে বেরিয়েছে। ফেরার সময় হয়ে এল। অভিকে সব কথা খুলে বলা যায়। রাগের মাথায় ওকে যা-না তাই বললেও কনক জানে ছেলেটা বেসিক্যালি ভালো। অভি বিয়ে করেছে কথাটা মনে হতেই হাসি পেল। সত্যিই কি বিয়ে করেছে মজা করছেনা তো? প্রেমের বিয়ে নয় নিশ্চিত কিন্তু কে ওর বিয়ে দিল?ওর বড় বোন মুনা দিয়েছে হয়তো। নিজের জীবনের পরিণতি নিয়ে আর ভাবতে চাই না। সবাই সুখে থাকুক আর অন্তরালে অনুকে নিয়ে আমি সুখে আছি। স্বামীর ভালোবাসার চিহ্ন তার সাথে রয়েছে। আর কি চাই জীবনে বেঁচে থাকার জন্য।
অভি বসে বসে চারদিক দেখে। বেশি আসবাব নেই ছিমছাম সাজানো। দেওয়ালে একটা বাচ্চার ছবি ঝুলছে,মুখটা কেমন চেনা চেনা। বাচ্চাদের একই রকম দেখতে লাগে। কনক কি এই মেয়ের কথা বলছিল?কনকের একজন বন্ধু ছিল নামটা মনে করতে পারেনা।অসময়ে তিনি হয়তো পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কোথায় ঢাকা কোথায় সিলেট। সেও কি কোনোদিন ভেবেছিল গ্রাম ছেড়ে ভাসতে ভাসতে উত্তরে ঠাই হবে?এরপর আবার কোথায় যেতে হবে কে জানে?থিসিসটা এখানে শেষ করে যাবে। অন্তত স্যার জেবির সম্মান রক্ষার্থে।ঘরের সাজসজ্জায় ঘরণীর মনের প্রতিফলন থাকে। দেখে মনে হচ্ছে কনক এখানে ভালই আছে। ফোনে যেভাবে ক্ষেপে গেছিল মনে হয় এখন আর সেই রাগ নেই। কনক চা কিছু খাবার নিয়ে ঢুকে বলল,নেও চা খাও।
অভি চায়ে চুমুক দিতে দিতে বুঝতে পারে কনক তার দিকে তাকিয়ে কিছু বোঝার চেষ্টা করছে। এক সময় বলল,সত্যিই তুমি বিয়ে করেছো?
বউ দেখালে বিশ্বাস করবে তো?অভি মজা করে।
কবে আনছো তোমার বউকে? আমার কথা সে জানে?
বউ এখানে নেই। তবে তোমার কথা সব জানে।
বউ নেই মানে তুমি একা এখানে থাকো?আমাকে কি ভাবো বলোতো? কনকের গলায় একরাশ বিস্ময়।
কেন আমাকে কি তোমার বাচ্চা ছেলে মনে হয়?
তা নয় তবে একজন অভিভাবক ছাড়া তোমাকে ভাবতেও পারিনা।তোমার বউয়ের সাহস কম নয় তোমাকে একলা ছেড়ে দিয়েছে?তোমার রান্না-বান্না করে কে?
হোটেলে খাই।
কনকের মুখটা ম্লান হয়ে গেল। অভি বলল,কনক ওসব বাদ দাও। তুমি কোন মেয়ের কথা বলছিলে?
বলবো। তার আগে তুমি কথা দাও যতদিন তোমার বউ না আসছে তুমি আমার এখানে খাবে?তোমার যদি সম্মানে লাগে পয়সা দিয়ে খাবে।
ঠিক আছে খাবো কিন্তু পয়সাই যদি দিতে হয় তোমার এখানে খাবো কেন?
কথা দিলে কিন্তু?
দিলাম এবার বলো তোমার মেয়ের কথা।
কনক কিছুক্ষন চুপ করে থাকে। তারপর দেওয়ালের ছবি দেখিয়ে বলল,এই আমার মেয়ে। কনক একে একে সমস্ত খুলে বলতে লাগল। কিভাবে অভি চলে হারিয়ে যাওয়ার পর জানতে পেরেছে সে গর্ভবতী। তারপরে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে সমাজের। তারপরে সবার অলক্ষ্যে সন্তানকে সঠিক পরিচয় দিতে এখানে চলে আসা।
ঐ ফ্লাট কি করলে?
