#হ্যাকারের_লুকোচুরি
সিজন ৪
পর্ব ২
ডিক্রিপশন প্রসেসের ধীরগতি দেখে এনালিস্টদের মাথায় চিন্তার ভাজ পড়ে, এর আগেও অনেক বড় আর ভারী এনক্রিপ্টেড ডাটা ডিক্রিপ্ট করেছে তারা। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন এনক্রিপশন এতটা সময় নেয় নি। EonTec এর এনক্রিপশন সিস্টেম যথেষ্ট আপডেটেড, বলা যায় পৃথিবী নামক গ্রহে সবচেয়ে ইফিশিয়েন্ট আর আপ টু ডেট সিস্টেম এখন EonTec এর দখলে। তাদের পক্ষেও এত ভারী এনক্রিপশন তৈরী করা একপ্রকার অসম্ভব। এই প্রযুক্তি এখনো কয়েক প্রজন্ম এগিয়ে। এতটা এডভান্সড এনক্রিপশন কে তৈরী করলো আর কিভাবেই বা EonTec এর স্যাটেলাইটে এলো তার হিসাব কিছুতেই মেলাতে পারে না এনালিস্ট টিম।
:- কিছু তো একটা গড়বড় লাগছে আমার।
এনক্রিপশনের বিপ বিপ আওয়াজ ছাড়া পিনপতন নিরবতা ভেংগে বলে ওঠে জোহান নামের একজন জুনিয়র এনালিস্ট। বেশ শান্ত আর নীরব একটা ছেলে এই জোহান। এত ভারী এবং এডভান্সড এনক্রিপশন দিয়ে কেউ কোন ধরনের ডেটা রাখতে পারে তার সম্পর্কে কম বেশী ভালো ধারনাই আছে তার। মূলত এনক্রিপশনের ধীরগতির জন্য টিম লিডার এই পুরো ডিক্রিপশন প্রসেসটা ২৫ বছর বয়সী জোহানকে হ্যান্ডেল করতে বলে কারন জোহান এখনো কোম্পানীর শিক্ষানবিশ পদে আছে আর তাই এনালিস্ট টিম খুব কম ই কাজে লাগাতো জোহানকে। তাই মনিটরে ডিক্রিপশন প্রসেসের অগ্রগতি দেখার মত বোরিং কাজটা জোহানের হাতেই পড়ে। মোটামুটিভাবে অভ্যস্ত হওয়ায় জোহানও দায়িত্বটা গ্রহন করে। এনক্রিপশনের উপর জোহানের ধারনা থাকার কারন ও আছে। জোহান পুথিগত শিক্ষায় শিক্ষিত কোন এনালিষ্ট নয়। তবে ডার্কওয়েব আর ব্লাক ওয়েব মার্কেট সম্পর্কে খুব ভালো ধারনা আছে তার, EonTec কর্পোরেশন এর চকচকে ফ্লোরে পার রাখার পূর্বে অন্য এক জীবন যাপন করতো জোহান।
মোটামুটি স্বচ্ছল পরিবার থেকেই এসেছে জোহান। ছোটবেলা থেকে খুবই ডানপিঠে আর চঞ্চল স্বভাবের হওয়ায় ঘর থেকে শুরু করে সবখানে সবাইকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াতো জোহান। এমন কোন দিন নেই যেদিন জোহানের নামে কারো না কারো কাছ থেকে নালিশ আসতো না। জোহানের বাবা মা অতিষ্ট হয়ে পড়েছিলো জোহানের এই চরম দুষ্টুমির জন্য। সবকিছু সম্পর্কেই জোহানের মাত্রাতিরিক্ত কৌতুহল। যেন সবকিছুই জানতে হবে তার। কিন্তু ওই জানা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ, খুব দ্রুত ই ইন্টারেষ্ট হারিয়ে ফেলে সে। জোহানের এই চঞ্চল স্বভাবকে লাগাম দেয়ার জন্যই তার বাবা মা তাকে দাবা ক্লাব এবং ফিশিং ক্লাবে ভর্তি করে দেয়। মাত্রাতিরিক্ত কৌতুহল থাকায় জোহান খুব দ্রুতই দাবা খেলা আর বরশি দিয়ে মাছ ধরার কলাকৌশল শিখে যায় কিন্তু এত ধৈর্য কই তার? জোহান খেলতে