রোবোটিক হিরো
সাদিয়া নওরিন
পর্ব--- ২০
হাসপাতালের ছাদটা গোল.. আর এখানদিয়ে দূরের আকাশটা অন্যরকম সুন্দর দেখাই!! মনে হয় কোন শিল্পী তার রং তুলি দিয়ে নিল ক্যামভাসে সাদা রং ছড়িয়ে দিয়েছে!! পিটারের ছাদে গিয়ে মন ভাল।হয়ে গেল. সে এ্যান্জিকে মিষ্টি হেসে ধন্যবাদ জানালো.. প্রতিউওরে এ্যান্জিও একটা মিষ্টি হাসি দিল..
পিটার এইবার ইয়ুতের দিকে ব্রু কুঁচকে তাকালো.. ইয়ুত মুখে মেকি হাসি দিয়ে মনে মনে কথা সাজিয়ে যেই বলবে.. পিটার তাকে হাত উচিয়ে থামিয়ে দিল.. তারপর অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে বলল-- তুমি এইবার যেতে পার...
ইয়ুত এইভাবে বলাতে অপমান ফিল করল. সে সিঁড়িতে এসে সিনকে কল দিল আর মুখে দুঃখী ভাব এনে বলল-- আমি তোমার কথা বলতে গিয়েছিলাম সিন.. কিন্তু ওনি তোমাকে ত্যাজ্য করবেন বলেছেন...
সিনের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো সিনের রাগ.. আর ইয়ুত সেইটাকেই কাজে লাগায়.. সিন রাগে ফেটে পড়ে আর মনিটর নিয়ে ন্যামকে কন্ট্রোল করতে শুরু করে...
এ্যান্জি দূর সিমানাই দৃষ্টি দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে.. তার দৃষ্টি আজ শূন্যে!! তার বারবার ন্যামের কথা মনে পড়ছে!! আর নয়নদুটি বারবার অশ্রুসিক্ত হচ্ছে.. হঠাৎ তার গেইটের দিকে চোখ পড়লো!! মুহুর্তেই সে অবাক হয়ে রইলো!! এইযে ন্যামসিন!! কিন্তু আজ তার আগমন এ্যান্জির মনে খুশির চেয়ে ভয় বেশি সৃষ্টি করছে।। সে দৌড়ে ন্যামের কাছে যেতে চায়লো.. কিন্তু ন্যাম তার হাতদিয়ে এ্যান্জিকে সরিয়ে পিটারের দিকে এগিয়ে চলল.. এ্যান্জি অবাক হয়ে সেদিকে তাকালো.. তার মন অশানা আসঙ্কায় ভর করলো!! সে কোনদিন ও ভাবতে পারে নি সিন এতোটা নিচে নেমে যাবে সে ন্যাম বলে ন্যামের পিছনে দৌড়ে গেল..
ন্যাম পিটারের গলা চেপে ধরে তাকে দাড় করালো... পিটার ন্যামের হাত ছাড়ানোর কোন চেষ্টাই করলো না!! সে অবাক হয়ে দেখে আছে!! কারন সে আজ ন্যামের মাঝে তার সিন কে দেখছে!! আজ তার নিজেকে ধিক্কার দিতে ইচ্ছে হচ্ছে সেই দিনের জন্য, যেদিন সিনকে লির কোল থেকে ছিনিয়ে এনেছিল পিটার.. আর তার পরিচালনের ভুলের জন্য সিন এতোটা স্বার্থপর হয়ে ওঠেছে...
এ্যান্জি এইভাবে হাতে হাত রেখে বসে থাকতে পারলো না সে ন্যামের গালে জোরে থাপ্পড় লাগিয়ে দিল আর পিটারকে তার হাত থেকে ছাড়ানোর জন্য টানতে লাগলো..
ন্যাম পিটারকে ছেড়ে দিল। সে ঢলে মাটিতে পড়ে গেল!! ন্যাম এ্যান্জির দিকে রেগে তাকালো!! সে এ্যান্জির গলা টিপে ধরলো আর ওভাবেই ওকে মাটি থেকে আলগা করে ধরলো..