সেটা বিক্রি করে দিয়েছি। তোমার যাতে সম্মান হানি না হয় তার জন্য আমি এতদূরে এসে পড়েছিলাম। অনুকে তার সঠিক পরিচয় দিতে চেয়েছি। তোমাকে আমি আগেও ভালোবাসতাম আর এখনও ভালোবাসি। কিন্তু কখনো তোমার জীবনের বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে চাই নি। সমাজের চোখে তোমাকে কলঙ্কিত করতে চাই নি। যার জন্য এতদূরে এসে তোমার নাম দিয়েছি। যাতে করে তোমার নাম যেন সেখানে না পৌঁছায়। কে জানতো তুমিও এখানে এসে পড়বে।
অভি বুঝতে পারে কনক এখনো তাকে আগের মতই ভালোবাসে।জিজ্ঞেস করে,আমার মেয়ের নাম কি অনু?
সবাই ঐনামে ডাকে,ওর নাম অনুপ্রভা। তুমি কি করে জানলে?কনকের চোখে বিস্ময়।
ওর সঙ্গে একদিন দেখা হয়েছে বলছিল ওর বাবার নাম অভিরাজ।
দরজায় শব্দ হতে কনক বলল,এক মিনিট আসছি।
কিছুক্ষন পর ফিরে এসে বলল,সুমি উপরে থাকে। ওর জন্মদিন আজ অনুকে নিয়ে যেতে চায় বলতে এসেছিল। সুমি ওকে নিয়ে উপরে চলে গেল।
এত কাণ্ড ঘটে গেছে অভি কিছুই জানে না?নিজেকে অপরাধী মনে হয়। তার উচিত ছিল কনকেরর খোঁজ খবর নেওয়া। কনক একসময় অর্থ দিয়ে সাহায্য করতে চেয়েছিল। তার জন্য কিই না করেছে। নার্সিং হোমে বেশি কথা বলতে পারেনি। তার এখন একজন মেয়ে আছে তা ভাবতেই মনের মাঝে আনন্দের স্রোত জেগে উঠেছে।
অভিকে কয়েক পলক দেখে কনক জিজ্ঞেস করে, তুমি কি রাগ করেছো?কনকের মুখে অপরাধবোধ।
অভি হেসে বলল,নাম তো আমার পেটেণ্ট করা নয়। তবে অনু আমারও মেয়ে তাই সে নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। তবে ভবিষ্যতে তোমার কোনো সমস্যা না হয়।
কেন আমার স্বামীর নাম অভিরাজ হতে পারে না?
যদি আমার বউ জানতে পারে?
আমি ঢাক ঢোল পিটিয়ে বলতে যাচ্ছি আমার স্বামীর নাম অভিরাজ?তুমি ভাবছো তোমার বর্তমান বউ ভুল বুঝতে পারে?আমাকে চিনলে তো?
তোমাকে চেনে তুমিও তাকে চেনো।
আমাকে চেনে?আমিও তাকে চিনি? কনক মনে মনে হিসেব মেলাতে চেষ্টা করে। দ্বিধা জড়িত গলায় বলল,কে তোমার বউ—ডাক্তার নয়তো?
অভি মুচকি মুচকি হাসে। কনকের মুখে আলো ঝলকে পড়ল বলল,তুমি কি ডাক্তার এমাকে বিয়ে করেছো?
কেন এমন মনে হল?
নার্সিং হোমে দেখেই কেমন লেগেছিল। মেয়েদের চোখকে ফাঁকি দেওয়া সহজ নয়। কিন্তু ও যা ব্যস্ত তোমাকে সামলাবে কখন?