পারলেও জেতার প্রতি তার আগ্রহ নেই বললেই চলে। বরশি দিয়ে মাছ ধরাটাও তার কাছে অনেক বোরিং লাগতে শুরু করে। কখন মাছ এসে বরশিতে বিধবে তার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকা কেমন যেন অস্বস্তিকর লাগতে শুরু করে জোহানের। জোহানের এত চঞ্চলতার মাঝেও তার ভেতর অনেক সম্ভাবনা দেখতে পান ক্লাবের একজন সিনিয়র কনসালটেন্ট ম্যাক্স। জোহানের এতো চঞ্চলতার মাঝেও একটা কৌতুহলী আর সম্ভাবনাময় ছেলেকে দেখতে পান তিনি। মাঝবয়সী ম্যাক্স কিশোর জোহানের দ্রুত আগ্রহ হারিয়ে ফেলার কারন খুঁজে পান, আগ্রহ জন্মানোর মত কোনকিছু জোহানের মনে আটকায় নি কখনো।
ডিক্রিপশন প্রসেস তখন মাত্র ৫% সম্পন্ন হয়েছে। বলা যায় ঘন্টায় ২% করে ডিক্রিপশন সম্পন্ন হচ্ছে। পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী এনক্রিপশন ও ডিক্রিপ্ট করতে EonTec এর সময় লেগেছে মাত্র ১৬৮ সেকেন্ড যা ২য় সবচেয়ে চৌকশ ডিক্রিপশন সার্ভারের সময় লেগেছে ১১৪ মিনিট অর্থাৎ প্রায় ১ঘন্টা ৫৪মিনিট। সেই হিসেবে জোহানের মনে প্রশ্ন আসে কি থাকতে পারে এত ভারী ডিক্রিপশন দেয়া ফাইলে। জোহান কোম্পানীতে জুনিয়র হলেও খুব সুক্ষ বিশ্লেষন করতে সক্ষম সে। সে তার সিনিয়র কলিগদের নানাভাবে বোঝাতে চেষ্টা করে যে এত ভারী এনক্রিপশন দেয়া ফাইলে অবশ্যই ভয়ংকর কিছু অপেক্ষা করছে, হতে পারে তা কোন সাইবার এ্যাটাক, অথবা কোন অটোমেটেড নিউক্লিয়ার লঞ্চ কমান্ড, হতে পারে আমাদের ডিক্রিপশন স্পিড মেজারমেন্ট করার জন্য অন্য কোন প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানির ফাঁদ অথবা হতে পারে কোন এলিয়েন এর সাইবার এ্যাটাক। ইয়ার্কী মনে হলেও এই এনক্রিপটেড ফাইলটি পাওয়া গেছে একটা সার্ভেইল্যান্স স্যাটেলাইট Eon7x এ যা মহাকাশেই ঘুরে বেড়ায়। কোন ধরনের একসেস ছাড়া এতবড় ফাইল এত সুরক্ষিত একটি স্যাটেলাইটে ঢুকিয়ে দেয়াটা মামা বাড়ির আবদার না। এছাড়া ডিক্রিপশন প্রোসেস মাঝেমধ্যে স্লো হয়ে ব্যাকওয়ার্ডে চলে যাচ্ছে। জোহান ধারনা করতে থাকে যেন কেউ একজন ডিক্রিপশন প্রসেসের সাথে যুদ্ধ করছে আর এনক্রিপশন এলগরিদম চেন্জ করে দিচ্ছে। অনেকটা ছবির পাজলের মত, উল্টাপাল্টাভাবে সাজানো ছবির টুকরাগুলো যখন একে একে মিলে মূল ছবিটা দৃশ্যমান হওয়া শুরু করছে ঠিক সেই মুহূর্তে ছবির টুকরাগুলো আবার এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে এমনকি ছবিটাও বদলে যাচ্ছে, যার জন্য নতুন ভাবে শুরু করতে হচ্ছে ছবি সাজানোর প্রক্রিয়া। টিম লিডার এই এনক্রিপটেড ফাইল নিয়ে EonTec এর উপরমহলে কথা বললে গভার্নিং বডির সদস্যগন এই ফাইলটিকে ডিক্রিপ্ট করে অনেক চড়া মূল্যে যোগ্য ক্রেতার কাছে বিক্রি করার প্লান করে। তাদের মাথাব্যথা ডিক্রিপ্ট করা ফাইলটা কতটা মূল্যবান তাই নিয়ে, ফাইলটি কতটা ভয়াবহ হতে পারে তাই নিয়ে কোন চিন্তাই নেই তাদের।