এ্যান্জির মনে হচ্ছে সে মরেই যাবে.. কিন্তু সে নিজেকে শক্ত করে নিল!! সে এতো সহজে হারতে পারে না!! সে ন্যামের চোখের দিকে স্হির দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো আর বলল-- আমি তোমাকে ভয় পায় না ন্যাম.. তুৃমি মেরে ফেল আমাকে!! কারন আমি জানি তুমি এখন হয়তো আমাকে ভূলে গেছ কিন্তু একসময় যখন সব মনে পড়বে তুমি অনুতাপে জ্বলেপুড়ে শেষ হয়ে যাবে.. তাই বলছি ফিরে এসো ন্যাম.. সিন আর কোন ক্ষতি করার আগে ফিরে এসো..
ন্যামের হাত আস্তে আস্তে শিতিল হয়ে ওঠলো.. সে হালকা নড়ে ওঠলো..
সিন অবাক হয়ে দেখলো তার কন্ট্রোল শক্তি ন্যামের ওপর থেকে কমে যাচ্ছে!! সে অধৈর্য হয়ে বলল-- ন্যামসিন.. কিল হার.
ন্যাম থমকে দাঁড়ালো। চোখ বন্ধ করে আবার অন করলো.
তারপর এ্যান্জির গলা শক্ত করে চেপে ধরলো.. এ্যান্জি জোরে জোরে কাশতে লাগলো তার মনে হচ্ছে সে মরেই যাবে.. হঠাৎ তার চোখের পানি গড়িয়ে ন্যামের হাতের ওপর পড়তে লাগলো আর এতে ন্যামের হিউম্যান সেন্সার এ্যাক্টিভেট হতে শুরু করলো। সে হালকা দোলে ওঠলো... আস্তে আস্তে হাতের বন্ধনও ঢিল হতে শুরু করলো আর আস্তে করে এ্যান্জি নিচে নেমে এলো.. এ্যান্জি ন্যামের কোলে ডলে পড়লো...আর অন্যদিকে সিনের মনিটরের স্কিন ব্লেক হয়ে গেল।।। সিন বিস্ফোরিত চোখে সেদিকে তাকালো!! সে বোঝতে পারলো না কি হচ্ছে হঠাৎ সে এড্যামকে দেখলো সে হাসপাতালের দিকে আসছে.. সিন তাড়াতাড়ি মাথা নিচু করে ফেলল!! এ্যাডামের হাতে ধরা পড়লে সব বুঝে যাবে সেই ভয়ে.. এ্যাডাম ডুকার সাথে সাথে সিন গাড়ি স্টার্ট দিয়ে পালিয়ে গেল.. সে চায় না আর কোন জামেলাই পড়োক সে!!
ন্যাম এ্যান্জিকে আলতো করে বুকে জড়িয়ে ধরলো। তার মনে অনুশোচনার পাহাড় জমেছে। সে কিভাবে পারলো এ্যান্জিকে কষ্ট দিতে.. সে এ্যান্জি মুখ হালকা ঝাকাতে লাগলো আর সরি বলতে লাগলো. ন্যাম এ্যান্জির মুখটা হালকা উচু করে বলল-- সরি এ্যান্জি.. আমি কারোর যোগ্য না । দেখ আজকে আমার জন্য কি হতে যাচ্ছিল.. আমি তোমাদের থেকে দূরে চলে যাব... এইবলে সে যখন ওঠতে গেল এ্যান্জি খপ করে ন্যামের হাত ধরে নিজের দিকে টান দিল.. ন্যাম হুমড়িখেয়ে পড়তে গিয়ে নিজেকে সামলে নিল তারপর অবাক চোখে বলল-- কি হল??
এ্যান্জি ন্যামকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল-- কোথায় যাওয়ার কথা বলছ.. তোমাকে ছাড়া থাকাটা কতটা কষ্টকর!! সে কষ্টের সাথে তুলনা করলে আমি এখন কোন কষ্টই পাই নি.. আর আমি আজিবন তোমার সাথে থাকতে চায় ন্যাম.. আমাকে বিয়ে করবে?? আমরা না হয় একটা রোবোট কাপল হব... তুমি আমি আর নিন্স..
