গল্প- তাকে বাধা দিবে কে ( পর্ব -০১)
লেখক- Riaz Raj
------------
সে প্রেগন্যান্ট। মেয়েটির বয়স মাত্র ৪ বছর। রিয়াজের একমাত্র মেয়ে, সোহানা ।
এত ছোট মেয়েটিকে প্রেগন্যান্ট করবে কে। রিয়াজ সাহেব সোহানাকে নিয়ে যায় ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার বলল,পেটে বাচ্চা আছে ঠিকই। কিন্তু বাচ্চাটির মাথা নেই৷ অদ্ভুত বাচ্চার বিবরণ শুনে রিয়াজ ভয় পেয়ে যায়। একিই তো একটি বাচ্চার পেটে বাচ্চা,তারউপর ব্যাপারটা আরো জটিল। মাথা ছাড়া এই বাচ্চা সোহানার পেটে এলো কিভাবে , সেটাই আগে খোজ নেওয়ার বাকি৷
প্রথমে রিয়াজ বুঝতে পারেনি। সোহানা একদিন বলল,তার বাকি মাথা ব্যাথা। রিয়াজ সাহেব মাথা ব্যাথার মেডিসিন এনে দেয়। পরে সোহানা বমি শুরু করে, আর৷ পেট ব্যাথা বলে চিল্লাতে থাকে। রিয়াজ সোহানাকে পেট ব্যাথার মেডিসিন দেয়। তাও ঠিক হচ্ছিলোনা। কারণ এতটুকু একটা মেয়ে প্রেগন্যান্ট, এইটা কে বিশ্বাস করবে৷ রিয়াজের ভিতরে কোনো ভাবেই প্রেগন্যান্ট এর সন্দেহটা ঢুকেনি। কিন্তু মেয়ের পেট ব্যাথার কারণে ডাক্তারের কাছে আনতে বাধ্য হয়। আর এসেই এই ঘটনা শুনেন। তিনি তাড়াতাড়ি উনার স্ত্রী মুক্তাকে জানায় সবডা। মুক্তাও বেশ চমকে যায়। ৪ বছরের মেয়ে প্রেগন্যান্ট কথাটা শুনতেই গুজবের ঘ্রান পাওয়া যায়। কিন্তু এইটাই সত্যি। সোহানা প্রেগন্যান্ট।
রিয়াজ ডাক্তারকে কল দিয়ে বাচ্চা নষ্ট করার অপার দেয়। ডাক্তার রাফি সাহেব বলল।
- দেখুন রিয়াজ সাহেব। আপনার মেয়ের গর্ভস্থানের সাথে বাচ্চাটি এতোই কঠিন ভাবে পেচিয়ে আছে যে, বাচ্চা বের করতে হলে সোহানার পেটের ভিতর অনেক নাড়ি কাটা যাবে। এতে সোহানার মৃত্যুও হতে পারে।
- রাফি সাহেব, আপনারা কতো ডেলিভারির কাজ করেন। এইটা কি কোনো ভাবেই পসিবল না? এতো কঠিন ভাবে বাচ্চা পেচি আছে কিভাবে। সব গর্ভস্থান তো একই।
- হ্যাঁ, কিন্তু সোহানার পেটের বাচ্চাটি বড়ই অদ্ভুত। সে বাচ্চার মাথা নেই। আমি আরো গবেষনা করে বুঝলাম,বাচ্চাটির হাত প্রায় ২ ফুট লম্বা। অর্থাৎ তার দেহের থেকে ৩ গুন লম্বা তার হাত। আর পা দুটোও প্রায় ৪ গুন বড়। এখন কথা হচ্ছে বাচ্চাটির হাত আর পা সোহামের নাড়ির সাথে এমন ভাবে পেছিয়ে আছে যে, কোনো ভাবেই তাকে সিজার করে বের করা পসিবল না।
- তো অন্যভাবে তো করুন। যেকোনো ভাবেই কি করা যাবেনা?