দাবার কোর্টে সাজানো কাচের তৈরী সৈন্যসামন্ত, সিনিয়র কনসাল্টটেন্ট ম্যাক্স আজ কিশোর জোহানকে দাবা খেলার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে তার পার্সোনাল চেম্বারে। শান্তভাবে চেম্বারে থাকা প্রধান টেবিল আর চেয়ারের পেছনে থাকা জানালার সামনে দাড়িয়ে আনমনে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছিলো ম্যাক্স, হাতে জ্বলন্ত চুরুট। আবছা মেঘলা বিকালের আলোয় অদ্ভুত সুন্দর লাগছিলো পরিবেশ। খুবই শান্তভাবে চুরুটে এক একটি টান বসাচ্ছে আংকেল ম্যাক্স। আংকেল ম্যাক্স শান্তশিষ্ট স্বভাবের হলেও তার মাথায় সবসময় কোন না কোনকিছু চলতে থাকে। কিশোর জোহানের আজ ফুটবল খেলা রয়েছে। তাই সে তারাহুড়ো করে আংকেল ম্যাক্সের চেম্বারে আসে। কোন কথা না বলে চেম্বারের দরজায় নক করে কিশোর জোহান। ম্যাক্স জোহানের জন্যই অপেক্ষা করছিলেন।
ম্যাক্স:- দরজা খোলা আছে, ভেতরে আসো জোহান।
চুরুটের টান শেষ করে ধোয়া ছাড়তে ছাড়তে বলে আংকেল ম্যাক্স। দরজার ওপাশে থাকা জোহান কিছুটা অবাক হয়। আংকেল ম্যাক্স কিভাবে বুঝলেন যে দরজায় টোকা জোহান ই দিয়েছে। তাছাড়া আজ পর্যন্ত আংকেল ম্যাক্স কখনো জোহানের বয়সী কাউকেই তার চেম্বারে ডাকেন নি। তাই কিশোর জোহানের কৌতুহল বেড়ে যায়। দরজা আংশিক খুলে চেম্বারে মাথা ঢুকিয়ে দেয় জোহান। চুরুটের শক্ত একটা গন্ধ নাকে আসে জোহানের। আবছা আলোছায়ায় ভরা বেশ বড়সড় রুম। আসবাবপত্র বলতে দরজা বরাবর আংকেল ম্যাক্স এর বসার চেয়ার এবং টেবিল, টেবিলের বামদিকের দেয়ালে বুকসেল্ফ আর তার একটু সামনেই দাবার বোর্ডের আকারেই একটা টেবিল আর দুই পাশে দুইটা চেয়ার পাতা। দেয়ালে বেশ বড় একটা দাবার বোর্ড সাজানো ওয়ালমেট ঝুলছে। টেবিলের ডানপাশটা পুরোপুরি অন্ধকারে ডুবে আছে। জানালা দিয়ে পড়ন্ত বিকালের প্রাকৃতিক আলোতে আলোকিত হয়ে আছে জানালার বা দিকটা। একটা গা ছিমছিম করা পরিবেশ। জানালার আধো আলো দাবার বোর্ডের টেবিলে পড়ছে। কাঁচের তৈরী দাবার গুটিগুলো জ্বলজ্বল করছে ওই আলোতে। ম্যাক্স তখনও জানালার দিকেই তাকিয়ে আছে।
ম্যাক্স:- দরজায় দাড়িয়ে না থেকে ভেতরে এসো জোহান।
কিশোর জোহান চমকে ওঠে, চেম্বারের চারিদিক চোখ বোলানো বন্ধ করে আংকেল ম্যাক্স এর দিকে তাকালো। দরজা আর একটু খুলে রুমে ঢুকলো জোহান। ঘরটা অনেক পরিস্কার, মেঝেটা মার্বেল পাথর দিয়ে তৈরী। জোহান নিজের চেহারা দেখতে পাচ্ছিলো মেঝেতে। নিজের জুতাটা খুলে রুমের ভেতরে রেখে দিতে চাইলো জোহান। কিন্তু কোথাও জুতা রাখার জায়গা না পেয়ে
জোহান:- জুতা কোথায় রাখবো আংকেল ম্যাক্স!