ন্যাম অবাক হয়ে তাকালো,, সে কি বলবে বোঝতে পারছে না.. তার কি বলা উচিত সে হালকা চোখ অফ করে অন করলো তারপর বলল-- তুমি আবেগে ডুবে যাচ্ছ এ্যান্জি.. আমি কোন মানুষ নয়..আর..
এ্যান্জি ন্যামের মুখের ওপর হাত দিয়ে বলল-- i don't care..
এই বলতে বলতে সে ন্যামের বুকেই ঢলে পড়লো.. ন্যাম অবাক চোখে এ্যান্জির দিকে তাকালো.. কান্না করে চেহারার কি অবস্হা করেছে মেয়েটা।। চোখ গুলো ফোলে গেছে.. নাক টা লাল.. ফ্যাকাসে মুখ!! ন্যাম আলতো করে মুখ তুলে কপালে গভীর চুমো দিল এ্যান্জির.. তখন এড্যাম ছাদে এলো.. এই অবস্হা দেখে তার বুকের ভিতর ধুক করে উঠলো.. সে দৌড়ে পিটারের কাছে গেল.. আর তাকে ঝাকাতে লাগলো.. ন্যামের যেন এইবার ঘোর কাটলো! সে এ্যান্জিকে রেখে পিটারের কাছে পৌঁছে গেল.. আর এ্যাডামের সামনে মাথা নুইয়ে বলল-- এ্যাডাম সব আমি করেছি!! এ্যাডাম অবাক চোখে তাকালো তারপর হালকা মাথা নেড়ে বলল-- এই ব্যাপারে আমি কথা বলতে চায় না.. আগে দাদুকো ডঃ দেখাই.. এই বলে সে পিটারকে হুইলচেয়ারে বসিয়ে টানতে টানতে নিয়ে চলল আর ন্যাম এ্যান্জিকে কোলে করে নিচে নিয়ে চলল!!
এ্যাডাম ও ন্যাম অস্হির হয়ে পায়চারি করছে.. এ্যান্জি আর পিটার দুইজন ই আই সিউ তে.. সেইখানে কি হচ্ছে তাদের ধারনার বাইরে!!
হঠাৎ দুজন ডঃ হাসিমুখে বেরিয়ে এলো আর হালকা মুচকি হেসে বলল-- তারা ঠিক আছে..
ন্যাম খুশিতে এ্যাডামকে জড়িয়ে ধরলো.. এ্যাডাম হেসে ন্যাম কাধে হাত বুলিয়ে দিল..
পিটার এখনো হাসপাতালে আর এ্যান্জিকে রিলিজ করে দেওয়া হয়েছে.. তারা নিজেদের ফ্ল্যাটে ফিরে এসেছে যেইটা পিটার তাদের দিয়েছে!! যদিও তারা আসতে চায়নি.. এ্যাডাম জোর করে পাটিয়েছে এইখানে কারন তার বিশ্বাস পিটার যা করেছে চিন্তা ভাবনা করে করেছে...
দুজনমিলে ফ্ল্যাটটা নিজেদের মন মতো সাজিয়ে নিল তারা.. রান্নার ভারটা ন্যামের ওপর তুলে দিল এ্যান্জি। ন্যাম মিষ্টি হেসে রান্না করতে চলে গেল...
এ্যান্জি বারান্দায় দোলনায় বসে দোল খাচ্ছে!! তার দৃষ্টি বাইরে.. রাস্তায় নানা রংয়ের লাইটগুলো কালারফুল জোনাকি মনে হচ্ছে এ্যান্জির কাছে.. ন্যাম এককাপ কফি এ্যান্জির হাতে দিয়ে সেও বসে পড়লো.. এ্যান্জি মুচকি হেসে ন্যামের কাধে মাথা রাখলো!! তারপর বাইরের দিকে তাকিয়েই বলল-- ন্যাম কি ভাবলে??
ন্যাম বুঝতে পারলো এ্যান্জি কি মিন করছে.. সে মু্খে দুষ্টু হাসি টেনে বলল-- কি সম্পর্কে??
এ্যান্জি নাক ফুলিয়ে বলল-- কি আবার আমাদের বিয়ে...