- যেতো, কিন্তু সোহানার গর্ভস্রাব এখনো পরিপূর্ণ না। আমার ২৭ বছরের ডাক্তারিতে আমি এমন রোগী দেখিনি। এতো ছো মেয়েটি কিভাবে প্রেগন্যান্ট হতে পারেন। শুনলে অবাক হবেন, এই বাচ্চার বয়স এখন ৫ বছর চলে।
- কিহহ, সোহানার বয়স মাত্র ৪ বছর। তাহলে বাচ্চার বয়স কিভাবে ৫ বছর হয়।
- সেটাই তো ভাবছি। পরিস্থিতি অনুযায়ী বলতে হচ্ছে, সোহানার জন্মের আগ থেকে সোহানা প্রেগন্যান্ট। কিন্তু বিজ্ঞান অনুযায়ী এইটা কোনো ভাবেই সম্ভব না। আমি সত্যিই ক্লান্ত। আর ভাবতে পারছিনা।
- আচ্ছা, আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে নাতো? যদি এমন কিছুই না হয়ে থাকে?
- আজ অব্দি কোনো সময় আমার গবেষণা ভুল হয়না। এইটাই সত্য আর এইটাই বাস্তব। সোহানা প্রেগন্যান্ট, তার পেটের বাচ্চা অদ্ভুত আর সেই বাচ্চার বয়স.....
- ৫ বছর তাইতো? আচ্ছা এখন আমার কি করা উচিৎ।
- এক কাজ করতে পারেন। কোনো মায়াবিদ্যা ওয়ালা লোক দেখান। এই ছাড়া আর উপায় পাচ্ছিনা।
- কিহহ, শেষ এই রিয়াজ যাদুকে বিশ্বাস করবে?
- দেখুন রিয়াজ সাহেব, আমি এসব বিশ্বাস করিনা। কিন্ত সোহানাকে দেখার পর এই কালো যাদুর উপর আমার বিশ্বাস জন্ম হতে লাগলো।আপনি প্লিজ কোনো কবিরাজ দেখান।
- কি বালের বিজ্ঞান নিয়ে বসছেন আপনারা হা? বিজ্ঞানের উপর কোনো কিছু আছে নাকি।
- আগে জোর গলায় "না" বলতাম। কিন্তু এখন বলবো আমি শিওর না। আপনি যতই রাগ করেন, এর চেয়ে ভালো কিছু আমার মাথায় কাজ করেনা।
এ বলেই রাফি সাহেব ফোন কেটে দিলো। রিয়াজ মাথায় হাত দিয়ে সোফায় হেলান দিয়ে আছে৷ রাফি সাহেবের কথার আগামাথাও বুঝেনি তিনি। জন্মের আগেই কিভাবে প্রেগন্যান্ট হয় মানুষ। অদ্ভুত অলৌকিক এই বার্তা যেনো হাজারো রহস্য আটকে রেখেছে। প্রশ্ন জমা হলো একগোছা। প্রথমত এই বাচ্চা সোহানার পেটে এলো কিভাবে। জন্মের আগে কিভাবে সোহানা প্রেগন্যান্ট হয়৷ আর বাচ্চাটি অদ্ভুত কেনো। এইটা কি আসলেই কোনো অলৌকিক যাদুর খেলা? নাকি রিপোর্টটাই ভুল। রিয়াজ সাহেব পড়ে যায় মহা চিন্তায়। মুক্তাও কথাটা শুনে সেম টেনশনে পড়ে যায়। এদিকে সোহানা কয়েক ঘন্টা পর পর পেট ধরে চিৎকার মারে৷ আর বলে " আব্বু আমার পেট ব্যাথা করছে"।
রিয়াজ অলৌকিকে কিছুতে বিশ্বাসী না। কিন্তু এখন বিশ্বাস হোক আর না হোক, অন্তত কবিরাজের হেল্প লাগবেই তার। তাই রিয়াজ দেরি না করে, বাসা থেকে বের হয়ে যায়। গ্যারেজে গিয়ে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছে গেট থেকে। তখন রিয়াজ খেয়াল করো, গেটের দারোয়ানটা কেমন অছেনা। সে হাসছে,কিন্তু তার দাত ছিলোনা। আর দারোয়ানের চোখ দুটো সাদা ছিলো। রিয়াজ গেট থেকে বের হয়েই, আবার গাড়ি ব্যাক করে৷ এরপর দাওয়ানের ক্যাবিনের দিকে তাকিয়ে দেখে,দারোয়ান সেখানে নেই।রিয়াজ ফোন বের করে দারোয়ানকে কল দেয়। দারোয়ান রিসিভ করতেই রিয়াজ বলল,
- কি হলো মূসা কাকা, ডিউটি রেখে কোথায় গেলেন।
-আরে স্যার,আমি তো দোকানে এসেছি জ্বরের মেডিসিন নিতে।
- কখন গেছিলা।
- এইতো ১০ মিনিট আগে।
- ১০ মিনিট আগে? আমি তো আপনাকে ২ মিনিট আগে গেটের সামনেই দেখলাম।
- জ্বী না স্যার। হয়তো ভুল দেখছেন। আমি তো সেই ১০ মিনিট আগেই আসছি।
রিয়াজ আরো কনফিউজড হয়ে যায়। তবে এখন গেটের সামনে কে ছিলো৷ যার চোখ সাদা সাদা, মুখে ভয়ংকর হাসি ছিলো?