অভি হাসলো। মিমি ব্যস্ত ঠিকই কিন্তু মিমি কি পারে আর কি পারেনা অভি হাড়ে হাড়ে জানে। কনক বলল,তোমার মা থাকলে আজ খুব খুশি হতো।
মায়ের কথা তুলতে মনে পড়ে গেল গ্রামের কথা। মুনা আপুর বিয়ে হয়ে গেছে। দুই ছেলে মেয়ে একা বিধবা। সব দিকে নজর। গ্রামের ছেলে নিলয় অভির সমবয়সী। অল্প বয়সেই বিড়ি ধরেছিল পড়াশুনা করতনা। মা বলেছিল,তুই ওর সঙ্গে মিশবি না। অভি জানতে চেয়েছিল কেন?মা বলেছিল,আমি বলছি ব্যাস।
এরপর কথা বলার সাধ্য ছিলনা অভির। সেই দিনগুলো অভির বড় প্রিয়। আজও হাতছানি দিয়ে ডাকে।
মায়ের কথা ভাবছো?
অভি হাসলো। মুখ দেখে কি বোঝা যায় কেউ কি ভাবছে?
রাত হয়ে গেছে অভির মনে পড়ল মম ফোনে কি সব বলছিল এখন একবার মিমিকে ফোন করবে কিনা ভাবে। উঠে দাঁড়িয়ে বলল,আজ আসি কনক। ছোটো শহর আবার দেখা হবে। আমাদের দু'জনের জীবন সমাজ হতে বিচ্ছিন্ন হলেও মনের দিক দিয়ে আমরা এখনও এক হয়ে আছি। অনুকে মাঝে মাঝে দেখতে আসবো। নিজের মেয়ে এত বড় হচ্ছে তাকে স্বচক্ষে দেখার ইচ্ছে রয়েছে। হোটেল থেকে তড়কা রুটির পার্শেল নিয়ে চলতে চলতে বাটন টিপল। এইতো রিং হচ্ছে। ফোনটা কানে লাগাতে শুনতে পেল,তোমার কি নাইট কলেজ?
অভি থতমত খায় ঠিক নম্বর টিপেছে তো?চোখের সামনে ধরে দেখল নম্বর ঠিকই আছে। আবার মুখের কাছে ধরে বলল,এইতো ফিরছি।এ্যাই শোনো সকালে মম ফোন করেছিল–।
বাসায় পৌঁছে কথা বলবে,এখন থাক। ফোন কেটে গেল।
আবার রহস্য। সকালে মম ফোন করে চিন্তায় ফেলে দিল। আবার এখন মিমির কথায় রহস্য আরও ঘনীভুত হয়। এইতো ফিরছি না বলে বাসা থেকে বলছি বললে ভালো হতো। বাংলোর কাছাকাছি এসে গেটের দিকে তাকিয়ে ভিড়মি খাবার অবস্থা। গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে মিমি। কথা নেই বার্তা নেই সটান চলে এসেছে? বিস্ময় ও আনন্দে অভির মুখে কথা যোগায় না।
অভি কাছে আসতে এমা জিজ্ঞেস করে,তোমার হাতে কি দেখি।
হাত থেকে তড়কা রুটি নিয়ে খুলে দেখল তারপর “রাবিশ” বলে ছূড়ে ফেলে দিল। অভিকে বলল, আজকের মত চাল ডাল সবজি কিছু কিনে নিয়ে এসো। আমি আসছি।
কোথায় যাবে?দরজা খুলে দিচ্ছি ঘরে বোসো।
এনবি ট্রান্সপোর্টে যেতে হবে দরকার আছে। আর কেউ আমার খোঁজ করলে বসতে বলবে।
এমা একটা রিক্সা নিয়ে একরাশ রহস্য রেখে বেরিয়ে গেল। বলা নেই কওয়া নেই এলো কেন আবার গেলই বা কোথায়?ক্লান্তি বলে কিছু নেই?আবার বলল,রান্না করবে। যাইহোক মিমিকে দেখে অভি যেন নতুন জীবনিশক্তি ফিরে পেয়েছে। লম্বা জার্নি করে এসে রান্না করবে ভেবে খারাপ লাগলেও কিছু করার নেই। বললেও শুনবে না। অভি বাজারের দিকে পা বাড়ায়। কদিন থাকবে বলেনি দু-তিন দিনের মত বাজার করলেই হবে। একটা ব্যাপার খটকা লাগে এনবি ট্রান্সপোর্টে কি দরকার?গাড়ি ভাড়া নেবে নাকি?