ন্যাম মুচকি হেসে বলল-- হুম..
এ্যান্জি ওর দিকে ফিরে অবাক হয়ে বলল-- কি হুম??
ন্যাম হেসে বলল-- দেখা যাক...
এইবলে সে ওঠে গেল.. এ্যান্জি মুখ ভেঙ্গিয়ে ন্যামের কথা রিপিট করতে করতে তাকে বকতে লাগলো!!!
পরের দিন ন্যাম এ্যান্জিকে নিয়ে লির কাছে এলো.. লি ন্যামকে জোরে জড়িয়ে ধরলো.. ন্যাম অবাক হয়ে লির দিকে তাকালো.. লি কান্না করতে করতে বলল-- ন্যাম আমাকে ক্ষমা কর.. আজ আমার জন্যই সিন তোমার সাথে এই জঘন্য কাজটা করতপ পেরেছে
ন্যাম হেসে মার কাধে হাত দিয়ে বলল-- মম.. আমি একটা মেশিন। আর সিনের ও কোন দোষ নেই..
লি কিছু বলতে চেয়েও বলল না.। সে ন্যামকে ল্যাবে নিয়ে গেল আর তার প্রোগামের মধ্যে অন্যকোন সমস্যা আছে কিনা চেক করে নিল.. তারপর অন্যদিকে তাকিয়ে বলল-- আমি তোমাকে স্বাধীন করে দিলাম ন্যাম...
ন্যাম অবাক হয়ে বলল-- স্বাধীন??
লি হালকা মাথা ধুলিয়ে বলল-- হুম.. আজ থেকে কারো আদেশ মেনপ চলবে না তুৃমি.. তোমার মতো তুমি চলবে.. এ্যান্জির সাথে নিজের জিবনটা কাটাও..
ন্যাম অবাক হয়ে বলল-- মম.. আমি রোবোট.. আর..
লি তাকে শেষ করতে না দিয়ে বলল-- এ্যান্জির এতে কোন সমস্যা নেয়.. আর একটা জিনিস.. বলে ন্যামের কিলিং সুইচটা ন্যামের হাতে তুলে দিল লি.. তারপর কান্না চেপে রেখে বলল-- এইটা নিজের কাছে রাখ ন্যাম.. আমি জানি তুৃৃমি এইটার সম্পর্কে আগে থেকে জান... তারপর ন্যামের মুখে হাত দিয়ে বলল-- আমি অনেক খারাপ একটা মম ন্যাম.. আমার কাচে এসো না...
ন্যাম লির হাতটা নিজের মুটোতে পুড়ে বলল-- তুমি ওয়াল্ড বেস্ট মম.. কখনো খারাপ চাওনি. আমার তাই আমি বারবার তোমার কাছে আসবো মম।। আর এইটা তোমার কাছেই থাকুক...
কি মাথা ঝাকিয়ে বলল-- নাহ.. সিনকে বিশ্বাস করি না আমি। যাও এখন. এ্যান্জিকে সময় দাও.
ন্যাম আর লি বেরিয়ে এলো. এ্যান্জিকে মাথায় হাত দিয়ে আদর করে দিল লি.. আর দুইটি ডায়মন্ডের চুড়ি তাকে পড়িয়ে দিল.. এই যে তার বড় ছেলের বৌ!!! কিন্তু চায়লেই লি এইসব বলতে পারে না কাউকে!! তাহলে যে ন্যামের সমস্যা আরো বাড়বে.. ন্যাম সিনের জন্য লড়তে চায়বে.. আর লি সেইটা চায় না.. লি চায় ন্যাম সবার থেকে দূরে গিয়ে খুশি থাকুক!!
ন্যাম লির বাড়ি থেকে বেরিয়ে পকেটে হাত গুজে
বলল--- তারমানে তুমি মমকে বিয়ের কথা বলেছ
এ্যান্জি দাত দিয়ে জিব্হা কেটে দাড়িয়ে পড়লো..সে অন্যদিকে তাকিয়ে কয়েকটা ঢুক গিলে বলল-- তো।। কি করব.. তার ছেলে তো বিয়ে করবে কিনা বলছে না.. আর আমি বা কতোদিন কোমারি থাকবো তাই শাশুড়িকে দুঃখের কথা বললাম আর কি.. মাথা নিচু করে এইসব বলতে লাগলো সে.. ন্যাম উচ্চস্বরে হেসে দিল.. এ্যান্জি লাজুক চোখে সেদিকে তাকালো!!