যাইহোক, রিয়াজ আবার রওনা দিলো কবিরাজের উদ্দেশ্যে। ৩৬ মিনিট পর কবিরাজের দেখা মেলে। এরপর রিয়াজ উনাকে বলে।
- দেখুন, আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন আগে ( এরপর রিয়াজ সব কথা খুলে বলে)
- তুই এক কাজ কর। তোর বাচ্চাকে কোরবানি দিয়ে দে।
- মানে? এসব কি বলছেন আপনি। আমি সোহানাকে কোরবানি কেনো দিব।
- তাহলে তোর সন্তানের পেটের ভিতর সেই বাচ্চাটি নষ্ট হবে।
এর মধ্যেই রিয়াজের ফোনে কল আসে। রিয়াজ স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখে কবিরাজের ফোন। সঙ্গে সঙ্গে লাফ মেরে উঠে রিয়াজ সামনে তাকায়। দেখে সেখানে কেও নেই।
রিয়াজ বেশ আতংকিত হয়ে ফোন রিসিভ করে। ওপাশ থেকে কবিরাজ বলল,
- আমি বাহিরে এসেছিলাম। তোমার জন্য কিছু নাস্তা পানি আনতে। বাসায় বসো।
- আ, আ, আপনি কখন গিয়েছিলেন?
- সে তো অনেক আগে। প্রায় ২০ মিনিট আগে। ভাবলাম তোমাকে কল দিয়ে জানিয়ে দেই।
- তাহলে এতক্ষণ আমার সাথে কথা কে বলল?
- কে বলবে, বাসায় তো কেও নেই।
- আপনি এক্ষুনি আসুন। এখানে কিছুই স্বাভাবিক নেই।
- ওকে ওকে আসছি।
রিয়াজ এসেছে একজন নামকরা বিখ্যাত কবিরাজের কাছে, উনার নাম মারুফ হোসেন।কিন্তু উনার চেহারা নিয়েই এতক্ষণ কেও রিয়াজের সাথে কথা বলেছে। সে বলল সোহানাকে কোরবানি করার জন্য৷ অর্থাৎ বুঝতে বাকি নেই, কোনো কালো শক্তি সোহানাকে মেরে ফেলতে চায়। রিয়াজ চুপচাপ মারুফের বাসায় বসে আছে। চারপাশে কিছুক্ষণ পর পর একটা ভয়ংকর গর্জন শুনা যাচ্ছে। রিয়াজ এতদিন এসবে বিশ্বাসী না হলেও, এখন পুরোপুরি বিশ্বাস করতে বাধ্য। ভয়ে রিয়াজের লোম দাড়িয়ে যাচ্ছে। কেও যেনো রুমের আড়ালে বলছে " মেরে দে, মেরে ফেল,তাকে আসতে দিবিনা"। আবার কেও বলতেছে " মরে যাবি,মৃত্যুর সঙ্গে খেলিস না"। এরকন অদ্ভুত অদ্ভুত শব্দ একটু পর পর রিয়াজ শুনেই যাচ্ছে। ভয়ে হাত পা অবশ হলেও, মুখ ফুটে কিছু বলতে পারছেনা রিয়াজ। এরা অশরীরী৷ কালো ছায়ার উৎপত্তি এক বায়ুথলীর সৃষ্টি৷ এদের সাথে কি বা বলবে। রিয়াজ উত্তেজিত হয়ে যাচ্ছে৷ ভয়ংকর শব্দগুলো আর শুনতে পারছেনা সে৷
হুট করে সব আওয়াজ বন্ধ হয়ে যায়৷ রিয়াজ মাথা তুলে দেখে কবিরাজ দরজা খুলে বাসায় প্রবেশ করেছে। রিয়াজ বুঝতে পারে, কবিরাজের আগমনে সব পালিয়ে গেছে৷ কবিরাজ বাসায় ঢুকতেই এদিক সেদিক কিছু খুজতে থাকে৷ আর নাক দিয়ে কিছুর ঘ্রান অনুভব করার চেষ্টা করে৷ এরকম কিছুক্ষণ করে, এরপর রিয়াজের সামনে এসে বসে বলল,
- বাসায় কিছু অশরীরী প্রবেশ করেছিলো৷ এখন একটাও নেই।
- হ্যাঁ, আমাকে এতক্ষণ ভয় দেখিয়েছে।
- ওরা তোমার কোনো শারীরিক ক্ষতি করবেনা৷
- কেনো? ওরা শয়তান, আমাকে ক্ষতি করবেনা কেন।
- তুমি এখানে কেনো এসেছো, তা কাল রাতেই জেনেছি আমি। রাফি সাহেব কাল রাতে কল দিয়ে আমাকে জানায় সব। এরপর তোমার কল পেয়ে আমি বুঝতে পেরেছি, তুমি কেন এসেছো।
- সোহানার ব্যাপারে সব বলে ছিলো?