এনবি ট্রান্সপোর্ট কাছেই রিক্সাওলাকে বলতেই চিনতে পারে। লরির উপর থেকে গাড়ীটা তখনও নামায় নি। ড.এমা অফিসে গিয়ে কাগজপত্র দেখাতে গাড়ী নামিয়ে ড.এমাকে দিয়ে চালানে সই করিয়ে নিল। গাড়ি নিয়ে বেরোতে প্রায় আধ ঘণ্টাখানেক লাগল। পেট্রোল পাম্পে ট্যাঙ্ক ফুল করে বাংলোয় ফিরে দেখল অভি ঘর দোর সাফ করছে।
লাগেজ খুলে চেঞ্জ করল এমা। অভি বলল,জানো মিমি সকালে মম ফোন করেছিল।
এমা বাধা দিল,পরে শুনবো।
এমা রান্নাঘরে অভি বারান্দায় গিয়ে বসলো। কনকের সঙ্গে আজ দেখা হল আর আজই মিমি এল। আজকের দিনটা অন্যদিনের থেকে আলাদা। সময় নদী স্রোতের মত চলমান। অতীতকে সরিয়ে ফাঁক জায়গা করে নেয় বর্তমান। দেওয়ালে ঝোলানো ক্যালেণ্ডারের পাতা বদলে বদলে যায়। পুরানো গিয়ে এসেছে নতুন বছর।
একঘেয়ে হোটেলে খাওয়ার পর দু-দিন একটু ভালমন্দ খাওয়া যাবে। গেটের কাছে গাড়ী দেখে ভ্রু কুচকে যায়,বারান্দা থেকে নেমে কাছে গিয়ে দেখল আরে এতো মিমির গাড়ী। রান্না ঘরে গিয়ে জিজ্ঞেস করে, তুমি গাড়ী এনেছো?
রান্না করতে করতে পিছন ফিরেই এমা বলল,আমার গাড়ী আমি আনবো না?
তাহলে রোহন?
এমা ঘুরে দাঁড়িয়ে মুখ তুলে তাকালো। অভির সামনে গোলাপের পাপড়ির মত ঠোঁটজোড়া তিরতির কাঁপছে। এমা বলল,এতদুর থেকে জার্নি করে এলাম। তোমার মনে হল না একটু আদর করি?এসে অবধি শুনছি মম রোহন–।
অভি নিজেকে ধরে রাখতে পারেনা এমার দু-কাধ চেপে ধরে ঠোঁটের উপর ঠোঁট রাখল। কিস করার পর এমা হেসে বলল,খুউউব থাক হয়েছে এখন না। সব তোমাকে বলে বলে করাতে হবে?তোমার নিজের কোন ইচ্ছে নেই?
অভি বলল,না মানে তুমি এতটা জার্নি করে এলে।
স্টোভ জ্বেলে রান্না শুরু করল এমা।
অভি তোমার সঙ্গে ডিসকাস না করে একটা কাজ করেছি।
অভি মনে মনে হাসে যেন সব কাজ তার অনুমতি নিয়ে করে। এখানে আসতে চায়নি মিমিই তাকে জোর করে পাঠিয়েছে। কিছু বলল না অপেক্ষা করে আবার কি করল শোনার জন্য।
লাইফ লাইভের চাকরি ছেড়ে দিয়েছি।
এইবার বুঝতে পারে কেন মম সাতসকালে ফোন করেছিলেন। অভি অবাক হয়ে বলল, চাকরি ছেড়ে দিয়েছো মানে?
হাজব্যাণ্ড এক জায়গায় আর আমি আরেক জায়গায় কি করে সম্ভব বলো?
এটা আগে ভাবা উচিত ছিল।
ভেবেই সব স্থির করেছি। জল্পেশ নার্সিং হোমের সঙ্গে কথা বলেছি।সপ্তায় দু-দিন ওখানে বসতে হবে। জল্পেশ এই বাংলো আমাকে দিয়েছে। অন্যান্যদিন গ্রামে গ্রামে ঘুরবো। গ্রামেই চিকিৎসা দরকার।
অভি বুঝতে পারলো মিমি সব প্লান করে তাকে পাঠিয়েছে এখানে।এইবাংলো দেখেই তার মনে হয়েছিল একজন শিক্ষকের জন্য এতবড় বাংলো?জিজ্ঞেস করে,তুমি জয়া হাসানকে চেনো?আমাদের কলেজের প্রিন্সিপ্যাল?