ম্যাক্স:- তোমার যেখানে খুশি।
জানালার দিকে মুখ করেই উত্তর দিলেন ম্যাক্স। আংকেল ম্যাক্সের এমন উত্তর পেয়ে কোনমতে জুতাগুলো একপাশে রেখে দিলো জোহান। কাধের ব্যাগটা কোনমতে খুলে দরজার এক কোনায় চেলে মারতে মারতে,
জোহান:- তাড়াতাড়ি আংকেল। আমার আজ ফুটবল খেলা আছে। আর সন্ধ্যার আগে বাসায় যেতে হবে নয়তো মা বকবে।
আংকেল ম্যাক্স এর নজর তখনো জানালার দিকেই। চুরুটে আর একটা টান দিয়ে জানালার দিক দিয়ে ফিরে তাকালেন জোহানের দিকে, জ্বলন্ত চুরুটটির মাথা এ্যাশট্রে তে ঠেশে ধরে ধোয়া ছাড়তে ছাড়তে বেশ ভারী গলায় বলে ওঠেন,
ম্যাক্স:- তোমার বাসায় আমি কথা বলবো কারন আজ আমরা যে ম্যাচটি খেলবো আমি শিওর তুমি এই ম্যাচটি কোনদিন ভুলতে পারবে না।
৩০% ডিক্রিপশন প্রোসেস সম্পন্ন হয়েছে। ডিক্রিপশনের মন্থর গতির কারনে অধিকাংশ এনালিস্ট ডিক্রিপশন প্রসেস থেকে ইন্টারেষ্ট হারিয়ে ফেলেছে। ঘড়ির কাটায় তখন রাত ১২ টা বাজে। জোহানের শিফট শেষ হয়ে গিয়েছে আরো ৪ ঘন্টা আগে কিন্তু জোহান তখনো মনিটরের দিকে তাকিয়ে আছে আর ডিক্রিপশন ডায়গনসিস রিপোর্ট পুংখানুপুংখভাবে নিরীক্ষা করছে। জোহান খুব ভালোভাবেই আন্দাজ করতে পারছে এটা কোন সাধারণ এনক্রিপটেড ফাইল না। এই এনক্রিপশন দেয়ার মত ক্ষমতা আজকের যুগের কোন সুপার কম্পিউটারের ও নাই। কোয়ান্টাম কম্পিউটার এখনো ফুললি ফাংশনড না যে এমন ক্রিটিকাল এলগরিদম দাঁড় করাতে পারবে। মানুষের পক্ষে তো সবই সম্ভব তবে এত দ্রুত গতিতে কখনই সম্ভব না। নিশ্চই কোন পাওয়ারফুল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এই এনক্রিপশন মডেল তৈরী করেছে। নয়তো একা তো দূর, একদল মানুষের পক্ষে ৩০ এক্সাফ্লপস (exaFLOPS) ক্ষমতা সম্পন্ন একটি সুপার কম্পিউটারের ঘাম ছুটিয়ে দেয়া এক প্রকার অসম্ভব। EonTec Corporation এ থাকা সুপারকম্পিউটারের ক্ষমতা সম্পর্কে একটু ধারনা দেই, ৩০ এক্সাফ্লপস (exaFLOPS) ক্ষমতাসম্পন্ন এই সুপার কম্পিউটার এর ক্ষমতা যদি মানুষের কার্যক্ষমতার সাথে তুলনা করি তাহলে বলা যায় একজন মানুষ একটি ক্যালকুলেশন যদি সেকেন্ডে ১ বার গতিতে বিরতিহীনভাবে টানা ৩,১৬৮,৮৭,৬৫,০০০ বছর ধরে করতে থাকে তবুও এই ৩০ এক্সাফ্লপস ক্ষমতাসম্পন্ন সুপার কম্পিউটার এর ১ এক্সাফ্লপস এর ১ সেকেন্ডে সম্পন্ন করা কাজের সমকক্ষ হতে পারবে না। সেখানে ডিক্রিপশন প্রসেসিং স্পিড ঘন্টায় ২-২.