ন্যামের প্রাণখোলা হাসি দেখে এ্যান্জি বিমোহিত হয়ে সেদিকে তাকিয়ে রইলো..দাতগুলো কতো সুন্দর সব একসমান.. এ্যান্জি বিমোহিত হয়ে ভাবলো..
হঠাৎ তাদের এ্যামির সাথে দেখা হয়ে গেল.. এ্যামি দাড়িয়ে সেলফি তুলছিল ক্যামরায় তাদের দেখে পিছনে ফিরে মিষ্টি হেসে দিল.. তারপর কিছু টুকিটাকি কথা বলে তারা বিদায় নিয়ে চলে এলো.. কিন্তু এ্যামির সেই সেলফিতে ছবি হয়ে থেকে গেল এ্যান্জি - ন্যাম আর ন্যামের হাতের কিলিং সুইচের বক্স.. যা লি তাকে দিয়েছে....
বিকেলে এ্যান্জি আর ন্যাম মিলে পুরো ফ্ল্যাটটা সাজালো.. আর নানা রকম ডিস রান্নাও.. এ্যাডাম কল দিয়ে বলেছে পিটার ন্যামদের সাথে থাকতে চায়.. এ্যান্জি আর ন্যাম অনেক খুশি.. এ্যান্জি যদিও ভয় পাচ্ছে.. সবকিছু ঠিকভাবে গুছিয়েছে কিনা সে বোঝতে পারছে না আর মিস্টার পিটার অনেকটা খুতখুতে.. কিন্তু ন্যাম এ্যান্জির কাধে হাত দিয়ে তাকে অভয় দিয়ে বলে কিছুই হবে না... সব ঠিক হয়ে যাবে..যদিও ন্যামের নিজের ই মি পিটারের কাছে যেতে আনইজি লাগছে।
এ্যাডাম পিটারকে হুইলচেয়ারে করে ভিতরে নিয়ে এলো. সিন মাথা নিচু করে পিটারেরে সামনে দাড়িয়ে পড়লো..
পিটার তার কাধে হাত দিয়ে তাকে অবাক করে দাড়িয়ে গেল.. তারপর হেসে বলল-- ন্যাম তোমার কেন দোষ নেই. আমি জানি সিন করেছে সব.. আর আমি চায় তুমি এইবার দুনিয়ার সামনে আস.. এতো দিন নিজের করা কাজগুলোতে নিজের নাম বসাও..
ন্যাম অবাক হয়ে তাকালো তারপর মুখ ভাড় করে বলল-- কিন্তু সিন??
পিটার মাথা ধুলিয়ে বলল-- যার যা প্রাপ্য তাকে তারটা বুঝে নিতে হয়...
ন্যাম হালকা মাথা ধুলিয়ে পিটারকে নিয়ে টেবিলে গেল আর ডিনারটা সেরে নিল. পিটার হঠাৎপকেট থেকে ন্যামকে কার্ড দিয়ে বলল বলল-- তুমি এই কার্ডটা নিয়ে যাও আর বিয়ের ড্রেস কিনে নাও...
ন্যাম চোখবড় করে বলল-- বিয়ে.. কার???
পিটার খেতে খেতে মাথা দুলিয়ে বলল-- আশ্চর্য তোমার।। তারপর এ্যান্জিকে বলল-- একে বল নি যে তোমাদের বিয়ে কয়েকদিন পর..
ন্যাম অবাক হয়ে এ্যান্জির দিকে তাকালো আর এ্যান্জি তাড়াতাড়ি লুকিয়ে পড়লো.. ন্যাম মাথা ধুলিয়ে বলল-- দুনিয়ার প্রথম বৌ এই মেয়ে যে কিনা নিজে বিয়ের কথা শশুরবাড়ির লোকজনকে বলে।।।
চলবে