অল্প চিনি। ও নার্সিং হোমের মালিকের কেমন রিলেটিভ শুনেছি।
সব জলের মত পরিস্কার অভির মনে সমগ্র ব্যাপারটা সম্পর্কে আর কোনো ধোয়াশা নেই। জয়া হাসান জিজ্ঞেস করেছিলেন ড.এমা তার স্ত্রী কিনা? কনক বলছিল ও যা ব্যস্ত তোমাকে সামলাবে কখন?কার হাতে পড়েছে বুঝতে পারে। কনক ডাক্তার এমাকে দেখেছে কিন্তু মিমিকে চেনেনা। ওর চোখকে ফাঁকি দেওয়া সহজ নয় অভি ভালই বুঝছে। পিছন ফিরেই এমা বলল,আমি এসেছি তুমি খুশি হওনি?
অভি পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলল,জেনে বুঝেও আমার মুখ হতে শুনতে চাও?মিমি ছোটোবেলা ভাবতাম কবে বড় হবো। অভিভাবকের শাসন থেকে মুক্তি পাবো?বাবা-মাকে হারিয়ে বুঝেছি কি দুর্বিষহ এই মুক্ত জীবন। নিজেকে তাই সপে দিয়েছি তোমার জিম্মায়। আচ্ছা তুমি এত হড়বর করছো কেন?আস্তে আস্তে করো।
মিমি পিছন ফিরে অভিকে দেখে হাসলো। রক্তাভ একজোড়া ঠোঁটের মধ্যে মুক্তোর মত সারিসারি সাজানো দাঁত। মিমি বলল,টু-ডে ইজ এ অস্পিশাস ডে।
অসপিশাস মানে মঙ্গলজনক। কেন মঙ্গলজনক?মিমির কথা কিছু মাথায় ঢোকে না। একসময় ঐ বলবে ভেবে অভি কিছু বললনা। মুগ্ধ হয়ে মিমিকে দেখতে থাকে। কোন বর্মা মুলুকে থাকতো অথচ এদেশের গ্রামের মানুষের জন্য কি মমতা। এখানকার মেয়েদের মত স্বামীর হাত ধরে চলেনা স্বামীকে হাত ধরে টেনে নিয়ে চলে। এমা পিছন ফিরে হেসে বলল,ক্ষিধে পেয়েছে?
আমি আরও রাতে খেতাম।
আজ এগারোটার মধ্যে সব শেষ করতে হবে।
অভি বুঝতে পারেনা আজ অস্পিসিয়াসডে আবার এগারোটার মধ্যে শেষ করতে হবে, এসবের মানে কি? ওদের দেশের কোনো আচার অনুষ্ঠানের কথা বলছে নাকি?
জন্মদিনের অনুষ্ঠান সেরে অনু নীচে নেমে এল। কনক মেয়েকে জিজ্ঞেস করে,কি করলো কি কি খাওয়ালো ইত্যাদি। অনু খুব উৎসাহ নিয়ে মাম্মীকে বলতে বলতে একসময় জিজ্ঞেস করে,মাম্মী আমার বার্থডে করবে না?
কনক থমকে যায় এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে তার জন্য প্রস্তুত ছিলনা।
অনু মাম্মীর চিবুকে হাত দিয়ে বলল,মাম্মী আমার জন্মদিনে সুমি আপু স্কুলের বন্ধুদের বলবে না?কি হল বলো?