৭৫% মাত্র। অনেকটা দেয়াল ভাংগা গড়ার মত, একদিক থেকে জোহান আর সুপার কম্পিউটার দেয়াল ভাংছে পরক্ষনেই আবার কে যেন জায়গার দেয়াল জায়গায় তুলে দিচ্ছে। কোন মাত্রার ডিক্রিপশন এলগরিদম হতে পারে এটি সেটা আন্দাজ করারও কথা ভাবতে পারে না জোহান, শুধুশুধু মাথাব্যথা বাড়বে আরকি। হঠাৎ করে জোহানের কপালে সূক্ষ্ম একটি ভাঁজ পড়লো। এমন নয় তো যে কেউ একজন এনক্রিপশন এলগরিদম পরিবর্তন করে দিচ্ছে প্রতি মুহূর্তে!!! কারন যে কোন এনক্রিপশন প্রসেস কমপ্লিট হবার পর তা ডিক্রিপ্ট করার সময় রিমোটলি সেই এনক্রিপশন বদলানো যায় না, তাতে পুরো এনক্রিপটেড ডাটা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। জোহানের মনে হতে থাকে সে কোন ডিক্রিপশন প্রসেসের সামনে নয়, দাবার বোর্ডের সামনে বসে আছে। জোহানের ডিক্রিপশন এলগরিদম এর বিপরীতে আছে কোন অজানা মস্তিস্ক আর তার কলকাঠিতেই নড়ছে এই এনক্রিপশন এলগরিদমের পরিবর্তন।
কিশোর জোহান তখনও বুঝতে পারছিলো না আংকেল ম্যাক্স তাকে কি বোঝাতে চাচ্ছিলো। ঠায় দাড়িয়ে ছিলো দাবার বোর্ডের সামনে। আংকেল ম্যাক্স বোর্ডের একপাশে বসে পড়লেন আর হাত দিয়ে ইশারা করেলেন জোহানকে।
ম্যাক্স:- বসো জোহান।
জোহান কোন কথা না বলে আংকেল ম্যাক্স এর সামনে বসে পড়লো। জোহানের দাবা খেলার প্রতি কোন আগ্রহ নেই, যত আগ্রহ তার আংকেল ম্যাক্সকে নিয়ে। জোহানের বন্ধুরা সবসময় বলাবলি করে আংকেল ম্যাক্স নাকি জাদু জানেন। জোহান ভেবেই এসেছে আজ তাড়াতাড়ি দাবা খেলা শেষ করে আংকেল ম্যাক্সকে জাদু দেখানোর জন্য আবদার করবে। আনমনে এতকিছু ভাবতে ভাবতে হঠাৎ জোহানের চোখ আংকেল ম্যাক্স এর উপর পড়ে আর তখনই জোহানের হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসে। আংকেল ম্যাক্সের চেহারায় মধ্যবয়সী ভাবটা নেই কিন্তু তার হিমশীতল চাহনীটা সবকিছু থেকে আলাদা। আংকেল ম্যাক্স তার চোখ দিয়ে যে কাউকে খুন করে ফেলতে পারেন। জোহান কিছুটা হকচকিয়ে