- হ্যাঁ। আর আমি কাল রাতেই বিষয়টি নিয়ে ঘেটেছি। আর বুঝেও গেছি।
- তো বলুন?
- এখানে অশরীরী একটা নয় শুধু। একদল তোমার সন্তানের পেটের বাচ্চাকে পৃথিবীতে আনতে চায়। আরেকদল সোহানার পেটের বাচ্চাকে মারতে চায়, আরেকটা দল আছে, তারা সোহানার পেটের বাচ্চাকে নিজেদের বশে করে নিতে চায়, আর আরেকটা দল আছে, যারা তোমার পুরো ফ্যামিলিকে শেষ করতে চায়।
- মোট চারটা অশরীরীর দল?
- হ্যাঁ, আর এই চারটির উদ্দেশ্য একটাই, সোহানার পেটের বাচ্চাটিকে নিয়ে ( কথাটা শুনেই রিয়াজ মরুফ সাহেবের পায়ে পড়ে বলল)
- প্লিজ, আমার ৪ বছরের বাচ্চাটিকে বাচান। ও অনেক ছোট, আর কত সহ্য করবে এমন চাপ। দরকার হলে আমাকে এর মাঝে কোরবানি করে দিন। তবু আমার সোহানাকে বাচান,প্লিজ। ( বলেই কান্না করে দিল রিয়াজ)
- দেখুন রিয়াজ সাহেব। এখানে এখন কিছুই করার নেই। ধীরে ধীরে এর সমাধান তোমাকেই খুজতে হবে।
- আমি কিভাবে খুজবো।
- সেটা পরিস্থিতি বলে দিবে। এখন বাসায় যাও। তোমার বাসায় দুই দল অশরীরী আছে এখন।
- তারা কে কে।
- একদল হচ্ছে অশরীরী সেই বাচ্চাকে পৃথিবীতে আনার দল, আরেকটা হচ্ছে, তোমার ফ্যামিলিকে শেষ করার দল।
- অর্থাৎ তারা দুই দল দুজনের শত্রু?
- হ্যাঁ, ওরা নিজেদের মাঝেই যুদ্ধ শুরু করে দিবে। আর সেটা তুমি নিজেই টের পাবা।
- আচ্ছা, একটা উপায় তো বলুন আমাকে৷ আমি কি কি করবো এখন।
- তোমার এখন টার্গেট থাকতে হবে, চারটি দলকে চিহ্নিত করা।
- তারপরে?
- সেটা পরেই জেনে যাবে।
- আচ্ছা আমি আসি এখন।
- হুম যাও, আর হ্যাঁ, সোহানার খেয়াল রেখো।
রিয়াজ কবিরাজ মারুফের বাসা ছেড়ে চলে আসে বাড়িতে। বাড়িতে দেখাশুনা করার জন্য, আরো একটি কাজের মেয়ে রাখে। মেয়েটির নাম নিপা। বাড়ির কাজ কর্ম নাকি ভালো করে। তাই তাকে রাখা হয় নিজেদের বাড়িতে। রিয়াজ বাসায় আসতেই অন্য রকম কিছু অনুভব করতে থাকে৷ যেনো এখানে ওখানে লুকিয়ে আছে কেও। সোহানার রুমে গিয়ে দেখে, সোহানা ঘুমাচ্ছে। নিষ্পাপ মেয়েটির উপর কতোই না অত্যাচার। রিয়াজের চোখের কোনে এক ফোটা পানি চলে আসে। এরপর রিয়াজ মেয়ের দিকে তাকাতে তাকাতে দরজা অফ করে। দরজা অফ করে মাথা ঘুরানোর আগে, আবার হুট করে দরজা খুলে ফেলে। রুমে ঢুকেই রিয়াজ এদিক সেদিক পায়চারি করে। কারণ হচ্ছে, রিয়াজ দরজা অফ করার সময় সোহানার পাশে কালো জামা পড়া,ভয়ংকর একটা চেহারা দেখেছে। নিশ্চয় বড়সড় কোনো কিছু হতে চাচ্ছিলো। রিয়াজ সোহানাকে কোলে তুলে নিয়ে যায় নিজের রুমে। এরপর মুক্তা সহ সোহানাকে দেখাশুনা করে।
দেখতে দেখতে রাত নেমে আসে। কাজের মেয়ে নিপা এসে বলল,
- দুলাভাই, ভাবি। খাওন হইয়া গেছে,খাইবেন না?