হ্যা সোনা সবাইকে বলবো।
কথাটা বলে কনক দায় এড়ালো। কিন্তু প্রশ্নটা সারাক্ষণ মাথার মধ্যে খচখচ করতে থাকে। জন্মদিন করতে চাইলে বায়না ধরবে আসার ড্যাডিকে ডাকো নি কেন? আমি ড্যাডিকে দেখতে চাই? এসব প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়ার ভয় হয়। কিন্তু এখন হয়তো অভি এখানে আছে কোনো সমাধান খুঁজে বের করতে পারবে।
খাওয়া দাওয়া শেষ করে এমা প্রসাধন করতে বসলো। এমার আচরণের মাথামুণ্ডূ কিছু বুঝতে পারে না অভি। এখন শোবার সময় এত সাজগোজের কি হল?এমার পিছনে গিয়ে দাড়াতে ঘুরে দাঁড়িয়ে অভির গায়ে সেণ্ট স্প্রে করে দিয়ে বলল,শুভ চিন্তা করো।
আগে বলেছিল অস্পিসাউস ডে এগারোটার মধ্যে শেষ করতে হবে এখন বলল,শুভ চিন্তা করো। চিন্তা করবে কি অভির সব তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে।
রাতে শুয়ে অনুর প্রশ্নটা নিয়ে চিন্তা করছিল কনক। মনে মনে সিদ্ধান্ত করে সামান্য ব্যাপার এই নিয়ে এত সিরিয়াস হবার কোন অর্থ হয়না। অনুর জন্মদিন পালন করবে। একটা স্বস্তি এবং ভরসা খুঁজে পেল। অভিও এই শহরেই থাকবে। সমাজের আড়ালে তার মেয়ে তার বাবার সামনেই বেড়ে উঠবে। ড.এমা অবাঙালী হলেও মানুষ চিনতে ভুল করেনি। ওরা সুখী হোক আন্তরিকভাবে কামনা করে কনক।
এমা বিছানায় বালিশে হেলান দিয়ে অভিকে ডাকলো,কাম অন অভি।
অভি তার ভালোবাসার ডাকে নিজেকে প্রেমের সাগর স্রোতে ভাসিয়ে দিল। যারা জীবনে বেশি ভাবে তারা জীবনে বেশি কিছু করতে পারে না। জীবনের প্রতিটি দিন আমাদের এমনভাবে কাটানো উচিত, যেন আজ আমার জীবনের শেষ দিন। জীবনে সবাই তোমাকে কষ্ট দিবে, কিন্তু তা থেকে তোমার জীবনে শুধু এমন একজন কে বেছে নিতে হবে যার দেওয়া দুঃখ কষ্ট তুমি সহ্য করতে পারবে। তার চোখে নিজের ভালোবাসা প্রেম কে খুঁজে পাবে। জীবনে সুখের কামনা করা ভালো কথা। কিন্তু সুখ হলো কাগজের নৌকার মত,কিছুক্ষণ ভেসে পড়ে ডুবে যায়। জীবন স্রোত দু'দিক হতে এসে থাকে। স্রোতের একদিকে ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার শক্তি আর অন্যদিকে ভেসে যাওয়ার মতো নিধারুণ ত্যাগের মহিমা। তাই জীবনে কে আসলো আর কে চলে গেল তা নিয়ে ভাবা উচিত নয়। ভাবা উচিত সে আমাকে কি শিক্ষা দিয়ে গেল। দুনিয়ার জীবনটা মোমবাতির মতো সময়ের সাথে সাথে জীবন ছোট হয়ে যাচ্ছে। তাই অভিও নিজের জীবনের দুটি স্রোতের দিকে রয়ে গেল। যে সমাজের মাঝে প্রকাশিত থেকেও অপ্রকাশিত থেকে গেল অন্তরালে।
( ------★সমাপ্ত★--------)
[সম্পূর্ণ গল্পটি কেমন লেগেছে সবাই গল্পটি সম্পর্কে নিজের গঠনমূলক মন্তব্য করে যাবেন। আমি চেষ্টা করেছি গল্পটি বাস্তবতার সাথে মিল রাখার। অভি, কনক ও এমার মতো অনেকেই এই সমাজের রয়েছে। যেখানে কারো পরিচয় অন্তরালে রয়ে গেছে। এই ধরণের গল্প যারা পড়তে ইচ্ছুক তারা আমার সাথে এড হয়ে থাকুন বা আমাকে ফলো করুন। তাহলে খুব সহজেই আমার গল্পের আপডেট পেয়ে যাবেন। গল্পটি ভালো লেগে থাকলে তার রিভিউ দিতে ভুলবেন না।]

Post a Comment

Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.