গেলেও চোখ ঘুরিয়ে বোর্ডের উপর নিয়ে আসে। জোহানের সামনে থাকা দাবার বোর্ডে আলো জ্বলে উঠলো। জোহান একটু চমকে উঠলো। এমন আলো জ্বলা দাবার বোর্ড সে আগে কখনো দেখে নি। আর একটু কাছ থেকে দেখে জোহান বুঝতে পারলো এটি একটিচেস বোর্ড স্ক্রীন যার উপর দাবার গুটি সাজিয়ে রাখা আর স্ক্রীনের আলোর কারনেই কাঁচের গুটিগুলোকে সাদা আর কালোতে বিভক্ত করা যাচ্ছে। আংকেল ম্যাক্স জোহানের দিকে তাকিয়েই আছেন। ব্যপারটা জোহানের কাছে অস্বস্তিকর লাগলেও পরে বোর্ডের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারে যে আংকেল ম্যাক্স জোহানের প্রথম চাল এর জন্য অপেক্ষা করছেন। তাই জোহান হুট করে একটা চাল দেয়ার জন্য গুটিতে হাত দিতে যাবে আর তখনই আংকেল ম্যাক্স বলে ওঠেন
ম্যাক্স:- তোমাার কাছে হয়তো প্রথম চালটি কোন গুরুত্ব বহন করে না তবে খেলার হার জিতের হিসাব শুরু হয়ে যায় প্রথম চালেই। তাই চিন্তাভাবনা করে চাল দিয়ো। আর একবার গুটি স্পর্শ করলে চাল দিতেই হবে। তাই ভেবেচিন্তে……
জোহান:- এতটুকু জায়গার ভেতরে এতটুকু খেলা তার আবার হাজারটা নিয়ম, কিভাবে পারে দুইটা মানুষ এত লম্বা সময় ধরে খেলতে।
বোর্ডের উপরে কিছুক্ষণ হাত ঘুরিয়ে চাল দেয় জোহান। জোহান চাচ্ছিলো যেন আংকেল ম্যাাক্সের সাথে কিছুটা ফ্রী হওয়া যায় নয়তো জাদু দেখতে চাওয়ার আবদার করা যাবে না।
ম্যাক্স:- তুমি হারবে কিভাবে জানো?
জোহান চমকে উঠে মাথা তোলে। মাত্র সে প্রথম চাল দিলো, এরই মধ্যে আংকেল ম্যাক্স বুঝে গেলেন জোহান কিভাবে হারবে!
জোহান :- আপনি জানেন আমি কিভাবে হারবো! আমি তো জিততেও পারি?
আংকেল ম্যাক্স তার বোর্ডের বামপাশে রাখা কলমটি তুলে পাশেই রাখা ছোট নোটপ্যাডে কিছু একটা লিখলেন। বাঁহাতী আংকেল ম্যাক্স নোটপ্যাডের পৃষ্ঠাটি ছিড়ে একটি মাত্র ভাঁজ করে জোহানের হাতে ধরিয়ে দেন। জোহান চিরকুটটি খুলতে যাবে তখনই.
:- খেলার শুরুতেই খেলার মজা নষ্ট করতে নেই।
শান্ত গলায় কথাটি বলে আংকেল ম্যাক্স তার চাল দিলেন। জোহান চিরকুটটি পাশে রেখে দিলো কারন এখন আংকেলকে চটানো যাবে না। জোহান কিছুক্ষণ ভেবে চাল দিতে যাবে তখন,
:- তোমার দ্বিতীয় চালটা কি হবে জানতে চাও?