- হ্যাঁ, এক কাজ করো। খাবার রুমে নিয়ে আসো।
- ঠিক আছে আপা।
মুক্তার অর্ডারে নিপা খাবার রুমে নিয়ে আসে। এরপর সবাই খাওয়াদাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়ে।
রাত ২ টা.....
একটা কুটকুট শব্দে রিয়াজের ঘুম ভেঙ্গে যায়। রিয়াজ চোখ খোলেই দেখে, খাটে মুক্তা এবং সোহানা কেওই নেই। রিয়াজ লাফ মেরে উঠেই লাইট অন করে রুমের। রুমের আসবাবপত্র সব এলোমেলো করা। সঙ্গে সঙ্গে রিয়াজ জানাকার বাহিরে একটা বিকট শব্দ শুনে। রিয়াজ তাড়াতাড়ি জানালার পর্দা সরিয়ে দেখতে পায়, বাহিরে দুইটা কালো ছায়া উধম মারামারি লেগেছে। একজন একজনকে এমন জোরে উড়িয়ে ঘুরিয়ে মারছে, যেনো হলিউড মুভির কোনো সিন৷ রিয়াজ তাড়াতাড়ি উপর তলা থেকে নিছের তলায় এসে দেখে, সোহানা আর মুক্তা ফ্লোরে পড়ে আছে। রিয়াজ আগে সোহানাকে কোলে তুলে মুক্তার কাছে যায়। মুক্তার মুখে ক্ষতবিক্ষত আচড়ের চাপ। রিয়াজ মুক্তাকে কয়েকবার ডেকে তুলে। এরপর দুজনকে নিয়েই চলে আসে রুমে। মুক্তাকে অশরীরীরা অনেক মেরেছে। মুখে দাগ। রিয়াজ মেডিসিন লাগাচ্ছে আর মুক্তাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছে। এ কোন অভিশাপ নেমে এলো তাদের জীবনে। সারারাত আর ঘুমায়নি তারা সোহানাকে পাহারা দেয়। সকাল সকাল রিয়াজের ফোনে কল আসে, কবিরাজ মারুফ মারা যায়। রিয়াজ একটা শক্তিকে হারিয়ে আরো ভেঙ্গে পড়ে। ঠিক তার পর পরই রিয়াজের ফোনে আরেকটা কল রিসিভ করতেই খবর আসে, ডক্টর রাফি সাহেব নিজের দেহে নিজে বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে আত্মহত্যা করে। রিয়াজের মাথায় যেনো আকাশ ভেঙ্গে পড়ে।
কবিরাজ মারুফ মারা গেলো। ডক্টর রাফি আত্মহত্যা করলো। এদিকে চারটি অশরীরী তাদের ঘিরে আছে। তাদের একা চিহ্নিত করবে কিভাবে। চিহ্নিত করেও বা, কি করবে। সোহানাকে কিভাবে বাচাবে। রিয়াজ এখন কি করবে? কি হবে এখন?
চলবে............
গল্প- তাকে বাধা দিবে কে ( পর্ব -০১)
লেখক- Riaz Raj
( কমেন্ট বক্সে সুন্দর এক্ষাণ কমেন্ট করেন। আর পুরো গল্পের রহস্য কি হতে পারে, তা লিখে পোষ্ট দিন আমার গ্রুপে। অথবা রহস্য না বুঝলে, আমারে পচাইয়া গ্রুপে পোষ্ট দেন। যদি তাও না পারেন, অন্যদের পোষ্টে লাইক কমেন্ট করেন।