কিশোর জোহান হকচকিয়ে যায়। মানে কি! জোহান কিছুই বুঝতে পারে না।
ম্যাক্স:- আচ্ছা সহজ করে দেই তাহলে। তোমার পেছনে একটা দাবার বোর্ড ঝোলানো আছে। আমি ওখানে তোমার ২য় মুভ গেস করতেছি। তুমি চাল দেয়ার পর ঘুরে দেখতে পারো আমার গেস সঠিক কি না।
এই বলে ম্যাক্স মাঝারি চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন। জোহানের পেছনের ওয়ালে টানানো ওয়ালমেটে জোহানের ২য় চাল কি হবে তাই সেট করে দিয়ে জোহানের সামনে জানালার সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন।
জোহানের তর সইছে না পেছন ঘুরে দেখার জন্য কিন্তু শয়তানি বুদ্ধিও মাথায় পাক খেতে থাকে। জোহানের প্লান ছিল সে একটা পেয়াদার চাল দিবে কিন্তু আংকেলের গেস ভূল প্রমান করতে সে ঘোড়ার চাল চেলে দিয়েই ঘাড় ঘুরিয়ে বোর্ডের দিকে তাকায়। বোর্ডে উপর চোখ পড়তেই জোহানের দুষ্টুমি হাসি উবে যায়। আংকেল ম্যাক্স সেটাই গেস করেছেন যেটি জোহান চাল দিয়েছে। এটা কিভাবে সম্ভব! আংকেল কিভাবে জানলেন জোহানের মনের কথা। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ব্যপার হলো জোহান তো তার ডিসিশন চাল দেয়ার আগ মুহূর্তে পরিবর্তন করেছিলো। কিশোর জোহানের মনের কৌতুহল আরো বেড়ে যায়। জোহান স্বচক্ষে কখনো জাদু দেখে নি, এটাই কিশোর জোহানের কাছে জাদু মনে হতে লাগলো।
ধীরগতিতে এগিয়ে চলেছে ডিক্রিপশন প্রসেস। সারারাত জোহান অফিসেই কাটিয়েছে। জোহান নিজের চেয়ারেই ঘুমিয়ে গিয়েছিলো, অন্যান্য টিমমেট এসে জোহানকে ডেকে ঘুম থেকে তুলে দিলো। জোহানের চোখ স্ক্রীনের পার্সেন্টেজ দেখায় ব্যস্ত, ততক্ষণে ৫০% কমপ্লিট। সকাল পেরিয়ে দুপুর ছুঁই ছুঁই। জোহান এবার ফাইলের ডিক্রিপট হওয়া অংশটি দেখার জন্য ডাটা সার্ভার একসেস করতে চাইলো। কিন্তু জোহানের একসেস ডিনাই করে দিচ্ছে সার্ভার, জোহান তার ইউজার আইডি, পাসওয়ার্ড আর বায়োমেট্রিক সিকিউরিটি দিয়ে একসেস নিতে চাইলেও একসেস ডিনাই করছে। স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে কোন সমস্যা হচ্ছে না কারো কিন্তু যখনই সার্ভারে এডমিনিস্ট্রেটর একসেস করতে চাচ্ছে তখনই সার্ভার একসেস ডিনাই করছে। জোহানের চোখ চলে যায় ডিক্রিপশন প্রসেস চলতে থাকা স্ক্রীনে। হঠাৎ করেই ডিক্রিপশন প্রসেস স্পিড বেড়ে গেলো। প্রতি সেকেন্ডে ২-৩% করে ডিক্রিপশন কমপ্লিট হতে থাকে। জোহান বুঝতে পারে এটা একটা সাইবার এট্যাক হতে চলেছে EonTec এর উপর।
কম্পিউটার স্ক্রীনে ভেসে ওঠে.
Decryption process 100% completed..
সাথে সাথে সমস্ত EonTec Corporation এর গ্রীড রিস্টার্ট নিতে শুরু করে।
এটা কোনভাবেই ভালো কিছু হওয়া সম্ভব না, জোহান বলে ওঠে।
চলবে......!
বি. দ্র. গল্প সম্পর্কে সকল ধরনের মন্তব্য (ইতিবাচক এবং নেতিবাচক) গ্রহনযোগ্য। তাই বরাবরের মত এবারও গঠনমূলক মন্তব্য আশা করবো।
আসুন আমরা সবাই আমাদের মনের পশুকে কোরবানী দেই।
সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা ।
ঈদ মোবারক